kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কংগ্রেসে তিন সংবিধান বিশেষজ্ঞের অভিমত

অভিশংসনযোগ্য অপরাধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ছেলেকে নিয়ে মন্তব্য করায় খেপেছেন মেলানিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিশংসনযোগ্য অপরাধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে ইতিমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ শেষ করেছেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এবার তাঁরা ট্রাম্পকে অভিশংসনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে শুনানির আয়োজন করেছেন। গত বুধবারের ওই শুনানিতে অংশ নেওয়া চারজন আইন বিশেষজ্ঞের মধ্যে তিনজনই মনে করেন, অভিশংসনযোগ্য অপরাধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুধু একজন তা মনে করেন না। 

হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ওই শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের আমন্ত্রিত তিনজন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় একজনকে। ডেমোক্র্যাটদের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞদল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছে, আর বিরোধী পক্ষের বিশেষজ্ঞ দিয়েছেন উল্টো মত। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি গত বুধবারের এ শুনানিকে ‘নাটুকে’ আখ্যা দিয়েছে।

শুনানিকালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিষয়ক অধ্যাপক নোয়া ফেল্ডম্যান বলেন, ‘হাউসে দেওয়া বক্তব্য ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি কার্যালয়ের অপব্যবহারের মাধ্যমে অভিশংসনযোগ্য মারাত্মক অপরাধ ও অপকর্ম করেছেন।’ তাঁর মতে, অতীতের যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ট্রাম্পের অপরাধ বেশি মারাত্মক। তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা নিয়ে কথা বলছি, সেটা যদি অভিশংসনযোগ্য না হয়, তবে কিছুই অভিশংসনযোগ্য নয়।’ ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমাদের স্বৈরাচারের অধীনে থাকতে হবে’, এমন মন্তব্যও করেন ফেল্ডম্যান।

ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার অধ্যাপক মাইকেল গারহার্ট বলেন, ‘ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশ্নে আমরা তিনজনই একমত।’ ফেল্ডম্যানের পাশাপাশি স্টানফোর্ড ল স্কুলের অধ্যাপক পামেলা কারলানের অভিমত একাট্টা করে এ মন্তব্য করেন গারহার্ট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন, এমনকি স্বার্থোদ্ধারের জন্য তিনি ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন—এমন অভিযোগে কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে গত মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এরপর কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নে গত বুধবার আইনজ্ঞদের শুনানির আয়োজন করেন ডেমোক্র্যাটরা। এ শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের বিপক্ষে কথা বলেছেন।

আট ঘণ্টাব্যাপী ওই শুনানিতে রিপাবলিকানদের আমন্ত্রিত একমাত্র বিশেষজ্ঞ জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ল স্কুলের অধ্যাপক জনাথন টারলের অভিমত, ট্রাম্পের দুর্নীতির অভিপ্রায় ছিল কি না, সে ব্যাপারে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। ‘ক্রোধের’ বশবর্তী হয়ে তদন্ত চালানোয় তাতে পক্ষপাতিত্বের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অভিশংসন হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, অনুমানের ভিত্তিতে নয়।’ তাঁর অভিযোগ, অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ভীষণ তাড়াহুড়া করছেন এবং সেটা করতে গিয়ে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নেননি।

ছেলেকে নিয়ে মন্তব্যে মেলানিয়ার ক্ষোভ : ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে শুনানিতে হাজির অধ্যাপক কারলান তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘সংবিধান মতে খেতাব দিয়ে আভিজাত্য অর্জন করা যায় না। সে অনুসারে প্রেসিডেন্ট তাঁর ছেলের নাম ব্যারন রাখতে পারেন, কিন্তু তাকে ব্যারন বানাতে পারবেন না।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছোট ছেলের নাম ব্যারন।

কারলানের মন্তব্যে ক্ষিপ্ত ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইট করেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর গোপনীয়তার অধিকার আছে এবং তাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। পামেলা কারলান, আপনার অত্যন্ত রাগান্বিত ও অবশ্যই পক্ষপাতদুষ্ট জননীতির ব্যাপারে এবং সে ক্ষেত্রে এক শিশুকে ব্যবহার করার ব্যাপারে আপনার লজ্জিত হওয়া উচিত।’

এরপর কারলানও অবশ্য ক্ষমা চাইতে দেরি করেননি। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ছেলে সম্পর্কে আমি আগে যেটা বলেছি, সেটার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এমনটা করা আমার ভুল হয়েছে।’ সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে ভুল করেছেন, সেটার জন্য তাঁর অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, অপ্রাপ্তবয়স্ক বিশেষত প্রেসিডেন্টের সন্তানদের রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে রাখার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই একমত পোষণ করে আসছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা