kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন রবিবার

সভাপতি ও সম্পাদক হতে চান দুই ডজন নেতা

তৃণমূলের দাবি নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক ভোটের মাধ্যমে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সভাপতি ও সম্পাদক হতে চান দুই ডজন নেতা

পাঁচ বছরের বেশি সময় পর হতে যাচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই সম্মেলন ঘিরে নানা সমীকরণ কষছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পদাগ্রহী নেতারা ছুটছেন দলের শীর্ষ নেতাদের দরবারে। বিশেষ করে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে যাঁদের ভূমিকা থাকবে, কেন্দ্রীয় সেসব নেতার দ্বারে ছুটছেন তাঁরা। এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ দুই পদ পেতে এবার আগ্রহীদের তালিকা বেশ লম্বা হয়ে গেছে। এই তালিকা দীর্ঘ হতে হতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই ডজনে গিয়ে ঠেকেছে। 

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ক্ষমতাসীন দলটির রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগের দিন পর্যন্ত এ তালিকা বাড়তে থাকবে। আবার তৃণমূলের নেতারা কাকে সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচন করবেন, নাকি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসে এবারও এ দুটি পদে দুজনকে মনোনীত চলে যাবেন—এ নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। তবে তৃণমূলের অনেক নেতার দাবি, এবার দুটি শীর্ষ পদে নেতৃত্ব নির্ধারণ হোক ভোটের মাধ্যমে। আবার কেউ কেউ বলছেন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কাউন্সিলও হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমান জেলা কমিটির নেতাদের পছন্দমতোই হয়েছে এসব কমিটি। ফলে জেলা কমিটির সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি-সম্পাদক করা হলে পুরনোরাই আবার আসার সুযোগ পাবেন বেশি। কাজেই আগামী দিনে দলের প্রয়োজনে যোগ্য নেতা কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্বাচন করুন—এমনটিও দাবি করেছেন নতুন করে নেতৃত্ব পেতে আগ্রহী নেতারা।

তিনবার আগে-পিছে করে শেষ পর্যন্ত আগামী রবিবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে প্রথমে ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ ছিল। পরে সেটিকে ৮ ডিসেম্বর এবং আরো পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঝের ৮ ডিসেম্বরই সম্মেলনের তারিখ পাকা করা হয়। রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ সম্মেলনে অংশ নেবেন ৩৫০ জন কাউন্সিলর। এর মধ্যে জেলা কমিটির নেতা রয়েছেন ৬৪ জন। আর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটি থেকে থাকবেন বাকি কাউন্সিলররা। 

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে চলে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। এর প্রায় এক বছর পরে নানা কাঠখড় পুড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। গত সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহীদের তালিকা ছিল সর্বসাকল্যে ডজনখানেক। কিন্তু এবার তালিকা বেশ লম্বা। এবার সভাপতি পদে রয়েছেন প্রায় ডজনখানেক নেতা। সম্পাদক পদে আছেন আরো এক ডজন।

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবার সভাপতি পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনাই বেশি। পাঁচ বছর ধরে নানা বিষয়ে বিতর্কের শীর্ষে থাকা রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও এমপি ফারুক চৌধুরীর এবার কপাল পুড়তে পারে। সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকারী এ নেতাকে এবার সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে অন্তত একটি পদে রাখা হতে পারে। এ কারণে তাঁর অনুসারীরা চাচ্ছে ভোটে হোক নেতৃত্ব নির্বাচন। কিন্তু আসাদবিরোধী নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন ভোটের মাধ্যমে নয়, বিতর্ক সরাতে এবার নতুন নেতৃত্ব বেছে নিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। 

দলীয় সূত্র মতে, এবার রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি ও তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক ভিপি নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, বর্তমান জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক এমপি রায়হানুল ইসলাম রায়হান, সাবেক এমপি জিন্নাতুন নেছা তালুকদার, সাবেক এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা ও বর্তমান সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল খান। এ ছাড়া আরো কয়েকজন নতুন মুখ শেষ পর্যন্ত আসতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। 

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এবার আমাদের চাওয়া অন্তত দুটি পদে কাউন্সিলরদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। তাহলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এবার সভাপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ভোট না হলে হয়তো তিনি সভাপতি হতে পারবেন না।’ 

সাধারণ সম্পাদক পদে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা, এমপি আদিবা আঞ্জুম মিতা, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও আহসানুল হক মাসুদ, সহসভাপতি আব্দুল মজিদ, বাগমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও চারঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা