kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আদালতের কণ্ঠ

সিসি ক্যামেরা বসল অনিয়ম বন্ধ হলো না

প্রধান বিচারপতির হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিসি ক্যামেরা বসল অনিয়ম বন্ধ হলো না

সুপ্রিম কোর্টে (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) নতুন মামলা দাখিলের পর কার্যতালিকাভুক্তিতে অনিয়ম বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম চলতে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ ঠেকানোর জন্য সিসি ক্যামেরা বসালাম; কিন্তু এখন দেখি বাইরে এসে এফিডেভিট করে।’ প্রধান বিচারপতি উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় স্থগিতাদেশ ও রুল নেওয়ায় নিম্ন আদালতে মামলার বিচারকাজ ব্যাহত হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল সোমবার আপিল বিভাগে পৃথক দুটি মামলায় শুনানিকালে এসব মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একটি মামলায় আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপর মামলায় আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি মো. অজিউল্লাহ।

এফিডেভিট শাখা নিয়ে প্রধান বিচারপতি

গতকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চের কার্যতালিকার ৮৭ নম্বরে বাংলাদেশ সরকার বনাম তপন কুমার সাহার মামলা (সিভিল পিটিশন নম্বর ৩৯৯৪/২০১৮) শুনানির জন্য ছিল। সকালেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি বলেন, এটি আজকের (সোমবার) কার্যতালিকার ৩ নম্বরে থাকার কথা; কিন্তু ৮৭ নম্বরে গেল কিভাবে?

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা বসালাম (এফিডেভিট শাখা কক্ষে), এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে।’ তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছে।

এরপর প্রধান বিচারপতি তাত্ক্ষণিক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে তলব করেন। আদেশ পেয়ে তত্ক্ষণাৎ আদালতে হাজির হন মেহেদী হাসান। প্রধান বিচারপতি তাঁর কাছে এই অনিয়মের বিষয় জানতে চান। জবাবে মেহেদী হাসান কোন প্রক্রিয়ায় মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয় তার ব্যাখ্যা দেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি তাঁকে মামলা কার্যতালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

নিম্ন আদালতের মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতি

মো. আলমগীর হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলা (ক্রিমিনাল পিটিশন ৪০৭/২০১৮, আপিল ফর রেস্টোরেশন) গতকাল আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ৮ নম্বরে ছিল। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. অজিউল্লাহ। তিনি মামলাটি উপস্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ ও রুল নিয়ে আপনারা বসে থাকেন। অনেক সময় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়; কিন্তু রুল বিচারাধীন থাকে। তবে রুলের শুনানি করেন না। ফলে বিচারকদের কিছুই করার থাকে না। এতে নিম্ন আদালতে মামলার বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এটা লজ্জাজনক। এই প্র্যাকটিস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা