kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সবিশেষ

উল্কাপিণ্ডে মিলল ‘সুগার’!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উল্কাপিণ্ডে মিলল ‘সুগার’!

মহাকাশে এই প্রথম চিনির (সুগার) হদিস মিলল। যে চিনি আমরা রোজ খাই, সেই চিনি অবশ্য নয়। সুগার গোত্রের তিনটি যৌগ ‘রাইবোজ’, ‘জাইলোজ’ ও ‘আরবিনোজ’-এর হদিশ মিলল উল্কাপিণ্ড ‘এনডাব্লিউএ-৮০১’ ও ‘মুর্চিসন’-এ।

উল্কা তৈরি হয়ে থাকে কোনো গ্রহাণু বা অ্যাস্টারয়েডের অংশ থেকে। উল্কাপিণ্ড দুটিতে এ ‘সুগার’ গোত্রের যৌগের হদিস মেলায় এ বিশ্বাসই জোরালো হলো সুদূর অতীতে কোনো গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষেই পৃথিবীতে সুগার গোত্রের আমদানি হয়েছিল। এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ।

গবেষণাপত্রে নাসার এক দল বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এটি একটি অভিনব আবিষ্কার। এর আগে প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরির উপাদান অ্যামাইনো এসিডের হদিস মিলেছিল মহাকাশে। হদিস মিলেছিল প্রাণ সৃষ্টির আরো দুটি উপাদান ‘ডিএনএ’ এবং ‘আরএনএ’ তৈরির উপাদানও (নিউক্লিওবেসেস)।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রাণ সৃষ্টির জন্য আগে তৈরি হয়েছিল ডিএনএ। সেই ডিএনএ থেকেই তৈরি হয়েছিল বার্তাবাহক আরএনএ। যে আরএনএগুলো আদিম প্রাণের কোষগুলোর মধ্যে থাকা রাইবোজমের দরজায় গিয়ে কড়া নেড়েছিল। আর ওই আরএনএগুলোর আনা বার্তা ঠিকঠাক পড়তে পেরেই রাইবোজম সেই নির্দেশমতো তৈরি করেছিল বিভিন্ন রকমের অ্যামাইনো এসিড, যা দিয়ে প্রোটিন তৈরি হয়েছিল। এই অ্যামাইনো এসিডই হচ্ছে প্রাণ সৃষ্টির বীজ।

কিন্তু আরো একটি ধারণা যে ডিএনএ সৃষ্টির আগেই তৈরি হয়েছিল আরএনএ। কিন্তু সেই ধারণার স্বপক্ষে এত দিন কোনো প্রমাণ মিলছিল না। এবার দুটি উল্কাপিণ্ডে যে সুগার গোত্রের হদিস মিলেছে, সেগুলোতে কিন্তু কোনো ডিএনএর উপাদান পাওয়া যায়নি। বরং এগুলো দিয়ে যে আরএনএ তৈরি হতে পারে, তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে আমাদের এই বিশ্বাস আরো জোরালো হলো যে ব্রহ্মাণ্ডের অন্যত্রও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব। কারণ এই সুগার গোত্রের যৌগ ব্রহ্মাণ্ডের অন্যত্রও রয়েছে। এই সৌরমণ্ডলে যেহেতু এ যৌগের হদিস মেলায় গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষেই যে এ ধরনের যৌগ পৃথিবীতে এসেছিল, সেই ধারণা আরো পোক্ত হলো। অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রাণের বীজ যে বাইরে থেকেই এসেছিল ৪৫০-৫০০ কোটি বছর আগে, সেই তত্ত্বও জোরদার হলো। তাহলে কি এবার আমরা আশায় বুক বাঁধব যে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের অস্তিত্ব মিলবে? সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা