kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

উন্নয়নে বড় বাধা বেহাল সড়ক

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উন্নয়নে বড় বাধা বেহাল সড়ক

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল এলাকার ছোট-বড় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়ন। এ ছাড়া দাবি ছিল শিক্ষা এবং বিপুল বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ময়মনসিংহকেন্দ্রিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের। সংসদ সদস্য প্রার্থীরাও দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস পরও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। জেলার আঞ্চলিক কিংবা স্থানীয় সড়কগুলোর উন্নয়ন খুব একটা হয়নি।

শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে বিভাগীয় এই জেলা শহরে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা, আনন্দ মোহন কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন জেলাবাসীর বরাবরের দাবি। এ ছাড়া জেলার ভালুকা ও ত্রিশাল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই কম। এলাকাবাসীর সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা নিজ নিজ এলাকার রাস্তার বেহাল চিত্রসহ অন্যান্য প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ-১ আসন। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সীমান্তবর্তী আসনটির বাসিন্দারা। ময়মনসিংহ থেকে তারাকান্দা উপজেলা হয়ে ধোবাউড়া পর্যন্ত সড়কটি ছয়-সাত বছর ধরে চরম বেহাল হয়ে আছে। ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট সড়কটির অবস্থাও খুব খারাপ। ধোবাউড়া-কলসিন্দুর, ধোবাউড়া-চারুয়াপাড়া সড়কও যান চলাচলের উপযোগী নয়। ময়মনসিংহ-ফুলপুর-হালুয়াঘাট সড়কে হালুয়াঘাট অংশের অবস্থা বেশি খারাপ। সংস্কারকাজ চললেও গতি খুবই ধীর।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং এ ব্যাপারে বলেন, ‘প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর সংস্কারকাজও কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে।’

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে তারাকান্দা-গোয়াতলা সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ফুলপুর থেকে বওলা ও বালিয়া রাস্তাটির সংস্কার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। ফুলপুর-বাহাদুরপুর সড়কও যাচ্ছেতাই। ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নে মাটিচাপুর-শ্যামপুর, নারিকেলি-বাহাদুরপুর, মনকান্দা-নারিকেলি, বাহাদুরপুর-মাটিচাপুর, শ্যামপুর-ভাইটকান্দি, শুনই-ভাইটকান্দি, রামভদ্রপুর ইউনিয়নে চরবারতী-চায়না মোড়, বালিয়া ইউনিয়নে মইশাউন্দা-রূপসী, সিংহেশ্বর ইউনিয়নে কুটুরাকান্দা-সরচাপুর ও রূপসী ইউনিয়নে নগরবেড়া-দেপুলিয়া সড়ক পাকাকরণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, ‘সড়কগুলো উন্নয়নের বিষয়টি আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিষয়গুলো বিভিন্ন দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন। বর্তমান অর্থবছরেই অনেক সড়কের কাজ শুরু হবে।’

ময়মনসিংহ-৩ আসনটি গৌরীপুর উপজেলা নিয়ে। এখানে কলতাপাড়া-গৌরীপুর, গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ ও গৌরীপুর-রামগোপালপুর সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হলেও গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতই গৌরীপুর-শাহগঞ্জ সড়কের কাজ শুরু হবে।’

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে গ্রামীণ সড়কগুলোর চরম দুরবস্থা। নির্বাচনের আগে শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়ন নিয়ে সদর আসনের প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের দাবি ছিল। প্রত্যাশা ছিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এসব বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন। বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। রওশন এরশাদকে ফোন করেও পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ময়মনসিংহ শহরে একটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ চলছে, যা কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজটি সরকারীকরণের প্রতিশ্রুতি ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনের। এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানা যায়নি।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে রাস্তাঘাটের অবস্থা পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ। ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী, ত্রিশাল-হরিরামপুর, ত্রিশাল-ধানীখলা, বগারবাজার-সানকীভাঙ্গা, সাইনবোর্ড-কাশীগঞ্জ-রায়ের গ্রাম ও কালীর বাজার-বালিপাড়া সড়কের অবস্থা নাজুক। স্থানীয়রা এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে মতামত জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমীন মাদানীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ঈশ্বরগঞ্জ-কুমাড়ুলী বাজার, মাইজবাগ-দাতারাটিয়া ও উচাখিলা-ভাটিচন্দ্রপাড়া সড়ক সংস্কারের দাবি আছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বর্তমানে ১৭৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। এর বাইরে অনেক সড়ক উন্নয়ন তালিকায় রয়েছে।

ময়মনসিংহ-৯ আসনটি নান্দাইল উপজেলা নিয়ে। এখানে বিভিন্ন সড়কে উন্নয়নকাজ চললেও অবহেলিত রয়ে গেছে রাজগাতী ইউনিয়ন। রাজগাতী বাজার থেকে বসুন্ধরা বাজার পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণে এলাকাবাসীর দাবি পূরণ হচ্ছে না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন তুহিন বলেন, ‘এখানে ছয় মাস পর কোনো সড়ক উন্নয়নের বাইরে থাকবে না।’ কর্মসংস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এলাকায় একটি গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। চৌরাস্তা মোড়ে আরেকটি গার্মেন্ট হচ্ছে। সেখানে পাঁচ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। একটি ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটও হবে।’

ময়মনসিংহ-গফরগাঁও ও গফরগাঁও-টোক সড়ক হলো ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। সড়ক দুটির কাজও শুরু হয়েছে। তবে কাজগুলো যেন মানসম্মত হয় সেই দাবি এলাকাবাসীর।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে সবচেয়ে দুরবস্থায় আছে সিডস্টোর-সখীপুর সড়ক। বর্তমানে এখানে কাজ চলছে। ভালুকা উপজেলা সদরে কোনো মহিলা কলেজ নেই। বর্তমান সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহমদ ধনুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি ছিল। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য বলেন, ‘মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। দ্রুতই কার্যক্রম শুরু হবে।’ ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম বলেন, ‘এমপিদের কাছে ভোটারদের প্রত্যাশার অগ্রভাগে থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। কিন্তু ময়মনসিংহে সড়কের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিরা জোরালো ভূমিকা রাখবেন—এটা আমরা প্রত্যাশা করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা