kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণে ধীরগতি

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণে ধীরগতি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম নির্মাণে ধীরগতি। চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো কাজই শুরু হয়নি। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নানা স্থাপনা দৃশ্যমান হচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে। সরকারিভাবে গড়ে তোলা দেশের সবচেয়ে বড় এ আবাসন প্রকল্পে বাড়ি তৈরির নকশাও অনুমোদন দিচ্ছে রাজউক। প্রশাসনিক, শিক্ষা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে পূর্বাচলে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করার কাজে অগ্রগতি নেই। টিনের বেড়া দিয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সীমানা চিহ্নিত করা হলেও নির্মাণকাজ শুরুই করতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা দেশের সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্পটির আয়তন ছয় হাজার ১৫০ একর। প্রকল্পে মোট জমির শতকরা ৩৮.৭৪ ভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আবাসনের জন্য। রাস্তার জন্য শতকরা ২৫.৯০ ভাগ, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শতকরা ৬.৪১ ভাগ জায়গা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শতকরা ৩.২০ ভাগ জমিতে গড়ে তোলা হবে শিল্প পার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সবুজায়ন ও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হয়েছে শতকরা ৬.৬০ ভাগ। খেলাধুলার জন্য রাখা হয়েছে শতকরা ২.৫০ ভাগ জমি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে শতকরা ৬ ভাগ জমিতে। প্রশাসনিক অবকাঠামোর জন্য বরাদ্দ জমিতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, র‌্যাব ফাঁড়ি নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া আইসিটি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের নির্মাণকাজও চলছে পুরোদমে। এর বাইরে পূর্বাচলের ১, ৪, ৫, ১৩ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি তৈরির কাজও শুরু করেছেন প্লট মালিকরা। কিন্তু প্রকল্পটির মোট আয়তনের শতকরা ২.৫০ ভাগ বরাদ্দ থাকা ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকেও স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়াম তৈরির কাজ করবে বিসিবি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্বাচল প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরে মূল সড়কের দক্ষিণ দিকে টাঙানো আছে বড় সাইনবোর্ড। প্রায় ৩৭.৫০ একর জমিতে তৈরি করা হয়েছে টিনের বেড়া। টিনের বেড়ায় ‘শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম’ লেখা রয়েছে একটু পর পর। নারায়ণগঞ্জের ভোলানাথপুর মৌজার ওই জমিতে টিনের বেড়া দেওয়া হলেও গাছপালা আর লতাপাতায় পূর্ণ পুরো জমি। জমিটির দক্ষিণ পাশে বিসিবির প্রকল্প অফিসের জন্য একটি ভবন তৈরির কাজ একতলা শেষ না হতেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় রাজউকের নকশায় একটি কাঁচাবাজারের জায়গা রাখা হলেও বেড়া দিয়েছে বিসিবি। মূল চত্বরের ভেতর আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ও দুটি মসজিদ। মসজিদ ও কাঁচাবাজার নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়। টিনের বেড়ার ভেতর একটি আনসার ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলতে দেখা গেছে।

বিসিবির কর্মীরা জানান, সাড়ে ৩৭ একর জমিতে একটি স্টেডিয়াম, অনুশীলনের জন্য একাডেমি ও পাঁচতারা মানের একটি হোটেল রাখার পরিকল্পনা আছে বিসিবির। এরই মধ্যে নকশা তৈরির কাজও শেষ হয়েছে; কিন্তু দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। দরপত্রের পর ওয়ার্ক অর্ডার দিলে কাজ শুরু হবে। তবে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাগবে বলে জানান তাঁরা।

বিসিবির স্টেডিয়ামের সাইট ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য একটি আনসার অফিসের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিসিবির কর্মকর্তা ও পরিচালকরা আসেন। তবে মূল কাজ কবে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। স্টেডিয়ামের টেন্ডার এখনো হয়নি বলে জানতে পেরেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা