kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

অবকাঠামোর সঙ্গে বিনিয়োগ দাবি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবকাঠামোর সঙ্গে বিনিয়োগ দাবি

রংপুর বিভাগ হয়েছে। সিটি করপোরেশনও হয়েছে। দুটিই আদায় হয়েছে স্থানীয় জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সিটি করপোরেশন হলেও এখনো রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়নি। রংপুর রেলস্টেশনের মাধ্যমে চলাচলকারী ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো এখনো চালু হয়নি। এ জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়নি।

স্থানীয় লোকজন বলছে, টানা ১০ বছর ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সরকার বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। কিন্তু এ তালিকায় রংপুরে কোনো প্রকল্প নেই। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অভাবের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা রংপুরে বড় ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসছেন না। বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানা, সিরামিকশিল্প, ওষুধশিল্প, তৈরি পোশাক শিল্পের মতো শিল্প গড়ে উঠতে পারছে না।

তাদের দাবি, রংপুরের অর্থনীতি ও মানুষকে দেশের উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত এ বিভাগের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এখানে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রংপুর-৩ (সদর) আসনটি প্রায় তিন দশক ধরে জাতীয় পার্টির দখলে। সরকারদলীয় প্রতিনিধি না থাকায় এখানকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এরশাদের মৃত্যুর পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও জয় পেয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ। তিনি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন তিনি।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া), রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ), রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা), রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে চোখে পড়ার মতো তেমন উন্নয়ন হয়নি। তবে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা বলে কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) এলাকাটি অভাবী এলাকা হিসেবে পরিচিত। তিস্তার করাল গ্রাসের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত এখানকার মানুষ। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় উন্নয়ন বলতে তেমন কিছুই হয়নি এখানে। তিস্তার ভাঙন রোধে ১২৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভাঙন রোধের ব্যবস্থাসহ যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে গঙ্গাচড়ায়, ভবিষ্যতেও হবে।’

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) এলাকার সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই এলাকা তিস্তার করাল গ্রাসের শিকার। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় এখানকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও অনেকটা বেড়ে গেছে।’

রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছে, চরাঞ্চলকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। নদীপারের জীবনকে সুরক্ষিত করতে হবে। ঢাকার সঙ্গে রেল ও নৌ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। কৃষিনির্ভর শিল্প-কারখানাসহ বাস্তবসম্মত অন্যান্য কারখানা স্থাপন করতে হবে। রংপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা সহজ করে দিতে হবে। সে জন্য উন্নত সেবা-সুবিধানির্ভর হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সমতা না ফেরা পর্যন্ত রংপুরের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু করে বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রংপুরে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

আইনজীবী মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘এ অঞ্চলের উন্নয়ন একটু বিলম্বে হয়ে থাকে। উন্নয়নের একটা পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক সংকট দূর করা। রাজনৈতিক সংকট দূর করতে পারেনি বলেই এখানে উন্নয়নের ধারা অত্যন্ত ধীরগতির।’

নাট্যকার রাজ্জাক মুরাদ বলেন, ‘রাজা জানকি বল্লভ সেন পৌরসভার প্রথম প্রশাসক ছিলেন। কলেরা মহামারি দূর করার জন্য শহরের মধ্য দিয়ে তত্কালীন এই পৌর প্রশাসক তাঁর মা শ্যামাসুন্দরীর নামে একটি খাল খনন করে গেছেন, যা এখনো বহমান। বর্তমানে এই খালটি দখল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা