kalerkantho

বুধবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২ ডিসেম্বর ২০২০। ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

জাবির ভিসির অপসারণ দাবি

প্রতিবাদী পটচিত্র নিয়ে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও জাবি প্রতিনিধি    

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবাদী পটচিত্র নিয়ে বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গতকাল শনিবার প্রতিবাদী পটচিত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আগের দিন শুক্রবার প্রায় ৬০ গজ লম্বা কাপড়ের ক্যানভাসে দুর্নীতিবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক চিত্র আঁকেন আন্দোলনকারীরা।

সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও যেকোনো পরিস্থিতিতেই উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন বলে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে থেকে প্রতিবাদী পটচিত্র নিয়ে মিছিলসহকারে ঢাকা-আরিচা মহাড়কে যান আন্দোলনকারীরা। তাঁরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো অবস্থান করেন তাঁরা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে পুনরায় কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে এসে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন।

পরে রাত ৮টায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। এতে জানানো হয়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার থেকে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা। নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পটচিত্র প্রদর্শনী, বিকেল ৩টায় পুরনো প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন সড়কে সংহতি সমাবেশ, সন্ধ্যা  ৬টায় গানে গানে সংহতি সমাবেশ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পথনাটক। এ ছাড়া বুধবার সকাল ১১টায় নতুন কলা ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল পালন করার কথা জানান আন্দোলনরত শিড়্গক শিড়্গার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম পাপ্পু।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে উপাচার্যের ‘দুর্নীতির’ তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক তারেক রেজা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রশাসনের সকল বাধা অতিক্রম করে আমরা এখানে প্রতিবাদ করার জন্য এসেছি। আজ (গতকাল) সেই প্রতিবাদের পটচিত্র নিয়ে ক্যাম্পাস এবং বাইরে মিছিল করেছি। দেশবাসী জানতে পারবে কী ঘটছে জাহাঙ্গীরনগরে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আমাদের তথ্য-উপাত্তগুলো সব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে দিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন আমরা চালিয়ে যাব। আমরা অহিংসভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আর সরকার তদন্ত করবে কি না সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তাঁর বাসভবন অবরোধ করে রাখেন। পরদিন ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের পিটিয়ে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা