kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফরিদপুরে কারখানা শ্রমিক কাজল রেখার লাশ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার প্রাইড জুটমিলের শ্রমিক কাজল রেখাকে। তাঁর গোপনাঙ্গে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাতও করা হয়। নৃশংস এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নছিমনচালক চুন্নু সিকদার ঝড়ুকে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঝড়ু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাজল রেখাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যানুসারে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নাজমুল (৩২), ইসলাম (৩২) ও আতিয়ার মোল্লাকে (৪২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের সবার বাড়ি মধুখালীর পশ্চিম আড়পাড়া এলাকায়। আরেক আসামি নাসির খান নয়ন (৪০) পলাতক।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদাহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত রাম গোপাল বিশ্বাস ও কল্যাণী বিশ্বাসের মেয়ে কাজল রেখা (৩২)। কাজল দুই বছর ধরে মধুখালীর রাজধরপুরে প্রাইড জুটমিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দুই সন্তানের জননী কাজল মিলসংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। সন্তানরা নানির কাছে থাকে।

আসামির বরাতে পুলিশ সুপার আলীমুজ্জামান বলেন, কাজল রেখা মিলে যাওয়া-আসা করতেন নছিমনে। গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে নছিমনচালক চুন্নু সিকদার ঝড়ু মিলে ডিউটি আছে বলে কাজলকে মোবাইল ফোনে কল করেন। কাজল ঝড়ুর কথামতো বাসা থেকে বের হলে ঝড়ু তাঁকে নছিমনে উঠিয়ে নিয়ে পাশের পশ্চিম আড়পাড়ার একটি কলাবাগানের সামনে নছিমনটি দাঁড় করিয়ে কাজলকে নামতে বলেন। এর পরই ঝড়ু ও তাঁর সহযোগী নাজমুল, ইসলাম, আতিয়ার মোল্লা ও নয়ন জোর করে কাজলকে কলাবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে একপর্যায়ে তাঁরা কাজলের গোপনাঙ্গ ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করেন এবং কাজলকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে চলে যান। পরদিন সকালে সংবাদ পেয়ে পুলিশ বাগান থেকে কাজলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় কাজলের মা কল্যাণী বিশ্বাস মধুখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ও আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল আলম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও বিভিন্ন সূত্র ধরে চুন্নু সিকদার ঝড়ুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পলাতক নয়নকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা, মো. আতিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল আলম প্রমুখ।

মধুখালী থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা