kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলাদেশকে ইইউ

বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি হবে মানবাধিকার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি হবে মানবাধিকার

আগামী দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক ও বাণিজ্য সুবিধার ক্ষেত্রে শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকারের শর্তের কথা বাংলাদেশকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইইউর যৌথ কমিশনের নবম বৈঠকে ইইউ তার বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার শর্তের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়।

এদিকে গতকালের বৈঠকেও ইইউ বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিশেষ করে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ইইউ বহুপক্ষীয় উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইইউ জানিয়েছে, গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পালোনি বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের প্রশংসা করে ইইউ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনে জোর দেয়। বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ইইউকে আবারও আশ্বাস দিয়েছে, স্থানান্তরের বিষয়টি রোহিঙ্গাদের সম্মতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করেই বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ ও ইইউ—উভয়েই অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে। উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাচ্ছে তা এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০০৬ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ইইউয়ে রপ্তানি তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। ইবিএর আওতায় ইইউর বাজারে ঢোকা পণ্যের ৬২ শতাংশই বাংলাদেশের। সে হিসাবে ইবিএর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বাংলাদেশ। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে ইইউর বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাধাগুলো দূর করতে ইইউ-বাংলাদেশ ব্যবসা পরিবেশ বিষয়ে আলোচনা জোরদার করার অঙ্গীকার করে।

বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইইউ বাংলাদেশে শ্রম আইনের মানের টেকসই সংস্কার এবং সেগুলোকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদগুলোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করার ওপর জোর দেয়। পোশাক শিল্প-কারখানায় ভালো অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ইইউ বলেছে, শ্রম অধিকার খাতে অবশিষ্ট কাজ ও ‘সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্টের’ পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

বৈঠকে ইইউ গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নাগরিক সমাজের কাজের পূর্ণ সুযোগের ওপরও জোর দিয়েছে। শ্রম ও মানবাধিকার ইস্যুতে মান বজায় রাখতে একটি রূপরেখা প্রণয়নের বিষয়েও সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইইউ।

ইইউ বলেছে, বৈঠকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সুশাসন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে উভয় প্রান্তে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি তুলে ধরেছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বলেছে, ওই আইনের কোনো ধারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে ব্যবহার করা হবে না।

বৈঠকে উভয় পক্ষ ইইউয়ে অনুমোদনবিহীনভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে ইইউ-বাংলাদেশ ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি)’ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছে। উভয় পক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা আরো বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

যৌথ কমিশনের গতকালের বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার মানবাধিকার ও সুশাসন ইস্যুতে, গত রবিবার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ে তিনটি সাবগ্রুপের বৈঠক হয়। এ ছাড়া গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর জিএসপি-ইবিএ মিশন বাংলাদেশে শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা