kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বসুন্ধরায় ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড

সম্মানিত হলেন বাঙালি তারকারা

নওশাদ জামিল   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সম্মানিত হলেন বাঙালি তারকারা

রাজধানীর আইসিসিবিতে গতকাল ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চোখ যেদিকে যায়, সব দিকেই রুপালি জগতের তারকারা। পর্দায় যাঁদের দেখে মানুষ আন্দোলিত, সরাসরি তাঁদের দেখে দর্শকশ্রোতারা শিহরিত। কে নেই সেখানে? পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, জিৎ, আবির চ্যাটার্জি, তনুশ্রী দত্ত, পরমব্রত, পাওলি দাম, বাংলাদেশের  মৌসুমী, ওমর সানি, জয়া আহসান, বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, পরীমণি, ইমন, নিরব, তাসকিন, সিয়াম, পূজা চেরিসহ অনেক তারকা। আনন্দের রোশনাই যেমন ছিল দর্শকশ্রোতাদের মধ্যে, তেমনি উচ্ছ্বসিত তারকারাও। বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের এ এক মনোমুগ্ধকর মহা উৎসব।  উপলক্ষ ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের (বিবিএফএ) প্রথম আসর। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির ‘নবরাত্রি’ কনভেনশন হলে বসেছিল তারকাদের এই  মহাযজ্ঞ।

প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপ। সহযোগিতায় টিএম ফিল্মস। এতে চলচ্চিত্রের সামগ্রিক অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পান বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।

দুই দেশের তারকাদের মিলনমেলার এ আসর হয়ে উঠেছিল জমকালো ও আনন্দমুখর। বিকেল থেকেই নবরাত্রি মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকেন কিংবদন্তি সব অভিনেতা-অভিনেত্রী। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে আলোচিত ও জনপ্রিয় প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই এসেছিলেন। এসেছিলেন প্রবীণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। সবার উপস্থিতিতে আয়োজন ছিল তারকা ঝলমল-উজ্জ্বল। জমকালো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা আহমেদ আকবর সোবহান। অনুষ্ঠানে তিনি অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অতিথিদের হাতে তুলে দেন সম্মাননা স্মারক। এ সময় আহমেদ আকবর সোবহানের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকমন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে টিএম ফিল্মসের চেয়ারপারসন ফারজানা মুন্নী বলেন, ‘দুই বাংলার সেরা শিল্পীদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। দুই বাংলায় চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে। ঠিক এই সময়ে চলচ্চিত্রের পথে পা বাড়িয়েছে আমাদের টিএম ফিল্মস। নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াসে আমরা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বপ্ন দেখছি দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়ার।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, ফিল্ম  ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফিরদাউসুল হাসান ও বিবিএফএর সমন্বয়ক তপন রায় প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একই ভাষায় কথা বলি। আমরা একই পাখির কলতান শুনি। কিন্তু রাজনৈতিক সীমারেখা আমাদের বিভক্ত করেছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জলবায়ুও কিন্তু একই। কিন্তু আমাদের মধ্যে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিশ্চয় আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দৃঢ় করবে। এ কারণেই আজকের আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সংস্কৃতিচর্চা, চলচ্চিত্র নির্মাণের দিক থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে আরো বেগবান করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে, মানুষকে কাঁদায়, হাসায়, চলচ্চিত্র চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। আমার বিশ্বাস এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্ক আরেক নতুন মাত্রা উন্মোচন করবে।’

কলকাতার খ্যাতিমান নির্মাতা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘সিনেমা এক আশ্চর্য ম্যাজিক। যেটা এক হাজার বছরের গল্প দুই বছরে বলা যায়। পাঁচ মিনিটের গল্প দুই ঘণ্টায় বলা যায়। সিনেমায় আমরা সময়কে সংকুচিত করতে পারি। আবার প্রসারিত করতে পারি। এক আশ্চর্য মাধ্যমে আমরা কাজ করি। সিনেমা কি সত্যি দুই বাংলার মানুষের মধ্যে প্রীতি ও মিলন বয়ে আনতে পেরেছে? এটা নিয়ে একটা লেখা আরো আগেই লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের কারণে হয়ে ওঠেনি। সিনেমা আমাদের একত্রিত করে দিবে, মানুষের মধ্যে আর কোনো বিভেদ থাকবে না। সিনেমা যে কাজটা করতে পারে সেটা হলো আমাদের স্মৃতিমালাকে একত্রিত করতে পারে। আর সেই প্রত্যাশাই রইল।’

 ব্রাত্য বসু বলেন, ‘এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার দারুণ এক সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। আমাদের দুই বাংলার ইতিহাস ও সম্প্রীতি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আরো দৃঢ় হবে। এই ঢাকা শহরে ১৯৬৫ সালে প্রথম চলচ্চিত উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। যেখানে সত্যজিৎ রায় উপস্থিত ছিলেন। এই শহরেই আবার তেমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। এটা বেশ আনন্দের। দুই বাংলার সংস্কৃতিতে একটা সময় অস্থিরতা ছিল। কিন্তু সেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো দৃঢ় হবে। সিনেমা তো শিল্প, একে চর্চা করতে হয়। এ ছাড়া তো একে আর সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। আগে কিন্তু একটা সময় ছিল, ভালো কাজ হলে দুই বাংলাতেই টের পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর সেটা হয় না। এক ধরনের ভালো কাজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার জুরি বোর্ডের সদস্য বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, চিত্রনায়ক আলমগীর, চিত্রনায়িকা কবরী, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর  রেজা কল্লোল। অন্যদিকে ভারত থেকে ছিলেন গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তী।

আজীবন সম্মাননা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। দুই বাংলা মিলিয়ে এত এত তারকা থাকতে আমাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে, এটা আমি কখনো ভাবিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

রঞ্জিত মল্লিক বলেন, ‘বাইশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাদেরই এ আয়োজন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজন যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণের যে প্রয়াস চলছে, তা যেন আরো বেগবান হয়। আরেকটি কথা না বললেই নয়, আমি পৃথিবীর বহু দেশে ঘুরেছি, কিন্তু বাংলাদেশে এলে যে আতিথেয়তা পাই, তা পৃথিবীর আর কোথাও পাই না।’

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুই  দেশের শিল্পীরা নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখেন গোটা আয়োজন।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। আর ইভেন্ট পার্টনার ওয়ান মোর জিরো।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে বাংলাদেশ ও ভারতের সেরা চলচ্চিত্র, নায়ক-নায়িকা, পরিচালক, প্লেব্যাক শিল্পী, বেস্ট মিউজিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। দুই দেশের ২০ জনকে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। এ ছাড়া স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় দুই দেশের দুই চলচ্চিত্র তারকাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা