kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা

আসামি সাদাত পাঁচ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামি সাদাত পাঁচ দিনের রিমান্ডে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এ এস এম নাজমুস সাদাতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁর রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন।

গতকাল দুপুরের পর বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র সাদাতকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, সাদাত আবরার হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি এজাহারনামীয় আসামি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো কারা কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, সেসব তথ্য উদ্ধার করা প্রয়োজন।

গত সোমবার রাতে ভারতে পালানোর সময় সাদাতকে দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাটলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তর পাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এজাহারনামীয় ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং আরো পাঁচজনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিনসহ ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

গতকাল নাজমুস সাদাতকে আদালতে হাজির করার পর তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত সাদাতকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর কিছু বলার আছে কি না। সাদাত তখন বলেন, ‘স্যার, আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে আনি। পরে বড় ভাই অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির রুমের মধ্যে আবরারকে দফায় দফায় মারে। একসময় স্টাম্প দিয়ে আবরারকে প্রচণ্ড পেটাতে থাকে অনিক। তখন রুমে উপস্থিত অন্যরাও ভয় পেয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবরারকে পেটায় অনিক। তার মারের পরই আবরারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই। আমরা ভাইদের বলেছিলাম হাসপাতালে নিয়া যাইতে, ভাইরা নিতে দেয় নাই। আবরার বমি করে। আমি আবরারকে মারিনি। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই রুম থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা