kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা

মাঠের আন্দোলন স্থগিত, একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠের আন্দোলন স্থগিত, একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা

আজ বুয়েটে আন্দোলন না থাকায় ফাঁকা ক্যাম্পাসে আবরার হত্যার প্রতিবাদে আঁকা দেয়ালচিত্র ও পোস্টার দেখছেন একজন অভিভাবক। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দাবি বাস্তবায়নে বুয়েট প্রশাসনের তৎপরতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন স্থগিত করলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন তাঁরা। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চার্জশিটের ভিত্তিতে সব অপরাধীকে একাডেমিক পর্যায় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণা দেন। আজ বুধবার ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গণশপথ কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া ও দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধনের মাধ্যমে বুয়েট প্রশাসন এরই মধ্যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে। আমরা সেটার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন আপাতত ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে বুধবার বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে গণশপথে অংশ নেব। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন আপাতত স্থগিত থাকলেও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চার্জশিট দাখিলের পর সেটার ভিত্তিতে অপরাধীদের একাডেমিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করার আগ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেব না। আমরা খুনিদের সঙ্গে একই একাডেমিক সংস্কৃতি ভাগাভাগি করব না।’

আরো বলা হয়, ‘আন্দোলন চলাকালে আমরা লক্ষ করেছি যে আমাদের ভাইয়ের লাশকে কেন্দ্র করে আড়ালে অন্তরালে অনেক স্বার্থান্বেষী সংগঠন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব মহলের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, এসব স্বার্থান্বেষীর এজেন্ডা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। রাজপথে আমাদের অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করে কোনো অপশক্তিকে এই আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কোনো সুযোগ দিতে চাই না।’

দাবির বিষয়ে প্রশাসনের তৎপরতার বর্ণনা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমাদের দাবির মধ্যে তিনটি ছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে। এরই মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেওয়া ও জবানবন্দি নিয়েছেন তাঁরা। এ কারণে আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এ ছাড়া বুয়েট প্রশাসন দাবি বাস্তবায়নে জড়িতদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার, আবরারের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্যের অঙ্গীকার, সাংগঠনিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, রাজনৈতিক কক্ষগুলো সিলগালা, অবৈধ ছাত্রদের উত্খাত, বিআইআইএস অ্যাকাউন্টে নির্যাতিতদের অভিযোগ জানাতে একটি প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত করাসহ বিভিন্ন হলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা এসব সিসিটিভির ফুটেজ মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি করার দাবি জানাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা