kalerkantho

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা

চর-থাপ্পড় মেরে স্টাম্প দিয়ে পেটাই

মনিরের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চর-থাপ্পড় মেরে স্টাম্প দিয়ে পেটাই

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামি মনিরুজ্জামান মনির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি বলেন, ‘বড় ভাইদের নির্দেশে আবরারকে তাঁর রুম থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে আনার পর অন্যদের সঙ্গে আমিও চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মেরেছি। ওই সময় ক্রিকেট স্টাম্প দিয়েও চার-পাঁচটি বাড়ি মারি। এরপর আমার কক্ষে চলে যাই।’ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই জাবনবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গতকাল পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মনিরুজ্জামান, আকাশ ও রাফাতকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি শামসুল আরেফিন রাফাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মো. আকাশকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে রাফাতের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর আকাশকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে আবরার হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম এ এস এম নাজমুস সাদাত। তিনি বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরের দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নসংলগ্ন সততা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির অফিস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিরামপুর থানা ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সাদাতকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকেসহ এই ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। এর মধ্যে ১৬ জন এজাহারভুক্ত আসামি। এজাহারভুক্ত তিনজন এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাঁরা হলেন মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিম। তাঁরা সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জনকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। আবরার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এ পর্যন্ত মনিরসহ ছয়জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন বুয়েটের ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, মো. মোজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন ও মনিরুজ্জামান মনির।

মনিরের স্বীকারোক্তি : আদালত সূত্রে জানা গেছে, মনির আদালতকে বলেন, ‘১৫তম ব্যাচের বড় ভাইরা ডাকতে বলেছিলেন। তাই ওরে (আবরার) ডেকে নিয়েছিলাম।’ অনিক ও সকাল বেশি পিটিয়েছে জানিয়ে মনির আদালতকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘গত ৬ অক্টোবর বিকেলে আবরার হলে ফিরলে রাত ৮টার দিকে আবরারকে ডেকে আনতে নির্দেশ দেন মেহেদী হাসান রাসেল। জেমি, মোয়াজসহ কয়েকজন তাঁকে ডেকে আনেন। রাত ৮টার পর ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে আনার পর একে একে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে শিবিরের রাজনীতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পর্যায়ক্রমে ঘুরে ঘুরে সবাই তাঁকে স্কিপিং দড়ি, ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে মারধর করেন। কেউ কেউ কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মারেন। ওই সময় রাফাত অন্য একটি কক্ষ থেকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে এলে অনীক, ইফতি, সকাল ও অন্যরা লাঠিপেটা করেন।’ মনির জানান, তিনি নিজেও মারেন। তবে তিনি একবারই মারেন। অন্যরা দুই-তিন-চারবার করে মারেন। এরপর আবরারের বমি করা, তাঁর নিস্তেজ হওয়া, নিচে সিঁড়িতে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা দেন মনির। তিনি জানান, রাত ২টা পর্যন্ত আবরারকে ধাপে ধাপে মারধর করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা