kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

২০ দলের সভায় বক্তারা

ভিন্নমত হত্যার মনোভাব থেকেই আবরার খুন

ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিন্নমত হত্যার মনোভাব থেকেই আবরার খুন

বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট বলেছে, সরকার পরিচালনাকারীদের প্রভাব ও প্রত্যক্ষ অংশীদারিতে দেশে দুর্নীতি চলছে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার সমালোচনা করে জোটের নেতারা বলেছেন, ভিন্নমত হত্যার মনোভাব থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলোরও কঠোর সমালোচনা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০ দলীয় জোটের উদ্যাগে ‘দেশবিরোধী চুক্তি ও আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামে প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণে’ শীর্ষক স্মরণসভায় জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, এমনটা আমি মনে করি না। এর একমাত্র পথ হতে পারে রাজপথ। আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাব্বানী-শোভন পর্ব যাওয়ার পর এলো যুবলীগের ব্যাপার। খালেদ, শামীম, সম্রাটের মতো নিশ্চয় আরো শত শত বিরাজ করছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছে এক শ্রেণির মানুষ। যাঁরা এই সরকার পরিচালনা করছেন তাঁদের প্রভাব ও প্রত্যক্ষ অংশীদারিতে এ ধরনের দুর্নীতি চলছে।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ভিন্নমত হত্যার মনোভাব হচ্ছে ফ্যাসিস্ট মনোভাব। এ জন্য বুয়েটের মতো প্রেস্টিজিয়াস ইনস্টিটিউশনে আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শুধু বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি দলের লালিতরা টর্চার সেল করে বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার আর চাঁদাবাজি করছে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলাটা আমাদের জন্য আত্মহত্যার শামিল। এটি একটি চক্রান্ত। কারণ এ দেশের ছাত্ররা প্রতিটি পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ছাত্রলীগের তাণ্ডব-অপকর্ম চাপা দিতে ছাত্ররাজনীতিকে দোষারোপ করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব ভিসি আছেন তাঁদের পদত্যাগ চায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পদত্যাগ করলে যে আয়-বরকত হয় তা তো আর পাওয়া যাবে না। আর বরকতের দিকে যাঁদের নজর বেশি তাঁদের লাজলজ্জা একটু কম। তাই তাঁরা দেহত্যাগ করলেও পদত্যাগ করবেন না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকারের অধীনে আমরা একটি দাসত্বমূলক সমাজে বাস করছি। একটি ভোটারবিহীন বড় সম্রাট তার অধীনে সমাজের প্রতিটি স্থানে ছোট ছোট রাজ্য গড়ে অনেক সম্রাটের জন্ম দিয়েছে। এই সম্রাটদের অন্যায়-অবিচার, নির্যাতন, মনুষ্যত্বহীন চিন্তাধারা ছাড়া আর কিছুই নেই।’

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার দেশবিরোধী চুক্তি করে বলছে যে মানবিক কারণে ফেনী নদীর পানি প্রতিবেশীদের পিপাসা নিবারণ করতে দেওয়া হবে। তাহলে আমাদের তিস্তার খবর কী? সরকার দুটি বন্দরে সুবিধা দিয়েছে, আমাদের ওপর দিয়ে রেল যাবে। ওখানে মানবাধিকারের প্রশ্ন নেই।’ তিনি বলেন, ‘আবরারের চেতনায় বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়েছিল। এই মাটি, পতাকার জন্য সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। আবার বলে শিবির করার সন্দেহে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ধরেই নিলাম শিবির করে। তার অর্থ কি এই দাঁড়াবে—শিবির করলেই তাকে মেরে ফেলতে হবে?’

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, দেশবিরোধী এই চুক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে মাঠে নামতে হবে।

স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, এনপিপির অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের অন্যান্য নেতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা