kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পালানো ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি

ছাত্রলীগ নেতার খুনি বেন্টুর অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগ নেতার খুনি বেন্টুর অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

ক্ষমতার দাপট আর অস্ত্রবাজি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুকে নজরদারিতে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এদিকে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ছাত্রলীগ নেতা এস এম গোলাম মূর্শিদ হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছেন সংগঠনের সাবেক নেতারা। এরই মধ্যে তাঁরা ফেসবুকে এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন।

দুদক রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাঁরা অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দল অনুসন্ধানে নেমেছে।

বালু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিভাবে একজন নেতা কোটিপতি হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মাত্র সাত-আট বছরের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু। ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা এস এম গোলাম মূর্শিদ গোলাম হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি ছিলেন একজন মাছ বিক্রেতা। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের পদ দখল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ি, গাড়িসহ রাজশাহী শহরের অন্তত ছয়টি স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জমি কিনে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তাঁর এই সম্পদ ও অপকর্ম নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর কালের কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। ছাত্রলীগ নেতা গোলাম হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামির নানা অপকর্মও বের হয়ে আসতে থাকে একের পর এক। বেন্টু ও তাঁর বাহিনীর দ্বারা বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষও মুখ খুলতে শুরু করেছে এখন। এরই মধ্যে ক্ষমতাধর এই নেতা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ওই সূত্রটি জানায়, রাজশাহীর অপরাধীদের তালিকাও এরই মধ্যে বিভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষ তিনজনের মধ্যে রয়েছে বেন্টুর নাম।

অন্যদিকে গোলাম হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবিতে এবং আওয়ামী লীগ নেতা বেন্টুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এখন সোচ্চার রাজশাহী ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

এ নিয়ে ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা আমিনুর রহমান রুবেলসহ অন্য নেতারা মুখ খুলছেন। রুবেলের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার দেওয়া বেন্টুকে নিয়ে করা একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুর রহমান নামের এক ছাত্রলীগ নেতা বেন্টুকে উদ্দেশ মন্তব্য করেন, ‘ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ একজন ছাত্রনেতাকে নির্মমভাবে খুন করে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারীরা বিচারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার পরও দম্ভভরে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোন অদৃশ্য শক্তির যোগসাজশে?’

পলাশ চৌধুরী নামের আরেকজন লেখেন, ‘আর কোনো কথা শুনতে চাই না। এখন মহামান্য আদালতের নিকট দাবি একটাই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজশাহী মহানগরের সহসভাপতি ও জাতীয় পরিষদের সদস্য এস এম গোলাম মূর্শিদ গোলাম ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে গতকাল কালের কণ্ঠকে আরিফুর রহমান রুবেল বলেন, ‘সরকারের কাছে দাবি জানাচ্চ্ছি আমাদের সহকর্মী গোলাম হত্যার রায় কার্যকরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। গোলামের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হত্যা করে এখন আসামিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলে দাপটে ঘুরে বেড়াবে—এটা আমরা আর দেখতে চাই না।’

তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সেই সূত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁরা তাদের কাজ করুক। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই আমার।’ উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৬ মার্চ রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা গোলামকে কুপিয়ে হত্যা করে বেন্টু ও তাঁর সহযোগীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা