kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপকূলে রাডার সিস্টেম বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে

অপ্রথাগত নিরাপত্তাঝুঁকি রুখতে এই কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স

মেহেদী হাসান   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপকূলে রাডার সিস্টেম বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে

‘নন-ট্র্যাডিশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’ বা অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা বসাবে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘এমওইউ অন প্রভাইডিং কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম’ অর্থাৎ উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা প্রদানবিষয়ক এমওইউ শীর্ষক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। ওই এমওইউর আওতায় ভারত বাংলাদেশকে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারির সরঞ্জাম দেবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের সরঞ্জাম চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ থেকে কিনতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত ওই নজরদারি সরঞ্জাম বাংলাদেশের কাছে বিক্রি নয় বরং মঞ্জুরি হিসেবে দেবে। ঠিক কয়টি নজরদারি সরঞ্জাম বা রাডার ভারত বাংলাদেশকে দেবে তা এখনো ঠিক হয়নি। আগামী দিনে এটি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারত কেবল নজরদারি সরঞ্জাম দেবে। কিন্তু এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশের হাতে। বাংলাদেশ ও ভারত নিজ নিজ উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিনিময় করবে। এতে ভারতের তথ্যও বাংলাদেশ পাবে।

চীনকে ঠেকাতে ভারত বাংলাদেশকে ওই সরঞ্জাম দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা বলেছেন, এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ‘সামরিক’ নয়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি সরঞ্জামে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশ কিভাবে লাভবান হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা বলেন, এ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিশেষ কোনো দেশের ওপর নজরদারি নয়। সারা বিশ্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাই হামলার আগে অনেকে ধারণাই করতে পারেনি যে শক্তিশালী নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড থাকার পরও সাগরপথে হামলাকারীরা গিয়ে হামলা চালাতে পারে। সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও একটি সামান্য ই-মেইলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায়। এগুলো ‘নন-ট্র্যাডিশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সাগরপথেও বাণিজ্য বাড়ছে। ফলে সাগর এলাকায় নিরাপত্তার গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীসহ অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থার লক্ষ্যই হলো ‘নন-স্টেট অ্যাক্টরদের’ (রাষ্ট্র নয় এমন গোষ্ঠী বোঝাতে) সাগরভিত্তিক অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো মোকাবেলা করা।

নয়াদিল্লির এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা (ভারত) আমাদের তথ্য আপনাদের (বাংলাদেশ) সঙ্গে বিনিময় করব। আপনারা আপনাদের পাওয়া তথ্য আমাদের সঙ্গে বিনিময় করবেন। এটি উভয় দেশের উপকূল ও উভয় দেশকেই নিরাপদ রাখতে কাজে আসবে। ’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে। বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূল লাগোয়া। আমরা আপনাদের উপকূল সুরক্ষায় সহযোগিতা করব। আপনারা আমাদের উপকূল সুরক্ষায় সহযোগিতা করবেন।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ), গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় চালু আছে। ‘নারকো ট্রেড’ (মাদক বাণিজ্য) এখন পুরোপুরি স্থলসীমান্ত পথ এড়িয়ে জলসীমান্তে চলে যাচ্ছে। ‘কেটামিন’ জাতীয় মাদক এখন পাচার হচ্ছে জেলেদের মাধ্যমে।

কয়েক মাস আগে ভারতীয় কোস্ট গার্ড আন্দামান সাগর এলাকায় একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে এক হাজার ১৬০ কেজি ‘কেটামিন’ মাদক উদ্ধার করে। সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে। বাজারে এক কেজি ‘কেটামিনের’ দাম এক কোটি রুপিরও বেশি। মাদক বাণিজ্যের এই অর্থ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদে ব্যয় হয় বলেই ধারণা করা হয়। উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ফলে সাগরে নৌযানগুলোর ওপর আরো নিবিড় দৃষ্টি রাখা সম্ভব হবে। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে কাজ করার আরো সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা