kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা

ইন্টেরিয়র-লাইটিং প্রিন্টেক আর স্ক্রিনটেক্সের প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্টেরিয়র-লাইটিং প্রিন্টেক আর স্ক্রিনটেক্সের প্রদর্শনী

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল প্রিন্টিং মেলা উদ্বোধনের পর ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোনোটি দেখতে ফুল বা পাতার মতো। আবার কোনোটি চারকোনা, তিনকোনা বা গোলাকৃতির। দেয়ালে, ঘরের কোণে, সিঁড়িতে, বাড়ির ছাদ কিংবা বাগানে ব্যবহার উপযোগী। আধুনিকতা ও আভিজাত্যের মিশ্রণে তৈরি লাইট ও লাইটিং সামগ্রীর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে। আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনী চলবে তিন দিন। প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টলে সাজানো রয়েছে লাইটিংসহ গৃহসজ্জার বিভিন্ন পণ্য। প্রদর্শনীর প্রতিটি পণ্য ডিজাইনে যেমন নজরকাড়া, তেমনি গুণে-মানে সমৃদ্ধ।

বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি হলে চলছে চারটি প্রদর্শনী—‘৪র্থ ইন্টেরিয়র এক্সটেরিয়র ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০১৯’, ‘৪র্থ বাংলাদেশ লাইটিং, এলডি ও স্মার্ট লিডিং সলিউশন এক্সপো ২০১৯’, ‘প্রিন্টেক বাংলাদেশ ২০১৯’ এবং ‘স্ক্রিনটেক্স বাংলাদেশ ২০১৯’।

প্রথম প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের ৫০টি প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি বাসা ও অফিসে ব্যবহৃত ফার্নিচার, বোর্ড, সিরামিক, বাথরুম ফিটিং, এক্সেসরিজ, সেনিটারি ও কিচেন ওয়্যার, ডেকোরেটিভ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট, ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেবা প্রদর্শন করছে।

প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান এফ টাচ ইভেন্টস লিঃ-এর পরিচালক শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য এসব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এখানে নতুন ক্রেতা পাওয়া যাবে।’

অন্যদিকে গতকাল শুরু হয়েছে তিন দিনের মুদ্রণশিল্পের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মেশিনারিজ, কাগজ, কালি, স্পেয়ারস যন্ত্রপাতির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘প্রিন্টেক বাংলাদেশ ২০১৯’।

আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির (পিআইএবি) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। চলছে ‘স্ক্রিনটেক্স বাংলাদেশ ২০১৯’ প্রদর্শনীও। এই প্রদর্শনীতে স্ক্রিন, ডিজিটাল, সাব্লিমেশন ও টেক্সটাইল প্রিন্টিংয়ের ওপর প্রি-প্রেস, ইন-প্রেস, পোস্ট প্রেস, ফিনিশিং, কনভার্টিং, সাইনেজ, স্ক্রিন, করুগেশন, কাগজ, প্যাকেজিং, সফটওয়্যার, কালি, মেশিন স্পেয়ার্স, কেমিক্যাল এবং এ সম্পর্কিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে ইন্ডিয়ান প্রিন্টিং প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যালায়েড মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইপিএএমএ) এবং স্ক্রিন প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসপিআইএ) থেকে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে চীন ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান বেশি। স্থানীয় শিল্পের বাজারে আন্তর্জাতিক ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রদর্শনীর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

এসব প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহিদ সেরনিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল।

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। মুদ্রণশিল্প এখন শুধুমাত্র বই ছাপানোর কাজই করে না, আরো অনেক কাজের সঙ্গে এ শিল্পের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টশিল্পের সঙ্গে।’

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘বর্তমানে মুদ্রণশিল্প বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষা প্রসারে এ ধরনের প্রদর্শনী সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত হাজার মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রিন্টেক বাংলাদেশের উদ্দেশ্য, এই শিল্পসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা।’

প্রদর্শনী চারটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা