kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের প্রতিবেদন

দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে ১০ কোটি মানুষ

জিসিএ কার্যালয় হচ্ছে ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে ১০ কোটি মানুষ

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিলিনা জর্জিভার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) কার্যালয় বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে গত বছর ১৬ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বৈশ্বিক অভিযোজন কমিশন বা জিসিএ। সংস্থাটির সদর দপ্তরের বাইরে প্রথম অফিস খোলা হয়েছিল বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক দেশ চীনে। বাংলাদেশ হবে দ্বিতীয় দেশ, যেখানে সংস্থাটির অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিকল্পনা সম্মেলনে বাংলাদেশে কবে থেকে অফিস চালু হবে এবং এই অফিস কিভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। যেটি আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে গতকাল সোমবার রাতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, জিসিএর অফিস বাংলাদেশে চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে সংস্থাটির কাজ কী হবে, কিভাবে বিনিয়োগ করবে—এসব বিষয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু অ্যাকশন সামিটে আলোচনার পর ঠিক হবে। বাংলাদেশে জিসিএ অফিস চালু হলে বিশ্বমহলে বাংলাদেশের নাম ব্র্যান্ডিং হবে বলে মনে করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। এতে করে জিসিএ থেকে বাংলাদেশে অভিযোজন খাতে বাড়তি অর্থায়ন পাওয়া যাবে।

গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি খাতে যদি ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে নিট মুনাফা হবে সাত ট্রিলিয়ন ডলার। পাঁচটি খাত হলো ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে সতর্কবার্তা উন্নত করা, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ, শুষ্ক কৃষি জমির উন্নয়ন, ম্যানগ্রোভ রক্ষা এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করা। সংস্থাটির প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে। জিসিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে। জিসিএ মনে করে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অভিযোজনে যে টাকা বিনিয়োগ হবে, তার বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

বান কি মুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিশ্বে কোনো সীমারেখা কিংবা সীমান্ত দেখে না। এটি একক কোনো দেশের সমস্যা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যা। তাই এককভাবে এটি সমাধান সম্ভব নয়। সমাধান করতে হবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। এটি হতে পারে পাশাপাশি অবস্থিত এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের এবং সারা বিশ্বের সঙ্গেই। তিনি বলেন, বিশ্বকে জলবায়ু স্থিতিশীল হিসেবে দেখতে চাইলে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে অভিযোজনের কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিবেদনে গত জুলাইয়ে ঢাকায় জিসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক কাজ করেছে। এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। বাংলাদেশে জিসিএর অফিস চালু হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে সহজ হবে। কারণ তখন জিসিএ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা