kalerkantho

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রসঙ্গে কাদের

এডিস মশা চেহারা দেখে না, সুযোগ পেলেই রক্ত খাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এডিস মশা চেহারা দেখে না, সুযোগ পেলেই রক্ত খাবে

‘এডিস মশা ভয়ংকর। এই এডিস মশা কারো চেহারার দিকে তাকায় না। আপনি কাউন্সিলর, আপনি কি নেতা, আপনি কি মন্ত্রী, এমপি, মেয়র কোনো কিছুই চেনে না। এডিস মশা সামনে পেলেই রক্ত খাবে। সুযোগ পেলেই রক্ত খাবে। এমপির রক্ত খাবে, মন্ত্রীর রক্ত খাবে, নেতার রক্ত খাবে, কাউন্সিলরের রক্ত খাবে, কাউকে ছাড়বে না। সাংবাদিকদেরও রেহাই নেই। সবাইকে সচেতন হতে হবে, সাবধান হতে হবে। আমাদের যা করণীয়, তা পালন করতে হবে। শেখ হাসিনার নির্দেশ—ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ। এই কথা শুধু মুখে নয়, অ্যাকশনেও বাস্তবায়ন করতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ জরুরি সভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ ঘোষিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখাতে ক্যামেরার সামনে ফটোসেশন করার জন্য এই অভিযান নয়। আমরা দেখতে চাই ঢাকা সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং নেত্রী এটা জানতে চেয়েছেন। নেত্রী জানতে চেয়েছেন কয়টা ওয়ার্ডে তাঁর নির্দেশনা পালিত হয়েছে।’

জরুরি সভায় বক্তব্যের সময় ওবায়দুল কাদের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে যে কজন কাউন্সিলর তাঁর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন তাঁদের হাত তুলতে বলেন। এ সময় মাত্র ১৩ জন কাউন্সিলর হাত তুললে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তার মানে কমসংখ্যক, যাঁরা করেননি, আমি চিহ্নিত করে লজ্জা দিতে চাই না, শুধু বলতে চাই কমিটমেন্ট থেকে কাজটা করেন। শেখ হাসিনার নির্দেশ মনে করতে হবে। যাঁরা করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ, আর এই ধন্যবাদ অব্যাহত থাকবে। যাঁরা করেননি, নেত্রী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রগ্রাম না করলে কিন্তু অপ্রকাশিত থাকবে না।’

ঢাকায় প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে মনে করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যতটাই মুখে নিয়ন্ত্রণের কথা বলি না কেন, এখনো এটা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এটা হলো বাস্তবতা। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। সে অনুযায়ী ঢাকার তিন জায়গায় কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালনও করা হয়েছে। কিন্তু সব ওয়ার্ডে তা হচ্ছে না। আমরা নামকাওয়াস্তে দু-চার জায়গায় কর্মসূচি পালন করলাম, বেশির ভাগ ওয়ার্ডে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা হলো না, কর্মসূচি পালন হলো না। এই দায়সারা কর্মসূচির কোনো প্রয়োজন নেই। এতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে না, এডিস মশার উৎসমুখ আমরা বন্ধ করতে পারব না। এবং ডেঙ্গুর যে ভয়ংকর বিস্তার এই বিস্তারও আমরা রোধ করতে পারব না।’

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গ্রামমুখী মানুষের মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ানোর আশঙ্কার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকেই যাচ্ছেন, যাবেন। এখানেও এই ডেঙ্গুর বিস্তারের একটা আশঙ্কা আছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের প্রথম কাজটি হচ্ছে এই সচেতনতা এবং সতর্কতা প্রচার করা। এই মশার প্রজনন ও বংশবিস্তার বন্ধের পূর্বশর্ত হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।’

মিডিয়া না থাকলে সরকার ডেঙ্গুকে গুজব বলে চালিয়ে দিত—বিএনপির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বলব মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে একটা রাজনৈতিক দল এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে আছে, এটা বোঝার কোনো উপায় আছে? নির্বাচনে তারা ব্যর্থ, আন্দোলনে তারা ব্যর্থ। এত বড় বন্যা হয়ে গেল, ছিটেফোঁটা দু-একটা জায়গায় গিয়ে ফটোসেশন করে শেষ। ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানেও তারা নেই, তারা শুধু মুখে মুখে, আবাসিক প্রতিনিধি পল্টনের অফিসে বসে কথা বলছে। মিডিয়া না থাকলে আজকে জনগণ কিভাবে বুঝত যে এই দল আছে?’

 

মন্তব্য