kalerkantho

ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়নে শিগগির সার্কুলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়নে শিগগির সার্কুলার

সুদের হার এক অঙ্কে নামাতে শিগগিরই সার্কুলার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ১৪, ১৫, ১৬ শতাংশ সুদের হার হিসাব করে কী লাভ, দিতে পারবে না; এতে শুধু খেলাপি ঋণই বাড়বে। একই সঙ্গে এখন থেকে সরল সুদে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে সুদের হার এক অঙ্কে নামানোর ঘোষণা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

গত বছরের জুলাই থেকে ব্যাংকের মালিকরা ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ এবং আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ (নয়-ছয়) সুদহার কার্যকরের ঘোষণা দেন। কিন্তু গত এক বছরেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি তাঁরা। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামেনি। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক ব্যবসার অনুমোদন যারা দেয়, তারা বাতিলও করতে পারে। সুতরাং এক অঙ্কের সুদহারসহ বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি জানান, এ মুহূর্তে সরকারিসহ মোট ১৬টি ব্যাংক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এক অঙ্কের সুদ নিচ্ছে। ধীরে ধীরে সব ব্যাংকই এটা কার্যকর করবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কখন জারি করবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্কুলারটি শিগগিরই জারি করবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ব্যাংক খাতের সব পরিস্থিতি ভালো হয়ে আসবে। তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণসহ ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সংবাদমাধ্যমে সেটা জানানো হবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আগের আইনে তাদের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে তার মধ্য থেকেও যতটুকু আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা তা নিচ্ছি। কিন্তু নতুনভাবে যে আইন আসছে, সেখানে সব কিছুর পরিষ্কার বিবরণ থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত কেউই হবে না বরং সবাই উপকৃত হবে ওই আইনের মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘যারা টাকা নিয়ে গেছে ফেরত না দেওয়ার জন্য, মারার জন্য, তাদের অবস্থা ভালো হবে না। তারা সফল হবে না। কারণ তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

ঋণখেলাপিদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য, অপমানিত করার জন্য, লাঞ্ছিত করার জন্য এখানে আসিনি। কাউকে জেলে ঢোকানোর জন্য এখানে আসিনি। আমার কথা হচ্ছে, আমাদের যে টাকা আজ খেলাপি হয়ে গেছে, সেটা জনগণের টাকা, সরকারের টাকা। এগুলো যেকোনোভাবেই ফেরত পেতে হবে। তবে যে ঋণগুলো ভালো উদ্দেশ্যে নিয়েছে; কিন্তু প্রকৃত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে টাকা ফেরত দিতে পারেনি, তাদের ওপর সরল সুদের বদলে চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপ করা হলে, সেটাও দেখা হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘হঠাত্ করে আমাদের অর্থনীতি বড় হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছুটা সময় প্রয়োজন। আশা করি খুব শিগগির আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব। আমরা চাইলেই একটি ব্যাংক বন্ধ করে দিতে পারি না, কারণ এগুলো আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা। চাইলেই একটি ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়।’

ফারমার্স ব্যাংকের সংকট এবং তা থেকে উত্তরণে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে বেসিক ব্যাংক একটি দুর্দশাগ্রস্ত সময় পার করছে। আমরা তাদেরও বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেই সেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না।’

 

মন্তব্য