kalerkantho

সাভারে পরমাণু শক্তি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরুষ মশাকে বন্ধ্য করে ছাড়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরুষ মশাকে বন্ধ্য করে ছাড়া হচ্ছে

ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা দেশে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক (এসআইটি) উদ্ভাবন করেছেন, যা বিশ্বে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কীট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি শিগগিরই মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান সাভার উপজেলার আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এসআইটি পদ্ধতিটির বিভিন্ন কারিগরি দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিটি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

কীট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা জানান, ডেঙ্গু নিরসনে এসআইটির প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এই পদ্ধতিতে এডিস মশাকে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্য করা হয়। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকায় বন্ধ্য করা পুরুষ এডিস মশা অবমুক্ত করা হবে। ফলে প্রকৃতিতে বিদ্যমান স্ত্রী এডিস মশার সঙ্গে বন্ধ্যকৃত পুরুষ এডিস মশার মিলনে বংশবিস্তার ঘটবে না। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। পাশাপাশি এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি, তাই পরিবেশে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না। এসআইটি পদ্ধতিতে শুধু বন্ধ্য পুরুষ মশাই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। যেহেতু পুরুষ মশা ডেঙ্গুর জীবাণু বহনে অক্ষম, তাই এর মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ বিস্তারের কোনো আশঙ্কা নেই। পুরুষ এডিস মশা মানুষকে কামড়ায় না। এর ফলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের এসআইটি পদ্ধতি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

প্রতিষ্ঠানের কীট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজল শেহেলী জানান, গবেষণাটি এখন ল্যাব পর্যয়ে রয়েছে। এটি বড় পরিসরে করার জন্য শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি চায়নাতে এসআইটি পদ্ধতিটি সফলতা পাওয়ায় বাংলাদেশে এর প্রয়োগ করার প্রস্তাব এলে তাঁরা এসআইটি পদ্ধতির কার্যক্রম হাতে নেন। পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে আগামী তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রতিষ্ঠানের কীট জীবপ্রযুক্তি বিভাগের এসআইটি পদ্ধতির ল্যাব এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) ল্যাব পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সানোয়ার হোসেন, পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এম আজিজুল হক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ, এইআরইয়ের বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সব শেষে তাঁরা গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) ও জাতীয় জিন ব্যাংক স্থাপন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং এনআইবির সেমিনারকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মন্তব্য