kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

টেলিযোগাযোগসেবা নিয়ে গণশুনানিতে অভিযোগ

বিটিআরসি গ্রাহক নয় ব্যবসাবান্ধব সংস্থা

ইমার্জেন্সি ব্যালান্স সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা এবং অফার ৫০টির বেশি নয়

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিটিআরসি গ্রাহক নয় ব্যবসাবান্ধব সংস্থা

মোবাইল ফোন গ্রাহকদের ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের নামে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটররা ৫০টির বেশি প্যাকেজ বা অফার দিতে পারবে না। অপ্রত্যাশিত এসএমএস বা কল নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকের সিম নিষ্ক্রিয় করার পরও ইমো, ভাইবারের মতো অ্যাপস চালু থাকাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানেও উপায় অনুসন্ধান চলছে। নির্ধারণ হতে যাচ্ছে ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সেবা মূল্য। গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণে বিটিআরসির কল সেন্টারের ‘১০০’ নম্বরটি এখন থেকে সপ্তাহে সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে গতকাল বুধবার টেলিযোগাযোগসেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম বিষয়ে বিটিআরসির গণশুনানিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কয়েকজন অভিযোগ করেন, দেশের টেলিযোগাযোগসেবায় নৈরাজ্য চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিটিআরসি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি গ্রাহকদের সেবা ছেড়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ব্যবসাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

শুনানিতে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, মোবাইল ফোন অপারেটরদের ফোরজি সেবার মান সম্পর্কে  অভিযোগ আমলে নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। ২০১৮ সালে এই সেবার লাইসেন্স দেওয়ার পর সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য পাঁচ বছর সময় দেওয়া আছে। মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন সম্পর্কে বলা হয়, এরই মধ্যে ঢাকা শহরের রমনা ও জামালপুর সদরে এ বিষয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিকর মাত্রার রেডিয়েশন পাওয়া যায়নি।

গণশুনানি উপলক্ষে বিটিআরসি আগ্রহীদের আগে থেকে নিবন্ধনের এবং প্রশ্ন, অভিযোগ বা মতামত সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। বিটিআরসির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন নেন ২০২ জন গ্রাহক। তাঁদের মোট এক হাজার ৩১৯টি প্রশ্ন, অভিযোগ বা মতামত ছিল। এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল মোবাইল ফোন অপারেটরদের কলড্রপ ও বিভিন্ন প্যাকেজ (ভয়েস, ডাটা বান্ডেল) এবং এর মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন, সাইবার অপরাধ, মোবাইল ফোনে হুমকি, ফেসবুক ব্যবহারে নিরাপত্তা, মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস, ফাইভ জি, অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, কল সেন্টারের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের সেবাসংক্রান্ত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য টেলিকম সেবা প্রদানকারীর সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়।

বিটিআরসি এদের  মধ্যে বাছাই করে ১৬৫ জনকে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। উপস্থিত হন ১৭ জন। গণশুনানির প্রথমেই বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর এ ধরনের গণশুনানি হয়েছিল। সে সময় গ্রাহকরা যেসব অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানিয়েছিল তা সমাধানে চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

গ্রাহকদের পক্ষ থেকে প্রথম অভিযোগ করেন হোসেন সাজ্জাদ নামের একজন। তিনি বলেন, ‘আমি ভয়েস মেইল সেবা পাচ্ছি না। এ ছাড়া নির্ধারিত মেয়াদ ও পরিমাণের ডাটা কিনেও ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে তা ব্যবহার করতে পারিনি। সেখানে টুজি নেটওয়ার্কই ঠিকমতো কাজ করে না।’ রবির এক গ্রাহকের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ডাটা কিনতে পারেননি। এ ছাড়া ভ্যালু অ্যাডেড সেবা নিয়েছেন তিনবার, কিন্তু চার্জ করা হয়েছে সাতবারের।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের একজন বলেন, ‘যে অবস্থা চলছে তাতে এটাকে সেবা না বলে আমি ব্যবসা বলতে চাই।’ নারায়ণগঞ্জের আব্দুস সালাম বলেন, মাঝরাতেও কম্পিউটারাইজড বিজ্ঞাপনী কল আসে। এটা বিরক্তিকর। হেলালুদ্দীন নামের একজন গ্রাহক টেলিটকের সেবাকেন্দ্রগুলোকে আরো কার্যকর করার প্রস্তাব রাখেন। আব্দুস সালাম নামের এক গ্রাহকের অভিযোগ, গ্রামীণফোনে ১০৯ টাকা রিচার্জ করে প্রতি সেকেন্ডে এক পয়সা কলরেটের প্যাকেজ নিয়েও পাঁচ সেকেন্ডে ১৭ পয়সা চার্জ দিতে হচ্ছে। উম্মে কুলসুম নামের আরেক গ্রাহকের অভিযোগ, তিনি ওয়াইম্যাক্স সেবা পাওয়ার জন্য কিউবিকে টাকা দিয়েও সেই সেবা পাননি। এখন তাদের সেবাও বন্ধ রয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি।

এসব প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জবাব দেন। সেবা ও ব্যবসাসংক্রান্ত প্রশ্নে বলা হয়, মোবাইল ফোন অপারেটররা ব্যবসা করতে না পারলে সেবা দেবে কিভাবে? আর সর্বনিম্ন তিন দিন প্যাকেজের মেয়াদটিই যুক্তিসংগত।

গণশুনানিতে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক ছাড়াও কমিশনার আমিনুল হাসান, রেজাউল কাদের, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মহাপরিচালকরা নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংঘ, মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন, বিটিআরসির লাইসেন্সধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তাদের অ্যাসোসিয়েশনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য