kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বিকিকিনিতে গমগম বসুন্ধরা শপিং মল

নওশাদ জামিল   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিকিকিনিতে গমগম বসুন্ধরা শপিং মল

ঈদ এখনো কিছুটা দূরে। তবে রাজধানীর মার্কেটগুলো জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটায়। ছবিটি গতকাল বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কর্মব্যস্ত জীবনে আগের মতো ঘুরেফিরে কেনাকাটা করাটা রাজধানীবাসীর জন্য বেশ ঝামেলার। কিন্তু ঈদ এলে নতুন জামা-জুতো না কিনলে তো চলে না! ফ্যাশন সচেতন মানুষের কেনাকাটা সহজ করে দিয়েছে রাজধানীর পান্থপথে দাঁড়িয়ে থাকা বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। সুবিশাল এ বিপণিবিতানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবই মেলে। পায়ের স্যান্ডেল থেকে শুরু করে মাথার মুকুট—কী নেই! এ কারণে ঈদ সামনে রেখে এখন গমগম বসুন্ধরা সিটি।

শপিং মলটির যখন যাত্রা শুরু হয় তখন কেউ ভাবতেই পারেনি এটিই হয়ে উঠবে রাজধানীবাসীর কেনাকাটার প্রথম পছন্দ। সারা দেশের অসংখ্য ক্রেতারও বিকিকিনির ভরসার নাম বসুন্ধরা শপিং মল। সুবিশাল মার্কেটের সর্বত্রই যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একই ছাদের নিচে মিলছে সব সামগ্রী। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, তাই গরমে অস্বস্তির সুযোগ নেই। ফলে ক্রেতারা যারপরনাই খুশি। আর তুমুল বিক্রিতে দোকানির মুখেও হাসি।

গতকাল রবিবার বসুন্ধরা সিটি ঘুরে দেখা যায়, উচ্চ ও মধ্যবিত্তের পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও ঈদের কেনাকাটার জন্য বেছে নিয়েছে এ শপিং মল। বেইসমেন্ট থেকে শুরু করে লেভেল-৭ পর্যন্ত সারি সারি দোকান। প্রতিটি দোকানেই রয়েছে নানা পণ্যের সমাহার। পোশাক, শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, প্রসাধনী, গয়না থেকে শুরু করে ঘর-গৃহস্থালির সামগ্রী, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেইলার্স সুবিধা—সবই একসঙ্গে মিলছে এখানে। নামিদামি ব্র্যান্ড থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে দেদার।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের গতকাল ইফতারের আগ মুহূর্তে তরুণ কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হারুন পাশার সঙ্গে দেখা। বিপণিবিতানের লেভেল-৭ ফ্লোরে ‘ফ্রিল্যান্ড’ ফ্যাশন হাউস। সেখান থেকে তিনি কেনেন ঈদের শার্ট। কথা প্রসঙ্গে হারুন পাশা বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। এখানের পোশাকের মানও উন্নত। ফলে এখান থেকেই সব সময় কেনাকাটা করি।’

উত্তরা থেকে সাত বছর বয়সী ছেলে নাহিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তার মা সাবিহা নাহার। ঈদের কেনাকাটার জন্য সাবিহার প্রথম পছন্দ বসুন্ধরা শপিং মল। তিনি বলেন, এখানে প্রশস্ত জায়গা, ঘুরে ফিরে আয়েশ করে কেনাকাটা করা যায়। তা ছাড়া এখানে হাজারো রকমের অপশন। বহু অপশন থেকে বাছাই করে মনমতো জিনিসটা কেনা যায়।

বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে দেশীয় পোশাকের বিশাল সম্ভার ‘দেশীদশ’। ২০০৯ সালে এ বিপণিবিতানের সাত তলায় যাত্রা শুরু করে দেশীয় ১০ ফ্যাশন হাউসের সম্মিলিত ব্র্যান্ড ‘দেশীদশ’। ফ্যাশন হাউসগুলো হলো—সাদাকালো, নগরদোলা, বাংলার মেলা, কে-ক্র্যাফট, নিপুণ, বিবিআনা, অঞ্জনস, দেশাল, রঙ এবং সৃষ্টি। এবার দেশীদশের দশক পূর্তি হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে দেশীদশের দশটি ফ্যাশন হাউসই বর্ণিল সব পোশাক নিয়ে হাজির। সেখানে ক্রেতাদের বিপুল সমাগম। গতকাল বিকেলের দিকে দেশীদশ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের পুরো রংটাই ছুঁয়ে আছে বিশাল পরিসরে দেশীদশে। প্রবেশ মুখে সাদাকালোর আউটলেট। সাদা আর কালোর মিশেলে তাদের সব পোশাক। আর বাকি ৯ ফ্যাশন হাউসজুড়ে সব রঙের সমারোহ, যার প্রতিটিরই রয়েছে নিজস্ব সংগ্রহ এবং  আয়োজনের ভিন্নতা। সবাই নিজেদের নতুন নতুন কালেকশন সাজিয়ে রেখেছে ক্রেতাদের জন্য।

এবার ঈদের কেনাকাটায় বসুন্ধরা সিটির সব লেভেলেই ভিড় লক্ষণীয়। বিশেষত শাড়ি, বাচ্চাদের পোশাক, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ছেলেদের পোশাকের দোকানে ক্রেতা বেশি। লেভেল ২, ৩ ও ৪ নম্বরে রয়েছে বিভিন্ন পোশাক, জুতা ও ইমিটেশনের গয়নাসহ অন্যান্য সামগ্রী। ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা সালোয়ার-কামিজ ও লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। দাম তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আমদানি করা শাড়ির দামও নাগালের ভেতর। আবার পাঁচ শ থেকে সাত শ টাকা দামের শাড়ি কেনারও সুবিধা রয়েছে বসুন্ধরা সিটিতে। ফলে নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের মানুষ ভিড় করছে এ বিপণিতে।

অনেকে পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল কিনে গয়নাও দেখছেন লেভেল-৫-এ। এই লেভেলে সোনা, রুপা ও মুক্তার গয়নার দোকান বেশি। সীমিত পরিসরে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতাও বিক্রি হচ্ছে। লেভেল-৬-এ পাদুকার দোকান বেশি। তৈরি পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশ। লেভেল-৭-এ রয়েছে ইনফিনিটি, এপেক্স, ফাইভ এস, দেশীদশের মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকান। অন্য অনেক লেভেলের চেয়ে এখানে ক্রেতার সংখ্যা বেশি।

এবার ক্রেতাদের জন্য গাড়ি জেতার সুযোগ থাকছে ঈদুল ফিতরের আগের দিন (চাঁদ রাত) পর্যন্ত। অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও কেনাকাটায় ক্রেতাদের জন্য স্ক্র্যাচ কার্ড বাজিমাত ঘোষণা করেছে বসুন্ধরা সিটি। জানা যায়, প্রতি ১৫০০ টাকার কেনাকাটায় একটি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবেন ক্রেতা। যে যত বেশি কেনাকাটা করবেন, সে তত বেশি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবেন এবং পুরস্কার বিজয়ী হবেন। পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট কার, ডায়মন্ড সেট, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, মিনিস্টার ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ডায়মন্ড রিং, স্মার্ট ফোনসহ নানা উপহার সামগ্রী।

 

মন্তব্য