kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

জমির উদ্দিন সরকার বললেন

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করতে পারছেন না দাবি করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সর্বশেষ দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকায় তাঁর মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষতের কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করতে পারছেন না। জাউ খেয়ে কোনো রকমে জীবনধারণ করছেন তিনি।

তিনি বলেন, কারাগারে অবস্থানকালে তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। মারাত্মক জীবন-বিনাশী জীবাণু দ্বারা ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার আশঙ্কা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া ধারণা করা হয়, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে থাকেন বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য, একজন বন্দির মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবল প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে বলেছিলেন, খালেদা জিয়া কোনো দিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই।’

তিনি বলেন, গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে খালেদা জিয়ার কোনো সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাঁকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়ে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানালে ক্ষমতাসীনরা কি আপনাদের কথা শুনবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে শোনাতে হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে আমাদের একসময়। এত চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা প্যারোল চাইব না। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা দরকার। প্যারোল নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। সরকার দাবি না মানলে, যা করলে দাবি মানবে তা করব আমরা।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করছে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার জন্য।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ইনসুলিন নেওয়ার পরও খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার ১৪-১৬ মাত্রায় রয়েছে। মুখের ক্ষতের কারণে তাঁর প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। শুক্রবার তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখে এসেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁর দুই কাঁধের ব্যথা বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুস সালাম, রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য