kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

সুনামগঞ্জে আরেক নেতা খুন

নরসিংদী, রায়পুরা ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো অন্তত তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মির্জারচর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

একই দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের (৩৮) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আটক চারজনের মধ্যে একজন জয়নালকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

নরসিংদী : নিহত দুজন হলেন মির্জারচর ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের কাউনিয়া মিয়ার ছেলে ইকবাল (৩২) ও মির্জারচর মধ্যপাড়া এলাকার রবি মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ (৩১)। গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন সাজ্জাদ হোসেন (২৮), আজিজুল ইসলাম (২৬) ও রহমত উল্লাহ (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের সভাপতি জাফর ইকবাল মানিক ও আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফারুকের বাবা ফিরোজ মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনে জাফর ইকবাল মানিক জয়ী হন। এরপর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানিক ও ফারুকের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। দুজনের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়। প্রতিপক্ষের হামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় দেড় বছর আগে মানিকের সমর্থকরা এলাকা ছাড়ে। আগামী ২৪ মার্চ রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল ভোরে তারা এলাকায় ফিরে আসে। খবর পেয়ে ভোর ৪টার দিকে ফারুকের সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে মানিকের সমর্থকরাও প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালায়। সংঘর্ষে মানিকের পক্ষের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। ফারুকের সমর্থকদের কেউ হতাহত হয়েছে কি না জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুন নাহার লিপি দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আমিরুল হক শামীম সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোট পাঁচজনকে আনা হয়। এর মধ্যে দুজন ছিল মৃত, বাকিরা গুরুতর আহত।

নিহত ইকবালের চাচাতো ভাই মির্জারচর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর ঘেরাও করে ফারুকের নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকরা এবং পার্শ্ববর্তী বাঁশগাড়ি ও চরমধুয়া ইউনিয়নের লোকজন নির্বিচারে গুলি চালায়।’ তিনি দাবি করেন, তাঁদের পক্ষের আরো ১৫ জন আহত হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে আছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মানিক ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরেও এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটেনি। দুটি পক্ষের পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’

রায়পুরা থানার ওসি মহসিনুল কাদির বলেন, ‘আহতদের সঠিক কোনো তথ্য এখনো আমাদের জানা নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

সুনামগঞ্জ : নিহত আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের ছেলে। গতকাল ভোরে ধলাইপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় আটক চারজন হলেন ওই গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মো. সেলিম মিয়া (২৮), মো. ফেরদৌস মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (১৭), মোতালিবের ছেলে শাহিন শাহ (৪০) ও দোকানের কর্মচারী মো. রবি মিয়া (২৫)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টায় ইসলামপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বের হন জয়নাল। গ্রামের একটি দোকানে বসে তিনি ওই চারজনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দেন। গভীর রাতে বাড়ি ফেরার সময় সেলিম মিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জয়নালের বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন সেলিম। এতে তাঁর মৃত্যু হলে লাশ ধলাইপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে ফেলে ওই চারজন চলে যায়। গতকাল জয়নালের লাশ উদ্ধারের পর তাদের আটক করা হয়।

তবে জয়নালের ছোট ভাই মোহাম্মদ হানিফ বলেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা