kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

অসৎ ব্যক্তিদের ব্যাংকের পর্ষদে রাখা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসৎ ব্যক্তিদের ব্যাংকের পর্ষদে রাখা হবে না

ব্যাংকের পর্ষদ খেলার জায়গা নয় মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘এখানে থাকতে হলে ব্যাংকিং সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। যাঁরা ব্যাংকিং বোঝেন না এবং যাঁরা অসৎ তাঁদের পর্ষদে রাখা হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলেছি। প্রয়োজনে আরো বলব। কোনো অবস্থায় তাঁদের রাখব না।’ আসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা থাকবেন তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক ব্যাবসায়িক সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ  ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে সরকারের সবচাইতে দুর্বলতার জায়গাটি হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এখন লিজ-ফিন্যান্সিংয়ের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এই লিজ-ফিন্যান্সিংয়ের সঙ্গে যাঁরা সম্পৃক্ত তাঁদের এক-দুটি বাদে বাকিদের ফোন দিয়েও অফিসে পাওয়া যায় না। তবে প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে প্রত্যেকটা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা করা হবে। এটি কাউকে বিপদে ফেলতে নয়, স্বচ্ছতার জন্য করা হবে।’ এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “সরকার দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমি দুদককে কথা দিয়েছি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলা হবে। আপনারাও দুর্নীতিকে ‘না’ বলবেন এই শপথ নেন।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠাব না; যদি তাঁরা অপরাধ স্বীকার করে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দেন। আর যাঁরা ভালো ব্যবসায়ী, কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সরকার থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই খাতে ভালো লোক আছে, আবার অসাধু লোকও আছে। যিনি অন্যায় করেন এবং যাঁকে অন্যায়ে সাহায্য করেন তাঁরা দুজনই সমান অপরাধী। এখনো পর্যন্ত আপনাদের কেউ আমার কাছে এমন অভিযোগ করেননি যে অমুক ব্যক্তি অসাধু, তাঁকে এই জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করুন। এই জায়গাটিতেই আমি পরিবর্তন আনার কথা বলেছিলাম। মনে রাখবেন, বোর্ডে বা ব্যাংকে অসাধু কোনো কর্মকর্তা রেখে এটা করতে পারবেন না। ওই একজন খারাপই সব অর্জন ম্লান করে দেবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের জন্য উচ্চ খেলাপি ঋণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, এটা ভবিষ্যতে আর বাড়বে না, বরং কমবে। এটা যেন না বাড়ে সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, চলতি অর্থবছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ থেকে ৮.২৫ শতাংশ হবে। এখন পর্যন্ত জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১ শতাংশ রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা