kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পুরান ঢাকায় আরো ১৩ ভবনের পরিষেবা বিচ্ছিন্ন

বাধা উপেক্ষা করে রাসায়নিক মজুদবিরোধী অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুরান ঢাকায় আরো ১৩ ভবনের পরিষেবা বিচ্ছিন্ন

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদাম, পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা অপসারণে অভিযান শুরু করেছে টাস্কফোর্স। ছবিটি গতকাল চকবাজার এলাকার। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাধা উপেক্ষা করে পুরান ঢাকায় রাসায়নিক মজুদ বন্ধ করার অভিযান অব্যাহত রেখেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স। অভিযানের তৃতীয় দিনে গতকাল রবিবার সকাল থেকে ইসলামবাগ ও লালবাগ এলাকায় আরো ১৩টি ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়। শহীদনগরে রাজনারায়ণ রোডে অবৈধ রাসায়নিক ও প্লাস্টিক কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে অভিযানকারী দল। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা টাস্কফোর্স সদস্যদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ভাঙচুর করা হয় বিদ্যুতের একটি গাড়িও। পরে লালবাগ থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা উদ্ধার হন।

এর আগে অভিযানের দ্বিতীয় দিন গত শনিবারও বকশীবাজারের জয় চন্দ্র নাগ রোডে কেমিক্যাল গুদাম, পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিল টাস্কফোর্সের সদস্যরা। ওই দিন বাধার মুখে অভিযান সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নিজে অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপে অভিযান চালিয়ে কেমিক্যাল, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ ১৩টি কারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ভবনের সামনের নন্দ দত্ত রোডের দুটি বাসা থেকে অভিযান শুরু করে টাস্কফোর্স। গতকাল টাস্কফোর্সের মোট পাঁচটি দল আলাদা অভিযান চালায়। দলগুলো পর্যায়ক্রমে  ইসলামবাগ ও লালবাগ এলাকার বিভিন্ন গলির ভেতরে মোট ১৩টি ভবনের (হোল্ডিং) পরিষেবা তথা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় টাস্কফোর্স। এগুলো হচ্ছে আলী আজগর রোডের তিনটি ভবন—২৭, ২৯/২ ও ৩১/বি; লালবাগ কেল্লার মোড় আর এমডি রোডের ২/৩ নম্বর ভবনের পাঁচটি সংযোগ এবং আগাসাদেক রোডের ৯/১, ৮৫, ২৬/৯, ২৬/১০, ২৬/১১ সংযোগ।

এ নিয়ে গত তিন দিনে মোট ৪৭টি ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন করা হলো। এ অভিযান আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে।

টাস্কফোর্সের একটি দলের সঙ্গে থেকে দেখা গেছে, তারা দুপুর ১২টার দিকে রাজনারায়ণ রোডে ২/৩  নম্বর ভবনে অভিযান চালিয়ে প্লাস্টিকের চারটি টিনশেড কারখানা এবং একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকের গুদামের সন্ধান পায়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢাকা জেলা পরিষদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবর্ণা শিরীন ও সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হাসানসহ অন্য সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি লালবাগ থানাকে জানানো হলে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে ওই সব কারখানার গ্যাস, বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযানের শুরুতেই ইসলামবাগ এলাকার হাফেজি হুজুর লেনে সিটি করপোরেশন অভিযান চালানোর সময় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন টাস্কফোর্স কর্মকর্তারা। এ সময় কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ মদদে এলাকাবাসী উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সব বাধা উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখে।

তবে বাধা দেওয়া কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে গতকালও জানা গেছে, কেমিক্যাল বা রাসায়নিক গুদামের বাইরেও অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারখানা উচ্ছেদ এবং পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে।

গতকাল ইসলামবাগের নন্দ কুমার দত্ত রোডের মান্নান মিয়ার ছয়তলা বাড়ি ও একই গলির একটি তিনতলা ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অভিযান শেষে বের হয়ে ইসলামবাগের দিকে যাওয়ার সময় আজগর আলী লেন ও হাফেজী হুজুর লেনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। এ সময় কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা স্লোগান দিতে থাকে, ‘অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান মানি না।’ বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং রোল প্রস্তুতকারক মালিক ও বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ আরো কয়েকজন। বিক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব বলেন, ‘এলাকার সব বাসায় কেমিক্যালের গুদাম নেই। বাসার নিচে গুদাম থাকলেই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।’ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ২৯টি বিস্ফোরক আইটেমের বাইরে অন্য কোনো আইটেমের গোডাউন কিংবা কারখানার ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করে এলাকাবাসীকে সমস্যার মধ্যে ফেলা হচ্ছে। 

অভিযানের বিষয়ে ডিএসসিসির গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য ও ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবর্ণা শিরিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো বাধাতেই অভিযান থেমে থাকবে না।’ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা (সম্পত্তি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যত বাধাই আসুক অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা