kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের অভিমত

বেপরোয়া শিল্পায়নে হুমকির মুখে সুন্দরবন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেপরোয়া শিল্পায়নে হুমকির মুখে সুন্দরবন

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশবিষয়ক বিশেষ রেপোর্টিয়ার জন এইচ নক্স বলেছেন, সুন্দরবনের ওপর অপ্রতিহত শিল্পায়নের হুমকি সারা বিশ্বের পরিবেশের প্রতি হুমকিরই প্রতীকী রূপ। তিনি বলেন, অধিক শিল্পায়ন শুধু এই বনের অনন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন ও অন্যান্য বিপদাপন্ন প্রাণী ধারণকারী ইকোসিস্টেমের ওপরই হুমকি নয়, বরং এই নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই বনের ওপর নির্ভরশীল ৬৫ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্যও হুমকি। তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সংরক্ষিত অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা বাংলাদেশকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

জন এইচ নক্স জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশবিষয়ক বিশেষ রেপোর্টিয়ার হিসেবে দেওয়া সর্বশেষ গণবিবৃতিতে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির যৌথভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি দাবি করা হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার ওই সংবাদ সম্মেলনে জন নক্সের বিবৃতির বাংলা ভাষ্য পাঠ করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের বাফার জোনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রকার শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে, আদালত অবমাননা করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, “সুন্দরবনের অভ্যন্তরে শিল্প-কারখানা গড়ার বিরোধিতাকারীদের নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘তারা আবেগপ্রবণ হয়ে এ কাজ করছে। তারা পরিবেশবাদী কিন্তু পরিবেশবিদ নয়।’ এ কারণে আমরা এ নিয়ে গবেষণা করে ১৩টি প্রতিবেদন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণায়লয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে দিয়েছি ১০ মাস আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের কোনো জবাব আমরা পাইনি।”

বাপার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা রয়েছে। সুন্দরবনের মধ্যে একের পর এক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিদ্যুতের দরকার আছে কিন্তু সেটা দেশ ও পরিবেশ ধ্বংস করে নয়।’ সুন্দরবনে শিল্পায়ন বন্ধের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে একের পর এক শিল্প-কারখানার অনুমোদন দিলে কারখানা থাকবে কিন্তু সুন্দরবন থাকবে না। এটা একসময় মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার মতো বিলুপ্ত সভ্যতার নিদর্শন হয়ে থাকবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দরবনে শিল্প-কারখানার অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির চাপ সরকার কত সহ্য করবে! একসময় যে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম দূষণের জন্য দায়ী ছিল, এখন সেই দেশই দূষণকারী দেশের তালিকায় শীর্ষ চলে এসেছে।’

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ মতিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম, বাপার নির্বাহী সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

মন্তব্য