kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

২৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



২৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১২ জেলার ২৫টি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সোমবার কমিশন সভায় এই তালিকা অনুমোদন এবং তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ৩০০ আসনের বাকি ২৭৫টির সীমানা অপরিবর্তিত রয়েছে। ঢাকার কোনো আসনে পরিবর্তন আসেনি। বরিশাল বিভাগের আসনগুলোও অপরিবর্তিত আছে।

কমিশনের সভা শেষে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা আসনগুলো হচ্ছে—নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, খুলনা-৩ ও ৪, জামালপুর-৪ ও ৫, নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫, সিলেট-২ ও ৩, মৌলভীবাজার-২ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ও ৬, কুমিল্লা-৬, ৯ ও ১০ এবং নোয়াখালী-৪ ও ৫।

পুনর্নির্ধারিত আসন সীমানার গেজেট গতকালই প্রকাশের কথা জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

এদিকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপে এবার ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং সে লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা হলো না।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, সংসদীয় আসনের সীমানা আংশিক পরিবর্তন হলেও ভোটার বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনে ভোটার থাকছে সাড়ে সাত লাখের কাছাকাছি, আবার কোনো আসনে দুই লাখেরও কম।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের ৩০০ সংসদীয় আসন এলাকার মধ্যে ৬০টির কাছাকাছি আসনের সীমানা পরিবর্তন করে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করলেও নানামুখী তদবিরে সেই সংখ্যা কমে আসে। গত ১৪ মার্চ ৪০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই তালিকার ওপর আপত্তি ও দাবির শুনানি চলে। আপত্তি আসে ৬০টি আসন থেকে। এ বিষয়ে ৪০৭টি আবেদন জমা পড়ে। সীমানা পরিবর্তন চেয়ে আবেদনের মধ্যে রংপুরে ৬২, রাজশাহীতে ৪৫, খুলনায় ৪৩, বরিশালে ৮, ঢাকায় ৮২, সিলেটে ১৩২ ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ৩২টি আবেদন আসে।

এর আগে ইসির সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখার দাবি করে। অন্যদিকে বিএনপি ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি করে আসছিল।

যেভাবে পরিবর্তন : আগের সীমানায় নীলফামারী-৩ আসন এলাকা ছিল জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি অংশ। এই আসনের সীমানা শুধু জলঢাকা উপজেলা নিয়ে করা হয়েছে। নীলফামারী-৪ আসনের সীমানা ছিল সদরপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে। এবার তা সদরপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার সবটা নিয়ে করা হয়েছে।

রংপুর-১ আসনের সীমানা ছিল শুধু গঙ্গাচড়া উপজেলা। এর সঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের সীমানা ছিল সদর উপজেলা। এর সঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বাদ রেখে বাকি ওয়ার্ডগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সীমানা ছিল উলিপুর ও চিলমারীর আংশিক এলাকা নিয়ে। এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে শুধু উলিপুর উপজেলা নিয়ে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সীমানা ছিল রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা এবং উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে। এর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলার পুরোটা নিয়ে।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সীমানা ছিল কাজীপুর এবং সদর উপজেলার মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি ও ছোনগাছা ইউনিয়ন নিয়ে। এর সঙ্গে সদর উপজেলার বাহলী ইউনিয়ন যোগ হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-২ আসন ছিল কামারখন্দ উপজেলা ও মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি ও ছোনগাছা ইউনিয়ন বাদে সদর উপজেলা নিয়ে। এবার সদর উপজেলা থেকে বাহলী ইউনিয়নটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা-৩ আসনের সীমানা ছিল খালিশপুর ও দৌলতপুর উপজেলার সম্পূর্ণ এবং খানজাহান আলীর আংশিক নিয়ে। এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং দীঘলিয়া উপজেলার আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন নিয়ে। খুলনা-৪ আসনের সীমানা ছিল দীঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা নিয়ে। তা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দীঘলিয়ার আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন।

সাতক্ষীরা-৩ আসনের সীমানা ছিল আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার সম্পূর্ণ এবং কালীগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে। তা থেকে বাদ পড়েছে কালীগঞ্জের ওই আংশিক এলাকা।

জামালপুর-৪ আসনের সীমানা ছিল সরিষাবাড়ী উপজেলার সম্পূর্ণ এবং জামালপুর সদরের আংশিক এলাকা নিয়ে। এ আসন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে জামালপুর সদরের ওই আংশিক এলাকা। জামালপুর-৫ আসনের সীমানা ছিল জামালপুর সদরের আংশিক এলাকা নিয়ে। এ আসনে সদর উপজেলার সবটাই যোগ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সীমানা ছিল ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে। এ আসনের নতুন সীমানা হয়েছে আলীরটেক ও গোপনগর বাদে সদর উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সীমানা ছিল সদর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে। সদরের আলীরটেক ও গোপনগর ইউনিয়ন, বন্দর উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেট-২ আসন ছিল বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। নতুন সীমানা হয়েছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে। সিলেট-৩ আসন ছিল দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। এর সঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা যোগ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সীমানা ছিল কুলাউড়া উপজেলার সম্পূর্ণ ও কমলগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে। এ আসন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার ওই আংশিক এলাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার-৪ আসনের সীমানা ছিল শ্রীমঙ্গলের সম্পূর্ণ এবং কমলগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে। এবার কমলগঞ্জ উপজেলার বাকি অংশও এ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

নোয়াখালী-৪ আসনের সীমানা ছিল সুবর্ণচর ও দুই ইউনিয়ন বাদে নোয়াখালী সদর নিয়ে। এবার হয়েছে সুবর্ণচর ও নোয়াখালী সদর উপজেলার সবটা নিয়ে। নোয়াখালী-৫-এর সীমানা ছিল কোম্পানীগঞ্জ সদরের আংশিক ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে। এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার পুরোটা নিয়ে।

কুমিল্লা-৬ আসন ছিল সদর উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে। তা পুনর্নির্ধারণ হয়েছে কুমিল্লা আদর্শ সদর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা নিয়ে। কুমিল্লা-৯ আসন ছিল লাকসাম উপজেলা নিয়ে। মনোহরগঞ্জ উপজেলা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনের সীমানা ছিল সদর উপজেলার অংশবিশেষ ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে। এ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলার পুরোটা নিয়ে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা