kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

১৪ দলের সমাবেশে ঘোষণা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি

ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

জঙ্গিদের মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সহযোগিতা করবে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি। আজ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এ কমিটি গঠনের কাজ চলবে। এ ছাড়া জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে সমাবেশ করবে ১৪ দল। গতকাল সোমবার বিকেলে ক্ষমতাসীন জোটের জঙ্গিবাদবিরোধী এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ১৪ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আগামী ১২ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাড়া, মহল্লা ও ওয়ার্ডে জঙ্গি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটিতে থাকবেন শিক্ষক, চিকিৎসক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ সমাজের বিশিষ্টজনরা। এ কমিটি খেয়াল রাখবে এলাকায় নতুন কেউ এসেছে কি না, কারো গতিবিধি সন্দেহজনক হলে থানায় জানাবে। এ ছাড়া কেউ নিখোঁজ থাকলে তাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবে।’

নাসিম বলেন, ‘আগামী ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে অভিভাবক ও নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ থেকে সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখতে ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মায়েদের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ২৪ জুলাইয়ের পর থেকে রংপুর, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের আরো বেশ কিছু অঞ্চলে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করবে, প্রচারণা চালাবে। এসব এলাকায় কারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তা খুঁজে বের করা হবে।’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শিবিরকর্মীরাই এখন আইএসে যোগ দিচ্ছে। খালেদা আগুন দিয়ে বাস পুড়িয়ে সফল হননি। এখন জঙ্গিদের দিয়ে সফল হওয়ার চেষ্টা করছেন। এখন যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে, তার পেছনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যাদের দেশে পুলিশ হত্যা হলেও তারা কিছু বলে না, বাংলাদেশে কিছু ঘটলে তারা খবরদারি করতে আসে। যারা ইরাকে হামলা চালিয়েছিল, তাদের কথায় আমরা নাচব না। আমরা আমাদের মতো এগিয়ে যাব।’

বিএনপি নেতাদের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানের এজেন্ট একাত্তরের ঘাতকদের সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। ঐক্য হবে মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে।’

সমাবেশে জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যারা ইসলামের ক্ষতি করেছে, তারা মানুষের ক্ষতি করেছে। এ আক্রমণের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা ইসলাম পালন করে, তারা নামাজের সময় মানুষ খুন করতে যায় না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘গুলশান হামলার দিন তারেক রহমানের কর্মচারী পরিচয়ে খালেদা জিয়াকে পাকিস্তান ও লন্ডন থেকে টেলিফোন করা হয়। এতে হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া জড়িত এটা কি প্রমাণ করে না?’

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘তিনি প্রথমে জাতীয় ঐক্যের কথা বললেন। দুই দিন পর বললেন, এ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিলে সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে কি আপনার (খালেদা) নির্দেশে এই হামলা, যখন সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ তখন নির্বাচন দিয়ে আপনি কিভাবে সন্ত্রাস বন্ধ করবেন?’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিএনএর চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা। খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবিরোধী আন্দোলনে আপনারা কেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দেন, আমার বোধগম্য নয়। আপনারা কেন তাঁকে এত গুরুত্ব দেন? বিএনপি ও খালেদা জিয়া এখন মৃত।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফিকুর রহমান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ১৪ দলের সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশস্থলে যাওয়ার অনেকটা দূর থেকেই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ২টার দিকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে, দোয়েল চত্ব্বর, বুয়েটের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমাবেশের প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয় আর্চওয়ে। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে সার্চ করে সমাবেশে ঢুকতে দেওয়া হয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যকে তৎপর দেখা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা