kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

ঢাকার প্রতিবাদী বার্তা

আবারও ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করল পাকিস্তান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মীকে রীতিমতো হাত ও চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। গত মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে বাংলাদেশ যে প্রতিবাদ বার্তা দিয়েছে তাতে এ কথাই বলা হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ গত মাসে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে করাচিতে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মীদের ওপর বাড়াবাড়ি রকমের নজরদারির প্রমাণ দিয়ে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানায়।

জানা গেছে, পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাদা পোশাকে পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীরা তুলে নিয়ে গেলেও থানায় সোপর্দ করেনি। হাত বেঁধে ও মাথায় কালো টুপি পরিয়ে গাড়িতে করে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে ঘোরানো হয়।

ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনের গণমাধ্যম শাখার ব্যক্তিগত সহকারী আবরার গত সোমবার পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের মোবাইলে অচেনা এক ব্যক্তি ফোন করেন। ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের ভিসাব্যবস্থা ও হাইকমিশনের ভিসা

কাউন্টার খোলার সময় জানতে চান। কথা বলার ফাঁকে তিনি জাহাঙ্গীরের অবস্থান জানতে চান।

বিষয়টিকে স্বাভাবিক ধরে নিয়েই জাহাঙ্গীর হাইকমিশন থেকে বের হন। কিন্তু পথিমধ্যে ব্যক্তিগত একটি গাড়ি জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এরপর গাড়ি থেকে তিন-চারজন নেমে এসে নিজেদের সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মী বলে দাবি করে তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেওয়া হয়।

পরিচয়পত্র দেখানোমাত্রই ওই নিরাপত্তাকর্মীরা দাবি করেন, এটি আফগানিস্তানের পরিচয়পত্র। তাঁর আসল পরিচয় শনাক্ত করতে তাঁকে সঙ্গে যেতে হবে। জাহাঙ্গীর সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেন।

জানা গেছে, কিছুদূর যাওয়ার পরই জাহাঙ্গীরকে হাতকড়া পরিয়ে বড় একটি কালো টুপি দিয়ে তাঁর মুখ ঢেকে দেওয়া হয়। এভাবে বেশ কিছু সময় ধরে গাড়ি চলার পর কোনো এক জায়গায় তা থামে। এরপর হাইকমিশনে তাঁর পদ, দায়িত্ব ও অন্যদের নাম জানতে চান নিরাপত্তাকর্মীরা। তথ্য দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাহাঙ্গীরকে জানানো হয়, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এরপর আবার গাড়ি চলতে শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। রাত ১২টার পর তাঁকে তাঁর মোটরসাইকেল, পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনসেট ফিরিয়ে দিয়ে সোজা বাসায় চলে যেতে বলেন নিরাপত্তাকর্মীরা এবং তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় ফেরেন।

 

 

মন্তব্য