kalerkantho

জাদুঘরটা আমার নিজ হাতে বানানো

ড. এনামুল হক। স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকজয়ী মিউজিওলজিস্ট, গবেষক এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক। তাঁর জীবনের গল্প শুনেছেন রুদ্র আরিফ। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৯ মিনিটে



জাদুঘরটা আমার নিজ হাতে বানানো

বগুড়ায় বেড়ে উঠেছেন আপনি?

আমার জন্ম বগুড়া শহরে, ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট (সার্টিফিকেটে ১ মার্চ ১৯৩৭)। বাবা এনায়েত আলী ছিলেন সরকারি আমিন। মা রওশন আরা। আমরা তিন ভাই-বোন। বড় ভাই সেকান্দার আলী, ছোট বোন আনোয়ারা বেগম। তাঁরা কেউ এখন বেঁচে নেই। প্রি-প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়ে আমি বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তি হই। সেখান থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক এবং আজিজুুল হক কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করে জেল খাটার কারণে মাঝখানে দুটি বছর নষ্ট হয়েছে। জেল থেকে প্রথমবার তাড়াতাড়ি বের হলেও ১৯৫৫ সালে আবার ধরে নিয়ে গেলে ছাড়া পেতে দেরি হলো। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় অভিভাবকরা বললেন, ‘আবার যদি জেলে যাও, তাহলে সায়েন্সে পড়ে পাস করতে পারবে না। তুমি বরং আর্টসেই পড়ো।’ আমি তাই ইতিহাসে অনার্স পাস করি ১৯৫৯ সালে। ১৯৬০ সালে করি মাস্টার্স পাস।

 

জেলের দিনগুলো কেমন ছিল?

বগুড়া জেলে তখন আমরা ৩৮ জন তথাকথিত রাজবন্দি ছিলাম। নিজেদের মধ্যে একটা কো-অপারেটিভ করে নিয়েছিলাম। সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ কারাবন্দি ছিলেন ম্যানেজার, আর বয়ঃকনিষ্ঠ হিসেবে আমাকে করা হলো ডেপুটি ম্যানেজার। আমার দায়িত্ব ছিল দু-একজন ‘ফালতু’কে সঙ্গে নিয়ে সকালে জেলের রেশন শপ থেকে রেশন আনা। ‘ফালতু’ মানে যারা কম মেয়াদি কয়েদি। ‘ফালতু’রা মাছ-মাংস, চাল-ডাল নিয়ে যেত। আর আমি ডেপুটি জেলারের রুমে বসে আড্ডা দিতাম। একদিন হঠাৎ ডেপুটি জেলার বলে বসলেন, ‘আপনারা ভদ্রলোকের ছেলে, ভারতের দালালি করতে গেলেন কেন?’ আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে, টেবিলের এক পাশ থেকে বাঘের মতো লাফ দিয়ে তাঁর ওপরে গিয়ে পড়লাম। মারতে মারতে গালাগাল করলাম : ‘তুই আমাকে ভারতের দালাল বলিস?’ অন্যরা এসে ছুটাল। পরের দিন বিচার হলো। জেলার সিভিল সার্জনই পদাধিকার বলে ছিলেন জেলের সুপারিনটেনডেন্ট। তিনি এলেন বিচার করতে। আমার বয়স বিবেচনা করে লঘু শাস্তি দিলেন—১৫ দিন সেল পানিশমেন্ট। সাড়ে তিন ফিট চওড়া সেল। কাঠের দরজা। একটা লোহার খাট। আলো দেখা যায় না। তারই মধ্যে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য একটা চাড়ি পাতা। ২৪ ঘণ্টায় একবার মেথর এসে পরিষ্কার করে। সারা দিনে একবার স্বাস্থ্যগত কারণে ১০-১৫ মিনিটের জন্য আমাকে একটু বের করত। বাকি সময় ওখানেই একা বন্দি থাকা। ফলে বন্ধুরা আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেল। আমি সেই সেলে বসে অনেক কবিতা আর গান লিখেছি। পড়েছি ‘মহাভারত’, ‘বাইবেল’ থেকে শুরু করে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর...এঁদের সাহিত্যের বই। এমন কবিতাও লিখেছি, যেগুলো সরকার ও সাধারণ মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধাচারী। এ রকম একটি কবিতা লিখে রেখেছিলাম দেয়ালে। ইন্সপেক্ট করতে এসে জেলার বললেন মুছে ফেলতে। রাজি হলাম না। বললেন, ‘গেটে আপনার মা এসেছেন।’ আমাকে দেখে আম্মা হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। বললেন, ‘তুমি কী সব লিখেছ জেলখানার দেয়ালে? মুছে ফেলো।’ আমি তবু রাজি না। জেলখানার ২০-২৫ ফুট দূরে করতোয়া নদী। আম্মা বললেন, ‘তুমি যদি না মুছো, আমি করতোয়ায় ঝাঁপ দেব!’ তখন আম্মাকে কথা দিলাম, ‘আমি জেল থেকে বেরিয়ে গেলে তো ওরা মুছেই ফেলবে। তবে কথা দিচ্ছি, এই কবিতাটা কখনো ছাপব না।’ এখন পর্যন্ত সেই কবিতা ছাপিনি।

 

মেথর ও রিকশাচালকের সন্তানদের জন্য স্কুল করেছিলেন কখন?

১৯৫৩ সালে, কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আউটডোর খেলাধুলা পারতাম না। একদিন বন্ধুরা জোর করে ক্রিকেট খেলতে নিয়ে গেল। প্রথম বলেই আউট হয়ে বললাম, ‘আমাকে দিয়ে হবে না!’ মাঠ থেকে বের হয়ে, কাছেই মেথরপাড়া, সেখানে গেলাম। ছোট ছেলে-মেয়েদের জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা কোন স্কুলে পড়ো?’ ‘আমরা তো স্কুলে পড়ি না।’ ‘কেন পড়ো না?’ ‘আমাদের স্কুলে ভর্তি করায় না।’ ‘আচ্ছা, তোমাদের জন্য যদি স্কুলের ব্যবস্থা করি, পড়বা?’ ‘হ্যাঁ, পড়ব।’ ‘কাল থেকে তোমরা এই মাঠে বিকেল ৪টার দিকে আসবা।’

ছেলেরা এসে গেল। এদের দেখাদেখি রিকশাচালকদের ছেলেপেলেরাও এলো। সব মিলিয়ে এক শ-এর ওপর। তাদের বইপুস্তক, স্লেট কিনে দিলাম। চার আনা করে চাটাই ছিল। ৫০টা চাটাই কিনে বসতে দিলাম। তাদের খুব উৎসাহ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চাদর পরা যে ছবিটা আমরা দেখি, সেই রকম চাদর গায়ে দিয়ে আমি সকাল ৭টার সময় ওদের পড়াতাম—‘এক দশ এক এগারো...’। লোকজন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে বলাবলি করত, ‘ছেলেটার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল! মেথরের ছেলেদের পড়াচ্ছে!’ কমলেশ সেনসহ আরো তিন-চার বন্ধু মিলে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পড়াতাম। ৯টার পর খেয়েদেয়ে কলেজে যেতাম। ছাত্রসংখ্যা বাড়তে থাকল। এখন তাদের জন্য ঘর করা দরকার। আমাদের বাড়ির সামনে একটা খোলা জায়গা ছিল। সেটার মালিককে বলে, আশপাশের লোকদের কাছ থেকে খড়, বাঁশ, দড়ি...এসব চেয়ে এনে ১৫ ফুট চওড়া, ৬০ ফুট লম্বা একটা খড়ের চালা বানালাম। এর পর থেকে এই ঘরের মধ্যেই ক্লাস। বৃষ্টি পড়ার ভয় নেই আর। আবার সেই ঘরটিকে বিকেলে আমরা সেমিনার রুম হিসেবে ব্যবহার করতাম। বড়দের মধ্যে থেকে কাউকে ধরে নিয়ে আসতাম গল্প শোনতে। তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির লোক।

 

খুব প্রশংসিত হয়েছিল স্কুলটি...

একদিন বিকেলে পৌরসভার ভেকসিনেটর বাড়ি এসে আব্বাকে বললেন, ‘আপনার ছেলে তো সাংঘাতিক কাজ করেছে। কাল করাচির রেডিও পাকিস্তান থেকে তার নামে অনেক ভালো কথা বলেছে।’ আমি শুনে তাজ্জব। কারণ আমাদের তো রেডিও নেই। পরের দিন এলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মরিস। তিনিও একই কথা বললেন। আব্বা খুশি। কিছুদিন পর ম্যাট্রিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছে। দেখলাম, প্রিন্সিপালের দারোয়ান একটা চিরকুট দিয়ে গেলেন পরীক্ষককে। উনি সেটি নিয়ে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এনামুল হক কে আছ?’ ‘স্যার, আমি।’ ‘তুমি কি একটা স্কুল চালাও?’ ‘জি, স্যার।’ “আমেরিকায় আমাদের যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সাহেব, তিনি তোমাকে একটা চিঠি লিখেছেন। আমি চিঠিটা পড়ি : ‘ডন পত্রিকায় দেখলাম, তুমি একটা স্কুল করেছ। আমি তোমাকে অভিবাদন জানাই’।” পরীক্ষক স্যার খুব খুশি। বললেন, ‘তোমার কি কোশ্চেন সলভ হয়েছে?’ ‘জি।’ ‘কী হবে সমাধান, বলো তো?’ বললাম। ‘যাও, তোমার ঠিক হয়েছে। ৫০-এর মধ্যে ৫০ দিলাম।’ তারপর অন্যদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোমাদের কে কী করেছ?’ কেউ বলল, হয়ে গেছে; কেউ বলল, আরেকটু বাকি। স্যার বললেন, ‘যাও! তোমাদেরও হয়ে গেছে!’ সবাইকে ৪২, ৪৪, ৪৮...এভাবে নম্বর দিয়ে দিলেন। তারপর আমাকে বললেন, ‘তোমার স্কুলটা দেখতে যাব।’ নিয়ে এলাম। খুব প্রশংসা করলেন। সেই স্কুলটি তিন বছর চলেছিল। তারপর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ঢাকায় চলে আসি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কেমন ছিল?

ছাত্রজীবনে পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলাম। মাস্টার্সের সময় ঠিক করলাম, রাজনীতিতে আর জড়াব না। বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম। তখন শনিবারে ‘সোস্যাল’ হতো। এক-দেড় ঘণ্টা ধরে শিল্প-সংস্কৃতি-সাহিত্যের অনুষ্ঠান। কোনো দিন কাজী মোতাহার হোসেন, কোনো দিন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ...এ রকম বড় পণ্ডিতদের নিয়ে আসতাম। আমরা নিজেরা গান, কবিতা, আবৃত্তি করতাম। ১৯৫৮ সালে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ‘উত্তরণ’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের করলাম। তখনকার দিনে সাহিত্য পত্রিকা বলতে ছিল সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’। তার ঠিক পরের বছরই আমার সম্পাদনায় এই পত্রিকা। টাকা-পয়সা ছিল না। চাঁদা তুলে চালাতাম। শওকত ওসমান, জহির রায়হান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, শামসুর রাহমান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর...এঁরা লিখতেন। ফলে পত্রিকাটার খ্যাতি বেড়ে গেল। তৃতীয় বর্ষের বর্ষ শুরু সংখ্যাটি ছিল ২৫৬ পৃষ্ঠার। এই পত্রিকায় প্রথম আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীরসহ দেশের নামকড়া ১১ শিল্পীর চিত্রকর্ম ছেপেছিলাম। এর মধ্যে কামরুল হাসান আর গোলাম কিবরিয়ার চিত্রকর্ম দুটি ছেপেছিলাম চার রঙে। এটাই চার রঙে চিত্রকর্ম ছাপানো তখনকার দিনের একমাত্র পত্রিকা। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়সহ কলকাতার ১২ জন লেখকের লেখা ছিল সেই সংখ্যায়। কলকাতায় বন্ধু কমলেশ সেন আমার হয়ে লেখা সংগ্রহ করত। তিন বছর প্রকাশ হয়েছে ‘উত্তরণ’।

 

চাকরিতে যোগ দিলেন কবে?

ছাত্রাবস্থায়ই জাদুঘরে ভলান্টিয়ারি করেছি। ১৯৬২ সালে ঢাকা জাদুঘরে অ্যাসিস্ট্যান্ট কিউরেটরের পদ খালি হলো। কিউরেটর ছিলেন বিখ্যাত আর্কিওলজিস্ট প্রফেসর আহমেদ হাসান দানী। তিনি পেশোয়ারে চলে যাওয়ার আগে আমাকে একটা প্রশংসাপত্র লিখে দিয়ে গেলেন, ‘সে অ্যাসিস্ট্যান্ট কিউরেটর হিসেবে আবেদন করলেও আমি মনে করি কিউরেটর হওয়ার যোগ্য।’ দ্বিতীয়ত, ১১ জন আবেদনকারী থাকলেও কর্তৃপক্ষ শুধু আমাকেই ডেকে পাঠালেন। জাদুঘরের চেয়ারম্যান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মাহমুদ হোসেন। সম্মানিত সদস্য ছিলেন খান সাহেব আবুল হাসনাত আহমাদ, অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবিরসহ কয়েকজন নামি অধ্যাপক। তাঁরা বললেন, ‘তোমাকে আমরা সিলেক্ট করেছি।’ তখন তাঁদের মধ্যে কেউ একজন মাহমুদ স্যারকে বললেন, ‘স্যার, ওকে যে নিয়োগ দিচ্ছেন, ও তো জয়েন করতে পারবে না।’ ‘কেন পারবে না?’ ‘ওর রাজনৈতিক ব্যাপার আছে। পুলিশ রেকর্ডে সে ব্ল্যাকলিস্টেড। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া তো চাকরি হবে না।’ এ কথা শুনে মাহমুদ স্যার বললেন, ‘ওয়েল, আই ডোন্ট কেয়ার ফর পুলিশ রেকর্ড। আই উইল গিভ হিম অ্যাপয়েন্টমেন্ট। ইফ পুলিশ হ্যাভ এনিথিং টু সে, দে উইল কাম টু মি।’ এভাবে নিয়োগ পেলাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট কিউরেটর থেকে ধাপে ধাপে কিউরেটর, ডিরেক্টর হয়ে ডিরেক্টর জেনারেল (মহাপরিচালক) পদ থেকে অবসর নিয়েছি ১৯৯১ সালে।

 

মহাপরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত?

১৯৮৩ সালে মহাপরিচালক হলাম। আহসান মঞ্জিলকে জাদুঘরে পরিণত করার চেষ্টা ২৫ বছর ধরে করেও ব্যর্থ হচ্ছিলাম। ১৯৮৫ সালে এরশাদকে বলে এটি অ্যাকুইজিশন করালাম। সিলেটে কর্নেল এম এ জি ওসমানীর বাড়িটাকেও মিউজিয়াম করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, আগে ছিল ‘ঢাকা জাদুঘর’। সেটা থেকে শাহবাগে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর’ হিসেবে নতুন ভবন তৈরি হলো। আগে ছিল পাঁচ-ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা, এখন হলো তিন লাখ বর্গফুট। তৃতীয় বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসত গবেষণার জন্য। আগে আমরা ১২-১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলাম, এখন ৩৭৫ জন হলো। কাজের পরিধি বাড়ল। গতি বাড়ল। জাদুঘর দেখতে পৃথিবীর প্রথম স্কুল বাস সার্ভিস আমি চালু করেছি ১৯৭৬ সালে। বাংলাদেশে প্রথম ট্রাভেলিং এক্সিবিশন বাস চালু করেছি। এগুলো অবশ্য পরবর্তীকালে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

স্কুল বাস সার্ভিসটি কী ছিল?

আমরা ভেবেছিলাম, জাদুঘর দেখাতে ছাত্র-ছাত্রীদের আনতে হবে। ১৯৭৬ সালে কোনো স্কুলের গাড়ি ছিল না। তখন গণপরিবহনও কম। তাই চাঁদা তুলে ৫২ সিটের একটি বাস কিনেছিলাম। ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের বাস যেত। দিনে চার-পাঁচবার ছাত্র-ছাত্রীদের আনা-নেওয়া করত। আইডিয়াটি এতই আকর্ষণীয় ছিল, ১৯৭৯ সালে লেনিনগ্রাদ (রাশিয়া) থেকে আমাকে এ নিয়ে বক্তৃতা দিতে ডাকল। এ ছাড়া ‘সুন্দর হাতের লেখা’র প্রতিযোগিতা জাদুঘরের পক্ষে বাংলাদেশে আমিই প্রথম চালু করেছি। প্রত্যেক স্কুল থেকে নির্বাচিত চার-পাঁচজনকে পাঠানো হতো। দুই-তিন শ ছাত্র-ছাত্রী হতো এভাবে। তাদের পত্রিকার কাটিং দিয়ে হাতে লিখতে বলতাম।

 

কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বেগ পেতে হয়েছে?

অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি—‘না’। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্টি আমাকে সব সময় সহযোগিতা করেছে। আমি মনে করি, সাহস না থাকলে কাজ করা সম্ভব না। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের সময় ভেবেছি, চাকরি গেলে যাবে। আমি তো অন্যায় করছি না। জাতীয় জাদুঘরের উদ্বোধনের সময় রাষ্ট্রপতি এরশাদের সামনেই স্বাগত বক্তৃতায় আমি ধন্যবাদ দিয়েছিলাম শেরেবাংলা, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুকে। ভয় জিনিসটা আমাকে পেয়ে বসেনি। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখতাম, সেটি সরকারবিরোধী কিংবা জাদুঘরবিরোধী নয়; বরং জনগণের পক্ষের কাজ।

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের ঘটনাটা?

জাদুঘরে একটা অনুষ্ঠান করতাম, ‘স্মরণীয় বরণীয়’। তিন বছর চলেছিল। এখানে একে একে বাংলাদেশের ৮০-৮১ জন কৃতী সন্তানকে স্মরণ করেছি। একজন সভাপতি, তিনজন আলোচক, আর আমি স্বাগত ভাষণ দিতাম। ১৯৯০ সালে আমি এক বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি সচিব হয়েছিলাম। তখন ৫টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কাজ করতাম, তার পর রাত ৯টা পর্যন্ত জাদুঘরে। ১৭ মার্চ আমি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিলাম। কর্মকর্তা, বন্ধু-বান্ধবরা পরামর্শ দিলেন না করার। বললাম, ‘যা হয় হবে! সবারটা করেছি, ওনারটা করব না—এটা তো হয় না।’ ১৬ মার্চ ডিজিএফআইয়ের একজন ডেপুটি ডিরেক্টর এসে বললেন, ‘আমাদের ডিজি সাহেব বলেছেন, আপনি কাল অনুষ্ঠানটা করবেন না।’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা ডিজি সাহেবের ডিসিশন? নাকি প্রেসিডেন্ট তাঁকে বলেছেন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে?’ ‘তা তো জানি না।’ ‘দেখুন, আপনার ডিজি সাহেব যদি বলেন, আই ডোন্ট কেয়ার ফর দ্যাট। আর প্রেসিডেন্ট যদি বলে থাকেন, তাহলে তো বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।’ অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল, আলোচক ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিম, ভাষাসৈনিক গাজীউল হক, সন্তোষ গুপ্ত, ড. আনিসুজ্জামান প্রমুখ। তাঁদের বলে নিয়েছিলাম, যেন রাজনৈতিক আলাপ না করে শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলেন; কিন্তু তাঁরা আড়াই ঘণ্টা ধরে এরশাদকে ধোলাই করলেন। আমার তখন কী অবস্থা, ভাবুন তো! যখন স্বাগত বক্তব্য শুরু করেছি, দেখি দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন শেখ হাসিনা, আবুল কালাম আজাদ, আবদুল মান্নান, তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাকসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। আমি বক্তব্য বন্ধ করে সামনের সারিতে শেখ হাসিনার বসার ব্যবস্থা করলাম। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর এক দল মানুষ শেখ হাসিনাকে, আরেক দল আমাকে ঘিরে ধরল। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে টেলিভিশনের সামনে বসলাম। নিশ্চিত জানি, আমাকে বরখাস্ত করা হবে। দেখি, কিভাবে করে। না, ৮টার সংবাদে, ১০টার সংবাদেও সেই খবর নেই। পরের দিন সব পত্রিকা দেখলাম, না, বরখাস্তের খবর নেই। চার-পাঁচ দিন পর আহসান মঞ্জিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদের সঙ্গে আমাদের একটা মিটিং ছিল। ভাবলাম, মিটিংয়ে ঢুকলেই এরশাদ আমাকে বকাবকি শুরু করবেন। তাই মিটিং শুরুর আগে একা তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। অনুষ্ঠানটির কারণ ব্যাখ্যা করলাম। বকা দূরের কথা, তিনি উল্টো প্রশংসা করলেন। নাটকীয় মানুষ তো, মনে কী, মুখে কী—বোঝা দায়! তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করেননি।

 

আমাদের জাদুঘরটি কতটুকু সমৃদ্ধ?

জাদুঘরটা আমার নিজ হাতে বানানো। অনেক তদবির করতে করতে, ঢাকা জাদুঘর থেকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তর শুরু হয় জিয়াউর রহমানের আমলে, শেষ হয় এরশাদের আমলে। দুজনই আগ্রহের সঙ্গে এ কাজটি আমাকে করতে দিয়েছেন। একসময় আমি নিজেই ঘোষণা দিয়েছি, এটি ‘জাতীয় জাদুঘর’। আজ পর্যন্ত কোনো গেজেট নোটিশিফিকেশন হয়নি। তবু সব জায়গায় এটি জাতীয় জাদুঘর। এ জন্য আমার বিরুদ্ধে নালিশও হয়েছে আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট থেকে : ‘তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বদলে এটিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল মিউজিয়াম করেছেন।’ আরে, এটা তো প্রশংসাই! পৃথিবীর অনেক জাদুঘরই দেখেছি, সেগুলোর সঙ্গে আমাদেরটির তুলনা করা মুশকিল। কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের বয়স ২০০ বছর। আগে সারা ভারতবর্ষে মিলে ছিল ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। যেকোনো নিদর্শন ওখানেই পাঠানো হতো। আমরা ১৯৮৩ সালে শুরু করেছিলাম। নিশ্চিতভাবেই আমাদের হয়তো বিল্ডিং বড় হতে পারে, কিন্তু এখানে যে নিদর্শনাদি রয়েছে, তা অনেক কম।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন?

তখন আমি যুক্তরাজ্যে। প্রতিদিন সকালে প্রথম ট্রেনে অক্সফোর্ড থেকে লন্ডন আসতাম, শেষ ট্রেনে আবার অক্সফোর্ড ফিরতাম। ৯টি মাস এভাবেই ‘বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদে’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছি। সংস্কৃতিমনা লোকজন ছিলেন এই সংগঠনে। পহেলা আগস্ট ট্রাফালগার স্কয়ারে প্রথম বাংলাদেশিরা একত্র হয়ে অনুষ্ঠান করে। সেখানে আমার এক ঘণ্টার চাঙ্ক ছিল। আমি চারটি গান লিখি— দুটি ইংরেজিতে, দুটি বাংলায়। একটা গীতিনাট্যও লিখলাম। নিজেই সুর ও সংগীত করলাম। ১১টা শহরে সেটির পরিবেশনা হলো। ইন্দিরা গান্ধী সেটি দেখে খুব সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। বিবিসির সহায়তায় গানগুলো রেকর্ড করে দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।

 

গীতিনাট্য লিখেছিলেন কয়টা?

মোট ছয়টি। এর মধ্যে ‘হাজার তারের বীণা’ ও ‘রাজপথ জনপথ’-এর সুর দিয়েছেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ। ‘উত্তরণের দেশে’, ‘সূর্যমুখী নদী’, ‘অস্ত্র হাতে তুলে নাও’, ‘নিরবলম্বন’-এর সুর ও সংগীত আমারই। আলতাফের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ১৯৬৩ সাল থেকেই। আমি যেহেতু গণসংগীত করি; রাজনৈতিক বন্ধুরা এখানে-ওখানে নিয়ে যেত। সেবার নওগাঁয় যুবলীগ সম্মেলনে ঢাকা থেকে আলতাফ, আর বগুড়া থেকে আমি গিয়েছিলাম গান গাইতে। গানের মাধ্যমেই পরিচয়। ঢাকায় এসে ঘনিষ্ঠতা। আড্ডা হতো। আমি তেমন গায়ক ছিলাম না। আলতাফের ছিল অসাধারণ গলা। ‘হাজার তারার বীণা’র সুর তিনি এখানে (বনানীর বাসা) বসেই করলেন। তিন-সাড়ে তিন শ রজনী (পরিবেশনা) হয়েছে গীতিনাট্যটির।

 

প্রচুর লেখালেখি করেছেন...

১৯৭০ সালে অক্সফোর্ডে গিয়ে তিন বছর ছিলাম। পিএইচডির সুপারভাইজারের সঙ্গে আমার সাত বছর আগের পরিচয়। অক্সফোর্ড যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘হক, তুমি কী সাবজেক্ট নেবে?’ বললাম, ‘হিন্দু স্কাল্পচার নিয়ে কাজ করতে চাই।’ সেই থেকে শুরু। ছয় শ মূর্তির বিশ্লেষণ করার পর তিনি বললেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, এবার সাবমিট করতে পারো।’ বললাম, ‘সময় যেহেতু আছে, আরো করতে চাই।’ শেষ পর্যন্ত ১৮৬০টি মূর্তি নিয়ে কাজ করেছি। পৃথিবীতে আর কেউ এতগুলো মূর্তির বিশ্লেষণ করেনি। প্রত্নতত্ত্ব ও শিল্পকলায় ইতিহাসভিত্তিক ১২টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছি। গবেষণা করেছি প্রচুর। মূর্তি বিশ্লেষণের বইটি ‘বেঙ্গল স্কাল্পচারস : হিন্দু ইকোনোগ্রাফি আপটু সি. ১২৫০ এ.ডি.’। কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল সেটিকে পুরস্কৃত করেছে। এরপর লিখেছি ‘চন্দ্রাকেতুগড় : অ্যা ট্রিয়েজার হাউস অব বেঙ্গল টেরাকোটাস’। এ বিষয়ে এটিই প্রথম বই। আরো লিখেছি ‘ঢাকা এলিয়াস জাহাঙ্গীরনগর : ফোর হান্ড্রেড ইয়ারস’, ‘ইসলামিক আর্ট হেরিটেজ অব বেঙ্গল’, ‘দ্য আর্ট হেরিটেজ অব বেঙ্গল’, ‘ওয়ারী-বটেশ্বর’, ‘পাহাড়পুর এলিয়াস সোমপুর মহাবিহার : অ্যা ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজ সাইট’ ইত্যাদি।

 

‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’...

যুক্তরাজ্যে থাকার সময় দেখেছি, টিভিতে কেনেথ ক্লর্কের উপস্থাপনায় ‘সিভিলাইজেশন’ নামে একটা প্রগ্রাম হয়। আমার এ রকম একটা প্রগ্রাম করার ইচ্ছা অনেক দিনেরই ছিল। বিটিভি থেকে সাড়া পাইনি। একদিন এক বিয়েবাড়িতে জেনারেল চিশতির সঙ্গে দেখা। তিনি ছিলেন আমার বড় ভাইয়ের ক্লাসফ্রেন্ড। বললেন, “তুমি আগে একটা প্রগ্রাম করতে ‘আমাদের ঐতিহ্য’; এখন করো না কেন?” ‘আমাদের ঐতিহ্য’ সিরিজ ছিল না। হঠাৎ করে একটা পর্ব করতাম। বললাম, ‘ওইটা না, আমার একটা ভাবনা আছে, যদি পারেন, বিটিভিকে বলে দিয়েন।’ আইডিয়াটি তাঁকে শোনালাম। পরের দিন সকালে প্রথমে বিটিভির প্রগ্রাম ম্যানেজার, তার পর জেনারেল ম্যানেজারের টেলিফোন। তারপর সাত বছর চলেছে ‘দেখা হই নাই চক্ষু মেলিয়া’ পাক্ষিক প্রগ্রামটা। এটি করতে গিয়ে বহু জায়গায় বহু লোকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। একবার নাটোর গিয়ে দেখি, পুকুরের ওপর একটা বাঁকানো তালগাছ। তার ওপর এক থুত্থুরে বুড়ি বসে আছেন। বললাম, ‘বুড়ি মা, আপনি কোথায় থাকেন?’ পানির দিকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওই যে আমার ঘর! আমাকে দিয়া গেল রাজা। তার ছাগলগুলা পালতাম। পাকিস্তানিরা এসে ছাগলগুলা ধইরা খাইয়া ফেলল!’ মানে, উনি কল্পনার মধ্যে বাস করেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক জিনিসের দেখা পেয়েছি। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি।’ এই কথার প্রতিক্রিয়ায় আমি এই প্রগ্রামটার পরিকল্পনা করি। মনে মনে বলি, ‘ব্যাটা, তোর সভ্যতা চার শ বছরের, আর আমারটা আড়াই হাজার বছরের পুরনো; দেখ কী আছে আমাদের!’ তাঁকে দেখাবার জন্যও ঠিক নয়; আমার দেশের লোকদের দেখাতেই। কারণ নোয়াখালীর লোক তো নীলফামারী যায় না, ঢাকায় আসে; সাতক্ষীরার লোক সিলেটে যায় না, ঢাকায় আসে। ফলে তাঁরা এইসব জায়গা দেখতে পায় না। আমি তাঁদের দেখাতে চেয়েছি।

 

‘বঙ্গীয় শিল্পকলাচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আপনি...

আমার আর স্ত্রী জুলেখা হকের কাছে ছিল সারা জীবন ধরে সংগ্রহ করা কুড়ি হাজার গবেষণাগ্রন্থ। চাকরি ছাড়ার পর ভাবলাম, বাংলাদেশে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ কেউই ‘বেঙ্গল আর্ট’ পড়ায় না। ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে মিটিং করলাম। তাঁরা পড়াতে রাজি হলেন। কিন্তু পরে বললেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল বলেছে, এ বিষয়টা মার্কেটেবল নয়!’ কী করব। স্ত্রীকে বললাম, ‘চলো, দুজনে মিলে একটা কিছু করি।’ আমাদের এই বাড়ির নিচতলায় ও ওপরের দুটি ঘরে ‘বঙ্গীয় শিল্পকলাচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করলাম। মূলত আমি আর আমার মেয়ে কবি তৃণা হকের অর্থায়নে এর যাত্রা শুরু। এটির প্রকাশনা ‘জার্নাল অব বেঙ্গল আর্টে’র ২৫তম সংখ্যা এখন ছাপাখানায়। ডিসেম্বরে সংগঠনটির সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করা হবে।

 

শিক্ষকতাও করেছেন...

পাঁচ-ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। ওখানে পড়ালেখার সিস্টেমই আলাদা। ওদের সঙ্গে আমি ঠিক মানিয়ে নিতে পারিনি।

 

ব্যক্তিগত জীবন...

আমার শ্বশুর অধ্যাপক এ বি এম হাবিবুল্লাহ ভারতবর্ষের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ছিলেন। তাঁর ‘দ্য ফাউন্ডেশন অব মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া’ এখনো বহুল পঠিত বই। তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান জুলেখা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই আমার সরাসরি সহপাঠিনী। সে-ও খুব মেধাবী ছিল। চারটি বই লিখেছে। মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছে। আমরা দুজন একসঙ্গে পড়েছি এবং পরবর্তীকালে একসঙ্গে গবেষণা করেছি। এই যে দেশ-বিদেশ ঘুরেছি, শতকরা নব্বই ভাগ একসঙ্গেই। আমরা বিয়ে করেছি ১৯৬২ সালের ২ এপ্রিল। আমাদের দুই সন্তান তৃণা হক ও সমুদ্র হক ওয়াশিংটনে থাকে। মেয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে চাকরি করে; ছেলে স্পেস সায়েন্সে পিএইচডি করছে। জুলেখা মারা গেছে ২০১৪ সালে।           

(বনানী, ঢাকা; ২৬ জুলাই ২০১৯)

মন্তব্য