• ই-পেপার

অন্যের ক্ষতি চাইলে নিজেরই ক্ষতি হয়

  • মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৮০

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন, যেন তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান দৃঢ় করে নেয়, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীগুলো আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। এটা এ জন্য যে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে...।

(সুরা : ফাতহ, আয়াত : ৪-৫)

আয়াতদ্বয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আল্লাহর আনুগত্যের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. আয়াতে অন্তরের প্রশান্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে সাহাবিদের অন্তরে সৃষ্ট মনঃকষ্ট ও গ্লানি দূর করা।

২. হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় উমর (রা.) বলেন, আমরা সত্য দ্বিনের অনুসারী। তাহলে কেন দ্বিনের ব্যাপারে আমরা হীনতা মেনে নেব? রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দেন, আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আমি কখনো তাঁর আদেশের অবাধ্য হবো না এবং তিনি কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না।

৩. আল্লাহর অনুগ্রহে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মুমিনরা শুধু এই বাহ্যিক গ্লানি মেনে নেয়নি, বরং তাদের ঈমানি দৃঢ়তাও বৃদ্ধি পায়।

৪. নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার পুরস্কার হলো পাপ মুক্তি ও জান্নাত লাভ।

৫. সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং দ্বিনের ওপর অটল থাকাকে আয়াতে মহাসাফল্য বলা হয়েছে।

  (জাদুল মাসির : ৭/৪২৫)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

মসজিদের পুরনো দেয়াল কি সংরক্ষণ করতে হবে?

প্রশ্ন : মাটি দ্বারা নির্মিত একটি মসজিদের চতুর্দিকে তিন হাত করে জায়গার ওপর দেয়াল ছিল। কর্তৃপক্ষ পাকা করার সময় উত্তর দিকের দেয়ালের জায়গা বাদ দিয়ে দেয়, অর্থাৎ যে তিন হাত জায়গার ওপর মাটির দেয়াল ছিল ওই জায়গাটি পাকা দেয়ালের বাইরে থেকে যায়। আমার জানার বিষয় হলো দেয়াল ইসলাম নির্দেশিত মসজিদের অন্তর্ভুক্ত কি? হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী? জায়গাটি অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে কি?

শাহ নূর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে মূল মসজিদের দেয়াল মসজিদের অংশ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে বিধায় পুরনো দেয়ালের অংশটুকু মসজিদ হিসেবে সংরক্ষণ করা জরুরি। মসজিদসংশ্লিষ্ট নয়, এমন কাজে ওই স্থানটি ব্যবহার করা যাবে না। (আল মুহিতুল বুরহানি : ৯/১৩৭, আল বাহরুর রায়েক : ৫/৪২১, রহিমিয়া : ৬/১৩)

অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আইয়াতাখব্বাতানিশ শায়তানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।

সূত্র : আবুল ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরূপ দোয়া করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫২)

জিজ্ঞাসা

কবরে ফলক স্থাপন করা যাবে কি

আমার নাম ওমর ফারুক মজুমদার। ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকায় থাকি। কিছুদিন আগে আমার শাশুড়ি ইন্তেকাল করেছেন। সন্তানরা তাঁর কবরে একটি ফলক স্থাপন করতে চাচ্ছে। যেভাবে ঢাকা শহরের প্রায় সব কবরস্থানে ফলক স্থাপন করা হয়। যেখানে মৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, জন্মসন, মৃত্যুসন ইত্যাদি থাকে। তাদের দাবি, ফলক স্থাপন করলে তারা সহজেই মায়ের কবর চিহ্নিত করতে পারবে এবং জিয়ারত করতে পারবে। আমার প্রশ্ন হলো, কবরের ওপর মৃত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সংবলিত ফলক স্থাপন করা কি জায়েজ?

মুফতি আবদুল্লাহ নুর
কবরে ফলক স্থাপন করা যাবে কি

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, চেনার জন্য কবরের ওপর নাম-ঠিকানা সংবলিত ফলক লাগানো বা অন্য কোনো চিহ্ন দেওয়া জায়েজ। শুধু কবর চিহ্নিত করে রাখার জন্য এমনটি করা নিষেধ নয়, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা নাম-ঠিকানা ছাড়া অন্য কিছু লেখা জায়েজ নয়। যেমন কোরআনের আয়াত, কবিতা কিংবা প্রশংসা-স্তুতিমূলক বাক্য ইত্যাদি লিখে রাখা নিষেধ। একইভাবে অহংকার-অহমিকা প্রকাশ পায় এমন কিছু লেখাও নিষিদ্ধ। যেমনসাবেক মন্ত্রী, এমপি, শিল্পপতি ইত্যাদি।

বৈধতার প্রমাণ হিসেবে ফকিহরা নিম্নোক্ত হাদিসটি পেশ করেন। হাদিসে এসেছে, উসমান ইবনে মাজউন (রা.) ইন্তেকাল করার পর তাঁর দাফন শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) একজনকে একটি পাথর নিয়ে আসার আদেশ দেন। কিন্তু সেই সাহাবি তা বহন করে আনতে সক্ষম হননি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) পাথরটি নিজেই বহন করে উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর মাথার কাছে এনে রাখেন এবং বলেন, এর দ্বারা আমার (দুধ) ভাইয়ের কবর চিহ্নিত করে রাখলাম এবং পরে আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে এর কাছাকাছি দাফন করব।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৩২০৬)

আর বিধি-নিষেধের ব্যাপারে তাঁরা এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন। জাবের (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) কবর পাকা করা, তার ওপর লেখা, কবরের ওপর ঘর নির্মাণ করা এবং তা পদদলিত করা থেকে নিষেধ করেছেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৫২; তাবয়িনুল হাকায়িক : ১/৫৮৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২২৬)

আল্লাহ সব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।