পৃথিবীতে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প অন্যতম ভয়াবহ। মুহূর্তের মধ্যেই এটি জনপদ ধ্বংস করে দিতে পারে, হাজারো মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে এবং মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। ইসলাম ভূমিকম্পকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির নিদর্শন এবং মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে।
মানুষ যত উন্নত প্রযুক্তির মালিক হোক না কেন, মহান আল্লাহ তাআলার শাস্তির সামনে তারা অসহায়। যেমন—উন্নত দেশগুলোতেও কখনো ভূমিকম্প দেখা দিলে তাদের উন্নত দালানকোঠাসহ মাটিতে ধসে যেতে দেখা যায়। তখন অসহায় মানুষগুলোর কাছে আল্লাহর দয়া ছাড়া আর কোনো প্রযুক্তিরই কোনো অর্থ থাকে না। মানুষের এই দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি তোমাদের নিরাপদ মনে করে নিয়েছ যে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের জমিনে বিধ্বস্ত করে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে?’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)
এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এগুলো আল্লাহর প্রবল শক্তির নিদর্শন। যে নিদর্শন দিয়ে অতীতে বহু জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আবার কখনো কখনো স্রেফ সতর্ক করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ এসব নিদর্শন দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন, যাতে তারা তাদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনো কখনো সতর্ক করার জন্য পাঠানো হয়, যাতে তারা নিজেদের ভুলত্রুটি উপলব্ধি করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্প কিংবা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলার সুযোগ নেই। কারণ কোনো দুর্যোগ কারো জন্য পরীক্ষা, কারো জন্য সতর্কবার্তা এবং কারো জন্য মর্যাদা বৃদ্ধির কারণও হতে পারে। কাকে কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছেন, সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকে হাদিস শরিফে কিয়ামতের পূর্বাভাস বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম (জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। হারজ মানে হলো খুনখারাবি। তোমাদের ধনসম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে উপচে পড়বে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩৬)
তাই মুমিনের উচিত, সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা। বিশেষ করে ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে, দ্রুত আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা। কারণ গুনাহ আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে আর তাওবা আল্লাহর রহমত লাভে সহায়তা করে। মানুষ আল্লাহর দয়া ও রহমত ছাড়া অসহায়।