kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আদম (আ.)-এর কবর কোথায়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আদম (আ.)-এর কবর কোথায়

নবী-রাসুলদের জীবন-মৃত্যু নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের সাধারণ কৌতূহল আছে। এমনকি কোন নবীর কবর কোথায় তা নিয়ে আছে তাদের কৌতূহল। তবে নবী মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া আর কোনো মানুষের কবরের স্থান সুনিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যায় না।

নবী-রাসুলের কবর সম্পর্কে যা জানা যায় : মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া পৃথিবীর কোনো নবীর দাফনের স্থান অকাট্যভাবে চিহ্নিত নয়। কোনো আলেম বলেন, ফিলিস্তিনের খলিল নামক স্থানে ইবরাহিম (আ.)-এর কবর চিহ্নিত আছে। আর কেউ কেউ বলেন, তাঁর মৃত্যুর স্থান প্রমাণিত কিন্তু তাঁকে কোথায় দাফন করা হয়েছে তা জানা যায় না। এ ছাড়া নবী-রাসুলের কবর বা দাফনের স্থান সম্পর্কে যা জানা বা শোনা যায় তার কোনোটাই প্রমাণিত নয়, মনগড়া কথা। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘নবীদের কবর বিষয়ে আলেমরা শুধু নবী (সা.)-এর কবরের ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। কেননা তাঁর কবরের বিষয়টি অবিচ্ছিন্ন ও বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। এমনিভাবে তাঁর দুই সঙ্গীর (আবু বকর ও ওমর রা.) কবরের ব্যাপারেও আলেমরা একমত। ইবরাহিম (আ.)-এর কবর বিষয়টি হলো : বেশির ভাগ মানুষ জানে এটা তাঁর কবর। তবে একদল আলেম তা অস্বীকার করেন। ইমাম মালিক (রহ.) তাঁদের একজন। তিনি বলেন, আমাদের নবী ছাড়া পৃথিবীতে কোনো নবীর কবর সম্পর্কে (নিশ্চিতভাবে) জানা যায় না। তবে বেশির ভাগ মানুষ স্থানটিকে ইবরাহিম (আ.)-এর কবর হিসেবে জানে। এ বিষয়ে বহু প্রমাণাদিও আছে। আহলে কিতাবরাও স্থানটিকে ইবরাহিম (আ.)-এর কবর হিসেবে জানে।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া : ২৭/৪৪৪)

নবীদের কবর অনুসন্ধানের বিধান : নবী-রাসুলদের কবর অনুসন্ধানের ব্যাপারে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘নবী-রাসুলদের কবর চিহ্নিত করার মধ্যে ধর্মীয় কোনো কল্যাণ নেই। তা সংরক্ষণ করা দ্বিনের অংশ নয়। যদি তা দ্বিনের অংশ হতো তবে আল্লাহ তার দ্বিনের মতোই কবরগুলো রক্ষা করতেন। যারা এগুলো অনুসন্ধান করে তাদের বেশির ভাগের উদ্দেশ্য হলো সেখানে নামাজ আদায় করা, দোয়া করা ইত্যাদি। যা বিদআতের অংশ এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া : ২৭/৪৪৪)

বেশির ভাগ কবরের দাবি ভিত্তিহীন : শায়খ আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহ.) বলেন, ‘আমাদের নবী (সা.)-এর কবর ছাড়া আর কোনো নবীর কবর সম্পর্কে জানা যায় না। যারা ‘উমান’ বা অন্য কোনো স্থানে কোনো নবীর কবর হওয়ার দাবি করে সে মিথ্যাবাদী। তার দাবি সঠিক নয়। তবে মদিনাতে অবস্থিত আমাদের নবীর কথা ভিন্ন। এমনিভাবে ফিলিস্তিনে ইবরাহিম (আ.)-এর কবরের স্থান সম্পর্কে জানা যায়। অন্য নবীদের কবর সম্পর্কে জানা যায় না।’ (নুর আলাদ-দারবি, শারিত : ৬৪২)

আদম (আ.)-এর কবর কোথায়? : আদম (আ.)-কে কোথায় দাফন করা হয় সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ তিনটি মত হলো—ক. ভারতবর্ষের যে পাহাড়ে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, খ. মক্কার জাবালে আবু কুবাইস, গ. বায়তুল মুকাদ্দাস। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এক বর্ণনায় এসেছে মৃত্যুকালে আদম (আ.)-এর বয়স হয়েছিল এক হাজার বছর। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া : ১/১২৬-১২৯)। তবে আদম (আ.)-এর কবর কোথায় তা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না। যারা বিভিন্ন স্থানকে আদম (আ.)-এর কবর বলে দাবি করে, তাদের দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে এ ব্যাপারে কিছু অগ্রহণযোগ্য মতামত পাওয়া যায়। যেমন সুনানে দারাকুতনির সূত্রে বর্ণিত আছে, ‘জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদুল খায়ফে আদম (আ.)-এর জানাজা নামাজ পড়েন।’ আল্লামা ইবনে আসাকি (রহ.) বর্ণনাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। (আদ-দুর আল-মানসুর : ৩/৩৩৪)

এমনিভাবে মসজিদুল হারামে ইসমাইল (আ.)-এর কবর হওয়ার দাবিটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা



সাতদিনের সেরা