kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

নবী-জীবনী

যেভাবে কোরআন নাজিলের সূচনা

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে কোরআন নাজিলের সূচনা

নবুয়ত লাভের প্রায় তিন বছর আগে থেকে মহানবী (সা.)-এর ভেতর নির্জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। তিনি হেরা গুহায় ইবাদত ও ধ্যান করতেন। মক্কা থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থিত এই গুহার দৈর্ঘ্য ছিল চার গজ এবং প্রস্থ ছিল পৌনে দুই গজ। খাদিজা (রা.)ও কখনো কখনো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী হতেন। তবে তিনি গুহায় অবস্থান না করে আশপাশে কোথাও অবস্থান করতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য খাবার নিয়ে যেতেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি পথিকদের পানি পান করাতেন এবং খাবার খাওয়াতেন। (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৮৩)

রমজান মাসে কোরআন নাজিলের সূচনা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

বেশির ভাগ সিরাত রচয়িতার মতে, ১৭ রমজান (৬ আগস্ট ৬১০) কোরআন নাজিলের সূচনা হয়। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর ছয় মাস ১২ দিন। (নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ১২৪)

ওহি নাজিলের সূচনা সম্পর্কে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, “হেরা গুহায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফেরেশতা এসে বলল, ‘পাঠ করুন’। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আমি বললাম, ‘আমি পড়তে জানি না। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিল যে আমার খুব কষ্ট হলো। এভাবে তিনবার করার পর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক অতিশয় দয়ালু। (সুরা আলাক, আয়াত : ১-৩)

এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের কাছে এসে বললেন, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কোরো, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কোরো। তারা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শঙ্কা দূর হলো। তখন তিনি খাদিজা (রা.)-এর কাছে ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি। খাদিজা (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, কখনোই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩)

বিস্ময়কর বিষয় হলো, একজন উম্মি (নিরক্ষর) নবীর ওপর অবতীর্ণ প্রথম ওহি ছিল পাঠ করুন। সাইয়েদ আবুল হাসান নদভি (রহ.) বলেন, ‘প্রথম অবতীর্ণ ওহিতে কলমের উল্লেখ যা একজন নিরক্ষর লোকের ওপর, একটি নিরক্ষর জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে এমন একটি দেশে নাজিল হলো, যেখানে কলমের অস্থিত্ব কদাচিৎ পাওয়া যেত। যেখানে লেখাপড়া জানা লোক আঙুলে গোনা যেত, তা এই ধর্ম ও এর ধারক-বাহক উম্মতের লেখাপড়া ও কলমের সাহায্যে কাজ করার যোগ্যতা এবং এর দ্বারা তার চিরস্থায়ী ও মজবুত সম্পর্ক চিহ্নিত করে দিয়েছে।’ (নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা ১২৪)

আর মহানবী (সা.)-এর উম্মি বা নিরক্ষর হওয়ার রহস্য সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি এর আগে কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বহস্তে কোনো কিতাব লেখেননি যে মিথ্যাচারীরা সন্দেহ পোষণ করবে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৪৮)

 

গ্রন্থনা : আতাউর রহমান খসরু।

মন্তব্য