kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

ইসলামের দৃষ্টিতে অনলাইন বেটিং

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামের দৃষ্টিতে অনলাইন বেটিং

ইদানীং কিছু ফেসবুকার ও ইউটিউবারের মুখে অনলাইনে টাকা উপার্জনের কিছু অভিনব ও চটকদার বিজ্ঞাপন শোনা যায়। যার মধ্যে একটি হলো অনলাইন বেটিং। যাকে সহজ বাংলায় অনলাইন জুয়া বলা হয়। অনলাইন জুয়া আর সাধারণ জুয়ার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই। এখানেও বিভিন্ন লিগ খেলাকে কেন্দ্র করে বেটিং তথা বাজি ধরা চলে। আয়োজকের ভূমিকায় থাকে একটি ওয়েবসাইট। সাইটগুলো নেট দুনিয়ায় ‘বেটিং সাইট’ নামে পরিচিত।

দেশে বিভিন্ন নামে বেটিং সাইট রয়েছে। এসব সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে নিবন্ধিত হতে হয়। তারপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কার্ড বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে জুয়ায় অংশ নিতে হয়। যারা অনলাইন-ইন্টারনেট কম বোঝেন, তাদের জুয়ায় সহযোগিতা করার জন্য রয়েছে দালালচক্র। যারা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে বাজিতে অংশ নেওয়ার নিয়ম ইত্যাদি শিখিয়ে দেয়। এরপর চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে তা ডলারে রূপান্তরিত করে জুয়াড়িদের অ্যাকাউন্টে জমা করে দেয়। মূলত বিভিন্ন দেশের ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বড় খেলার আসর ও খেলোয়াড়দের নিয়ে এসব জুয়ার আসর বসে। আর দালালচক্রগুলো মানুষকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে, ডলারের ব্যবস্থা ইত্যাদি করে দিয়ে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিদেশে পাচার হয়ে যায় কোটি কোটি টাকা। কারণ বিদেশি জুয়ার সাইটগুলোর এজেন্টরা (দালালরা) জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা ক্রেডিট কার্ড ও ই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেটিং সাইটের মালিকদের কাছে পাচার করে। এরপর বেটিং সাইট ডলার পাওয়ার পর জুয়াড়িদের অ্যাকাউন্টে সেই পরিমাণ প্রদর্শন করে।

তাদের এই ধোঁকার ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন অনলাইন এক্টিভিস্টদের দিয়ে এমনভাবে প্রচারণা চালানো হয় যে অনেক কম শিক্ষিত মানুষ এই জুয়াকে ফ্রিল্যান্সিং ভাবতে শুরু করে। ফলে সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য সর্বনাশা ও ঈমানবিধ্বংসী জুয়ার পথে পা বাড়ায়। 

এ ধরনের খেলা মানুষের দুনিয়া-আখিরাত উভয় জাহানের জন্যই ক্ষতিকর। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ ধরনের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ঘটাতে এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে। তবে কি তোমরা বিরত হবে না?’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৯০-৯১)

উপরোক্ত আয়াতে কিছু কাজকে শয়তানের কর্ম বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জুয়া অন্যতম। মহান আল্লাহ এসব কাজ হারাম করেছেন।  আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মদ পান, জুয়া খেলা ও ঢোল-তবলাকে হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৮৫)

অতএব কোনো মুসলমান এ ধরনের হারাম কাজে কোনোভাবেই আত্মনিয়োগ করতে পারে না। তা ছাড়া, জুয়া অনলাইনে হোক আর অফলাইনে দুটোই দেশের জন্য হুমকি। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি টাকা বাইরে পাচার হয়ে যায়। সংক্ষেপে বড়লোক হওয়ার নেশায় বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। কেউ কেউ হতাশার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দুনিয়া থেকেই চলে যায়। ফলে তাদের পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে জুয়া আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বহু মানুষের দুনিয়া-আখিরাত বিনষ্ট হচ্ছে। মহান আল্লাহ সবাইকে এ ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা