kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কেমন হবে জান্নাতের ঝরনাধারা

মো. আবদুল গনী শিব্বীর   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেমন হবে জান্নাতের ঝরনাধারা

জান্নাত আরবি শব্দ। এর অর্থ বাগান, উদ্যান, নয়নাভিরাম দৃশ্য, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ইত্যাদি। পরিভাষায় জান্নাত বলতে এমন স্থানকে বোঝায়, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। জান্নাত দিগন্তবিস্তৃত নানা রকম ফুলে ফুলে সুশোভিত সুরম্য অট্টালিকাসংবলিত মনোমুগ্ধকর বাগান, যার পাশ দিয়ে প্রবহমান বিভিন্ন ধরনের নদী-নালা ও ঝরনাধারা। যেখানে চিরবসন্ত বিরাজমান। জান্নাত চিরশান্তির জায়গা। সেখানে আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি, আমোদ-প্রমোদ, চিত্তবিনোদন ও আনন্দ-আহ্লাদের চরম ও পরম ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ভোগ-বিলাস ও পানাহারের আতিশয্য। জান্নাতিরা যা কামনা করবে কিংবা কোনো কিছু পাওয়ার আহ্বান জানাবে, সব কিছু পাবে। জান্নাত হলো এমন জায়গা, যেখানে বান্দার কোনো চাওয়াই অপূর্ণ হবে না। আজ আমরা আলোচনা করব জান্নাতের ঝরনা নিয়ে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘পরহেজগারদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা এমন—তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়। পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্য আছে রকমারি ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেজগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদের পান করতে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, অতঃপর তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?’

(সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৫)

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা মতে জান্নাতের অমিয় সুধাধারা চারটি। এগুলো জান্নাতের নদীতে প্রবাহিত হবে। জান্নাতের এ নদী বা নহরগুলো হলো, সুপেয় পানির নহর, নির্মল দুধের নহর, বিশুদ্ধ শরাবের নহর, পরিশোধিত মধুর নহর। এ নদী বা নহর ছাড়াও আরো তিন ধরনের ঝরনা জান্নাতে চিরকালীন প্রবাহিত থাকবে, সেগুলো হলো ক. কাফুর নামক ঝরনা। এর পানি সুঘ্রাণযুক্ত ও সুশীতল খ. সালসাবিল নামক ঝরনা। এর পানি ফুটন্ত চা ও কফির মতো সুগন্ধি ও উত্তপ্ত থাকবে। গ. তাসনিম নামক ঝরনা, এর পানি থাকবে নাতিশীতোষ্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জান্নাতে রয়েছে পানির সাগর, মধুর সাগর, দুধের সাগর, শরাবের সাগর। এরপর সেগুলো থেকে আরো নালা প্রবাহিত করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫৭১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, জান্নাতের প্রবেশমুখ থেকে উৎসারিত বারেক নামের একটি নহর রয়েছে, শহীদরা আলমে বারজাখে এ নহরের পাশে থাকবে। (মুসনাদ আহমদ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, জান্নাতের প্রবেশমুখ থেকে উৎসারিত বারেক নামক নহরের পাশে শহীদরা থাকবে। আর নহরটি সবুজ গম্বুজবিশিষ্ট হবে, প্রত্যেক সকাল ও বিকেল বেলায় সেখান থেকে জান্নাতিদের রিজিক দেওয়া হবে। (মুসতাদরাক হাকেম)

উপরোক্ত চারটি নহর ও তিনটি ঝরনা ছাড়াও আরো একটি নহর রয়েছে, যেটিকে ‘কাউসার’ বলে। এ নহর সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে আমাদের সামনে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ তাঁর মধ্যে তন্দ্রা অথবা একধরনের অচেতনতার ভাব দেখা দিল। অতঃপর তিনি হাসিমুখে মাথা ওঠালেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসুল, আপনার হাসির কারণ কী? তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহসহ সুরা আল কাউসার পাঠ করলেন এবং বলেন, তোমরা জানো, কাওসার কী? আমরা বললাম, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন। তিনি বলেন, এটা জান্নাতের একটি নহর। আমার রব আমাকে এটা দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন। এতে অজস্র কল্যাণ আছে। এই হাউস থেকে কিয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পান করতে যাবে। এর পানি পান করার পাত্রসংখ্যা আকাশের তারকাসম হবে। তখন কিছু লোককে ফেরেশতারা হাউস থেকে হটিয়ে দেবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার উম্মত। আল্লাহ তাআলা বলবেন, আপনি জানেন না, আপনার পরে তারা নতুন মত ও পথ অবলম্বন করেছিল। (মুসলিম ও মুসনাদ আহমাদ)

মহান রাব্বুল আলামিন ঈমানদার, মুত্তাকি ও নেক বান্দাদের মধ্যে আমাদের শামিল করে জান্নাতের অমিয় সুধা পান করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রভাষক, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা