kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন

জন্ম ও শিক্ষা : বাংলাদেশের আল্লামা আহমদ শফী (আনুমানিক) ১৯২০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বরকত আলী ও মা মেহেরুন্নেছা। ১০ বছর বয়সে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীতে লেখাপড়া শুরু করেন। শৈশবেই মা-বাবা মারা যান। আনুমানিক ১৯৪১ সালে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হন এবং চার বছর অধ্যয়ন করেন। ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা আল্লামা সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর কাছে আধ্যাত্মিক দীক্ষা গ্রহণ করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন—মাওলানা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.), মাওলানা ইবরাহিম বলিয়াভি (রহ.), মাওলানা ফখরুল হাসান (রহ.), মাওলানা ইজাজ আলী (রহ.), মাওলানা জহিরুল হাসান (রহ.), মাওলানা জলিল আহমদ (রহ.) প্রমুখ।

 

পরিবার : স্ত্রী ফিরোজা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক জীবন গড়েন। দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ পাখিয়ারটিলার মাদরাসার পরিচালক। ছোট ছেলে মাওলানা আনাস হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক। মেয়েদের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে পাত্রস্থ করেছেন।

 

কর্মজীবন ও দ্বিনি আন্দোলন : আল্লামা আহমদ শফী ১৯৪৬ সালে দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৪০৭ হি./১৯৮৬ সালে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে শায়খুল হাদিসের দায়িত্বও তিনি পান।

২০০৮ সালে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে হাটহাজারী মাদরাসার এক সম্মেলনে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে দেশে নাস্তিক্যবাদী তৎপরতায় মুসলিম জনসাধারণের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেলে একটি খোলা চিঠি লিখে জাগরণ সৃষ্টি করেন আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)। ৬ এপ্রিল ২০১৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর কটূক্তিকারীদের বিচারের দাবিতে ঢাকায় বৃহত্তম সমাবেশ হয়। অতঃপর ৫ মে ঢাকাসহ পুরো দেশ অবরোধ করা হয়। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের (আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান ঘোষণা করেন।

 

 

রচনাবলি : হক্ব ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, ইসলামী অর্থব্যবস্থা, ইসলাম ও রাজনীতি, ইজহারে হাকিকত, মুসলমানকে কাফির বলার পরিণাম, সত্যের দিকে করুণ আহ্বান, ধূমপান কি আশীর্বাদ না অভিশাপ, একটি সন্দেহের অবসান, একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া, তাবলিগ একটি অন্যতম জিহাদ, ইছমতে আম্বিয়া ও মিয়ারে হক, সুন্নাত-বিদআতের সঠিক পরিচয়, বায়আতের হাকিকত, আল বয়ানুল ফাসিল বাইনাল হককে ওয়াল বাতিল, আল হুজাজুল ক্বাতিয়াহ লিদাফয়িন নাহজিল খাতেয়াহ, আল খায়রুল কাসির ফি উসুলিত তাফসির, ইসলাম ওয়া ছিয়াছত, তাকফিরে মুসলিম, চান্দ রাওয়েজাঁ, ফয়ুজাতে আহমদিয়া, সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফয়জুল জারি ও মিশকাতুল মাসাবিহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

 

সম্মাননা ও পুরস্কার : ১৯ আগস্ট ২০০১ সালে ওমরাহ পালনকালে হারামাইন শরিফাইনের মহাপরিচালক শায়খ সালেহ বিন আল হুমাইদ পবিত্র কাবার গিলাফের একটি অংশ উপহার প্রদান করেন। ২০০৫ সালে জাতীয় সিরাত কমিটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ ইসলামী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে সম্মাননা ও স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন তাঁকে নানা সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

 

তথ্যসূত্র : গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও প্রতিবেদন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা