kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

কোরআন-সুন্নাহর আলোকে গুরুত্বপূর্ণ দিন

মাওলানা হেলাল খান   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলামে কোনো রাত-দিন, সর্বোপরি কোনো মুহূর্ত অশুভ কিংবা অকল্যাণকর নয়। মানুষ যেকোনো সময়কে সঠিক কাজের মাধ্যমে ফলপ্রসূ করতে পারে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ তাআলা কিছু দিনকে তুলনামূলক বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু দিন নিয়ে যে দিনগুলোকে মহান আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

আশুরা : পৃথিবীর ইতিহাসে এই দিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, অন্যান্য আসমানি ধর্মেও এই দিনটি সম্মানিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিহার করো। সুতরাং তোমরা আশুরার আগে বা পরে আরো এক দিন রোজা রাখো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৫৪)

এ রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার অসিলায় আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

দুই ঈদের দিন : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় আসেন তখন মদিনাবাসীর দুটি উৎসবের দিবস ছিল। রাসুল (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কী হিসেবে তোমরা এ দুই দিন উৎসব পালন করো? তারা বলল, ইসলামপূর্ব যুগে আমরা এ দিন দুটিতে উৎসব পালন করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এ দুটি দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন, ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০০৬)

আরাফার দিন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আরাফার দিনের (৯ জিলহজ) রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবেন। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

আইয়ামে তাশরিক : আইয়ামে তাশরিক হলো ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন। আইয়ামে তাশরিক এবং তার আমল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৩)

এ আয়াতে ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর একবার তাকবিরে তাশরিক ওয়াজিব হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। (তাফসিরুল বাগাভি : ১/২৩৩, তাফসিরুল কুরতুবি : ৩/৪, বাদায়িউস সানায়ি : ১/১৯৬)

আইয়ামে বিজ : রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো তাহলে ১৩ তারিখ, ১৪ তারিখ ও ১৫ তারিখ রোজা রেখো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪৩৭)। এ রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, সংযমের মাস (রমজান) ও প্রতি মাসে তিন দিন সারা বছর রোজার সমতুল্য। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৫৭৭)

জিলহজের প্রথম ১০ দিন : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই...।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) জিলহজের ৯ দিন রোজা রাখতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৩৭)

জুমার দিন : পবিত্র কোরআনে সুরা জুমা নামে একটি আলাদা সুরাই অবতীর্ণ হয়েছে। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস নিম্নরূপ : রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। (ইবনে খুযাইমা, হাদিস : ১৭২৮)

সোম ও বৃহস্পতিবার : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি চাই যে আমার আমল পেশ করার মুহূর্তে যেন আমি রোজা অবস্থায় থাকি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৬৩৯)। আরেক হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৩৮)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপর্যুক্ত দিনগুলোর ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা