kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

এখন মাস্ক পরে নামাজ পড়া জায়েজ

রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করাতে শরিয়তের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় মাস্ক কিংবা অন্য কিছু দিয়ে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করা মাকরুহ আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬৫২ রদ্দুল মুহতার : ১/৬৫২

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখন মাস্ক পরে নামাজ পড়া জায়েজ

বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনাভাইরাস। এর প্রভাবে গোটা বিশ্ব থমকে গেছে। ঘরবন্দি হয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষ। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বের হলেও বের হচ্ছে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে। মসজিদগুলোতে আজান হলেও জামাতে নামাজির উপস্থিতি একদম কম। ইমাম মুয়াজ্জিন ও স্থানীয় গুটিকয়েক মানুষ পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে মসজিদ নামাজ আদায় করছেন। অনেকে আবার ঘরেই জামাত করে নামাজ পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে সতর্কতাবশত বেশির ভাগ মানুষ মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়ছেন। যেহেতু এর আগে মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি, তাই এভাবে কাউকে মুখে মাস্ক পরেও নামাজ পড়তে হয়নি। তাই বিভিন্ন মানুষের মনে এই প্রশ্নটি উঁকি দিচ্ছে যে মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়া যাবে কি না? এ নিয়ে আমাদের কাছে বহু ফোন এসেছে। তাই এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত একটি প্রবন্ধ লেখা জরুরি মনে করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষকে বাধ্য হয়ে মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এটা একটি শরয়ি ওজর।

তাই এই বিপদের মুহূর্তে (রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায়) মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করাতে শরিয়তের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬৫২, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৫২)। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় মাস্ক কিংবা অন্য কিছু দিয়ে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করা মাকরুহ। রাসুল (সা.) এভাবে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যেকোনো ব্যক্তিকে নামাজরত অবস্থায় তার মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯৬৬)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সময় কাপড় ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতে ও মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৬৪৩)

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হলেও, অসুস্থতা ও অপারগতার বিষয়টা ভিন্ন। ইসলাম কখনোই মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারো ওপর সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)।

যেহেতু করোনাভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা জানি না যে, আমরা নিজেরা আদৌ এই ভাইরাস থেকে মুক্ত আছি কি না? কিংবা যে মানুষটির সংস্রবে আমি যাচ্ছি তিনি এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্ত কি না? তাই আমাদের উচিত সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এবং এটাই ইসলামের শিক্ষা। তাই আমরা জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও 

অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করব। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মরণব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা