kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

হা দি সে র নি র্দে শ না

মানুষের ভাগ্য যেভাবে নির্ধারিত হয়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি সত্যায়নকৃত সত্যবাদী ছিলেন, তিনি আমাদের বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেক মানুষের সৃষ্টি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন শুক্ররূপে জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়, অতপঃর চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, তারপর চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। অতঃপর তার কাছে ফেরেশতা প্রেরিত হয়। তিনি (ফেরেশতা) তার ভেতর রুহ ফুঁকে দেন। তাঁকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, জীবিকা, বয়স, আমল ও তার সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২০৮)

আলোচ্য হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী মানুষের ভাগ্য তার জন্মের পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে যায়। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ভাগ্যে বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।

তাকদিরের চার স্তর

ভাগ্যে বিশ্বাসের মোট চারটি স্তর রয়েছে। যথা—

এক. জ্ঞান তথা এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১)

দুই. ভাগ্যলিখন তথা এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজে সব কিছুর ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় তা কিতাবে রয়েছে, নিশ্চয় তা আল্লাহর কাছে খুবই সহজ।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭০)

তিন. ইচ্ছা অর্থাৎ আসমান ও জমিনে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই হয় না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি সব কিছু তার পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা কামার, আয়াত : ৪৯)

চার. সৃষ্টি। তাহলো আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।’ (সুরা ফোরকান, আয়াত : ২)

তাকদির চার প্রকার

তাকদির বা পূর্বলেখনের স্তর চারটি। তাহলো,

১.   তাকদিরে আম : সব সৃষ্টির জন্য লাওহে মাহফুজে যে ভাগ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে তাকে তাকদিরে আম বা সাধারণ ভাগ্য বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি কি জানেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত, নিশ্চয়ই তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে, নিশ্চয়ই তা আল্লাহর কাছে খুবই সহজ।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭০)

২.   তাকদিরে উমুরি বা জীবনব্যাপী ভাগ্যলিপি : এ ধরনের তাকদির লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ তাকদির থেকে ভিন্ন। কেননা তাকদিরুল উমুরি পরিবর্তন হয়, এমনকি বিলুপ্তও হয়। আর যা লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ রয়েছে তা কখনই পরিবর্তিত হয় না। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যা চান বিলুপ্ত করেন এবং যা চান অবশিষ্ট রাখেন। তাঁর কাছে রয়েছে মূল কিতাব।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ৩৯)

     ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলতেন, ‘হে আল্লাহ! যদি আপনি আমাকে হতভাগ্য লিখে থাকেন তবে তা মুছে দেন এবং আমাকে ভাগ্যবান লিখে দেন।’ (কিসমুল হাদিস : ৫/১৩)

     মুহাদ্দিসদের মত হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফেরেশতাদের কাছে বিদ্যমান ভাগ্যলিপি।

৩.   তাকদিরে সানুবি বা বার্ষিক ভাগ্যলিপি : তা লাইলাতুল কদরে লিপিবদ্ধ করা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৪) 

৪.   দৈনন্দিন ভাগ্যলিপি : প্রতিদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জন্য যা দান করে থাকেন তাকেই দৈনন্দিন ভাগ্যলিপি বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি প্রত্যহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে রত।’ (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৯)

 

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিসি), বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা