kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

১৪টি কৃষক সংগঠন

জাতীয় বাজেটের ২০% কৃষির জন্য বরাদ্দের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় বাজেটের ২০% কৃষির জন্য বরাদ্দের দাবি

আসছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে কৃষির জন্য ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে ১৪টি কৃষক সংগঠন। তারা বলেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডাব্লিউটিওসহ এ ধরনের গোষ্ঠীর চাপে কৃষি ভর্তুকি কমানো হলে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন হুমকির মুখে পড়বে। আসছে বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি কমানো হলে সেটা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও অভিমত তাদের। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসছে বাজেটে সাতটি সুনির্দিষ্ট দাবি বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়।

কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইকুইটিবিডির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রীর সভাপতি সাজেদা বেগম এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের (জাই) সভাপতি জায়েদ ইকবাল খান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির।

সংবাদ সম্মেলনে যে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো বাজেটের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো, বাজেটে কৃষির জন্য ভর্তুকি বাড়ানো, ভর্তুকির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মূল্য কমিশন গঠন করা, ক্ষতিকর বিদেশি বীজ আমদানি বন্ধ, বিটি বেগুন, গোল্ডেন রাইসসহ বিতর্কিত জিএমও কৃষি প্রবর্তন বন্ধ করা, পাটের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া, কৃষিজমির অকৃষি খাতে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং কৃষক বাঁচাতে নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া।

মজিবুল হক মনির বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে, মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ নিয়োজিত এই খাতে। কিন্তু কৃষির প্রবৃদ্ধির হার নিয়মিতভাবেই নিম্নমুখী। ২০১০ সালে কৃষির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে এসে সেটা দাঁড়িয়েছে ২.৬ শতাংশে। নানা কারণে অকৃষি খাতে কৃষিজমির ব্যবহার বাড়ায় প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, দ্রুত নগরায়ণ ইত্যাদি নানা কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ভীষণ হুমকির মুখে পড়বে। এই অবস্থা মোকাবেলায় কৃষির জন্য বরাদ্দ যেখানে বাড়ানো দরকার, সেখানে প্রায় প্রতিবছর আনুপাতিক হারে কৃষির জন্য বরাদ্দ কমছে। বাজেটের আকার যে হারে বাড়ছে, সেই হারে বাড়ছে না কৃষির জন্য বরাদ্দ। ২০১৬-১৭ সালের বাজেটের আকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় বাড়ে প্রায় ২৯ শতাংশ, অথচ কৃষির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয় মাত্র ১৮.৫৪ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৪.২১ শতাংশ, অথচ বর্তমান অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ মাত্র ৪.০১ শতাংশ। মোট বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষির জন্য বরাদ্দ কমে গেছে ০.১৯ শতাংশ।

সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের ভর্তুকি বন্ধ করতে হবে। উদ্বৃত্ত উৎপাদন না হলেও বাংলাদেশের চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত ভয়ংকর ভুল। কারণ চালকে রপ্তানিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করলে সরকারকে ধান চাষের ক্ষেত্রে সব ভর্তুকি বা সহায়তা বন্ধ করে দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা