kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনা ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে একসঙ্গে

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৮ মিনিটে



করোনা ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে একসঙ্গে

দেশে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতি। তবে এর আগে থেকেই দেশের ১৩টি জেলায় রয়েছে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়ামুক্ত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার। করোনার প্রভাবে এই লক্ষ্যপূরণ অনেকটাই বিঘ্নিত। তবু কাজ থেমে নেই। কিন্তু কিভাবে চলছে এই কাজ আর লক্ষ্যপূরণে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার উপায় কী—এসব নিয়েই গত ২১ নভেম্বর কালের কণ্ঠ, জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ম্যালেরিয়ায় কোভিডের প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা। আলোচনার সারসংক্ষেপ নিয়ে আজকের এই বিশেষ আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন তানজিদ বসুনিয়া, শম্পা বিশ্বাসএ এস এম সাদ। ছবি : লুৎফর রহমান

 

সব সময় আমরা সচেতনতামূলক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি মানুষের কাছে

ইমদাদুল হক মিলন

সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা। এই লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ৫১টি জেলা থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু কোভিড মহামারির কারণে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সারা পৃথিবী এই মহামারিতে বিপর্যস্ত। তাই মানুষ নানা দিক থেকে এখন ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কোভিডের সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে আশঙ্কার কারণে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ঢেউ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার জন্য হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যদিও গত মার্চ মাসের পর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা ভালো। তাই করোনা মহামারির কারণে যে খাতে ক্ষতি হয়েছে অদূর ভবিষ্যতে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে একটি রাষ্ট্র কখনো একা এগোতে পারে না, সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—সব ধরনের অসাধ্য সাধন হয়েছে শুধু একতার বলে। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমাদের করোনা ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে; জয়ী হতে হবে।

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। সংবাদমাধ্যম হিসেবে সমাজের অসংগতির সঙ্গে সব সময় আমরা সচেতনতামূলক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি মানুষের কাছে। সে জন্যই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যখনই কোনো ভালো কাজে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আমরা তখনই তাদের স্বাগত জানাই এবং একসঙ্গে কাজ করি। বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা নিয়মিত গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এবার করোনার অতিমারির মধ্যেও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক এগিয়ে এসেছে, আমাদের সঙ্গে কাজ করছে মানুষকে সচেতন করার জন্য। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার জন্য। আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাব সামনের দিকে—সেটাই প্রত্যাশা।

 

ম্যালেরিয়া নির্মূলে আরো পরিকল্পনার দরকার আছে

অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম

সিলেট, ময়মনসিংহ, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ আমাদের দেশের যেসব স্থানে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি সেসব স্থানের সঙ্গে ভারতের মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরার সঙ্গে আমাদের সীমানা আছে। ফলে এসব এলাকায় আমাদের ম্যালেরিয়া নির্মূল করে আত্মসন্তুষ্টি লাভের কোনো সুযোগ নেই। আমরা ওই সব এলাকায় বর্তমান যে জেনেটিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ম্যালেরিয়া আছে সেগুলো হয়তো নির্মূল করতে পারব। কিন্তু ওই এলাকাগুলোতে যদি বর্ডার দিয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ম্যালেরিয়ার আগমন ঘটে সে ক্ষেত্রে কিন্তু ওই এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ অনেক কঠিন কাজ হয়ে যাবে এবং নতুন করে ফের কাজ করতে হবে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের নজর দেওয়ার দরকার আছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের উন্নয়ন সহযোগী যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে, তারা আমাদের সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এই জায়গায় সহায়তা করার একটি সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য আমাদের আলাদা একটি পরিকল্পনার দরকার আছে। করোনার ক্ষেত্রেও আমরা এ বিষয়টি খেয়াল করেছি; প্রথম দিকে আমাদের করোনা রোগীদের লক্ষণগুলো স্পষ্ট ছিল; কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা লক্ষণবিহীন করোনা রোগীও দেখতে পেলাম। যাদের লক্ষণ আছে তারা বেশি ভুগছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। গত সপ্তাহে আমরা এক স্টাডিতে দেখেছি, আমাদের যে ৩৯ জন করোনায় মারা গিয়েছিল তাদের মধ্যে ২৯ জনেরই ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন অথবা অন্য কোনো রোগ ছিল। করোনা কত দিন থাকবে তা আমরা জানি না। কাজেই করোনার জন্য আমাদের অন্য কার্যক্রমগুলো বন্ধ রাখলে চলবে না। করোনার জন্য গৃহীত কার্যক্রমগুলোর পাশাপাশি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমগুলো চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে, করোনা হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি, কিন্তু অন্য রোগগুলোতে মৃত্যুহার বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কমিউনিকেবল ও নন-কমিউনিকেবল ডিজিজগুলোর জন্য আমরা যেসব হাসপাতালে করোনা সেবা দিচ্ছি না সেখানে আমরা নন-কোভিড সার্ভিস দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য হয়েছি। ২০৩০ সালের মধ্যে যদি আমরা ম্যালেরিয়া নির্মূলে এসডিজি অর্জন করতে চাই তাহলে করোনার মধ্যে অন্য কার্যক্রমগুলো চালিয়ে যেতে হবে।

 

করোনার কারণে ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম পিছিয়ে পড়বে

অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ

বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য একটা কর্মকৌশল এরই মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যখন এই কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল তখন কোভিড-১৯ ছিল না। এখন এই অতিমারির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মকৌশলে আসলে কতটা প্রভাব পড়বে সেটাই প্রশ্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিনটি রোগের ওপরে মডেলিং করেছে। এগুলো হলো ম্যালেরিয়া, টিবি ও এইডস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই তিনটি রোগের ওপরে কোভিড-১৯-এর প্রভাব পড়বেই। ফলে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মকাণ্ড ২০২০ সালে যতটুকু হওয়ার কথা ছিল সেটা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ব। তবে কতটা? যদিও এতে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর হার বাড়বে; এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সন্দেহ প্রকাশ করেনি। ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে, বেশির ভাগ ম্যালেরিয়া হয় আফ্রিকাতে। আফ্রিকার বাইরে ম্যালেরিয়ার হার ১০ শতাংশের মতো। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ম্যালেরিয়া নির্মূলে বদ্ধপরিকর। দেশের ৫১টি জেলায় ম্যালেরিয়া নেই। তবে তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অংশবিশেষ এলাকায় আফ্রিকার মতো না হলেও বেশ ভালোই ম্যালেরিয়া আছে। যদিও ২০২০ সালে রোগীর সংখ্যা কম বলা হচ্ছে। এর কারণ কোভিডের কারণে রোগীরা আসতে পারেনি কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের কাছে যেতে পারেননি। এসব কারণে হয়তো রোগীর সংখ্যা কম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের ম্যালেরিয়া কমে গেছে। চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪ হাজার ৩৯৬ জনের মতো কোভিড রোগী এবং মৃত্যু হয়েছে ৯৪২ জনের। তবে তিন পার্বত্য জেলায় মোট রোগী হচ্ছে মাত্র দুই হাজার ৫৬৩ এবং মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২৪ জনের। কারণ সেখানে শুরু থেকেই কিছু ভালো প্র্যাকটিস ছিল। কিন্তু দুনিয়াজুড়ে ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে এখন যেটা সমস্যা সেটা হচ্ছে একদিকে তো ম্যালেরিয়া আছেই, তার সঙ্গে এখন আমাদের কোভিডকে অ্যাডপ করতে হচ্ছে। এগুলো কারা করবে? এটা করবেন আমাদের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফলে তাঁদের সুরক্ষার কথা আমাদের আগে ভাবতে হবে। বর্তমানে কোভিডকে বাদ দিয়ে ম্যালেরিয়ার চিন্তা করা যাবে না। কোভিডের উন্নয়ন না করে শুধু ম্যালেরিয়ার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই দুটো কাজ একসঙ্গে করতে হলে আমাদের একদিকে যেমন কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে, অন্যদিকে বহুকেন্দ্রিক সমন্বয় করতে হবে।

 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হচ্ছে ম্যালেরিয়ায়

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা

ম্যালেরিয়া এমন একটি অসুখ যাকে আমরা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এখন নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ (অবহেলিত উষ্ণপ্রধান রোগ) নামে জানি। ম্যালেরিয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আক্রান্ত করে বিধায় আমাদের নীতিনির্ধারকদের মনের ভেতরে ততটা আঘাত করতে পারে না যতটা শহর বা রাজধানীকেন্দ্রিক রোগগুলো করে থাকে। ম্যালেরিয়ায় এ বছর যে সাতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের ভার্বাল অটপসি দেখে এতটা বুঝতে পারলাম মৃতদের শুধু একজন বিদেশ থেকে এসেছে। বাকিরা সবাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর; কেউ শিশু অথবা কিশোর এবং তাদের অনেকেই শুধু করোনার কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসতে পারেনি। এবং যখন তারা আসার চেষ্টা করেছে তখন তাদের উপজেলা পর্যন্ত আসতে সাত-আট ঘণ্টা লেগেছে। বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন।

এ ধরনের অসুখের ক্ষেত্রে আমরা যখন পরিকল্পনা করি তখন কিছু বিষয় খুবই নেতিবাচকভাবে আমাদের কার্যক্রম প্রভাবিত করে। আমরা এখন শুধু করোনা অতিমারির কথা বলছি। কিন্তু এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যেকোনো ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মহামারি—এগুলোর প্রতিটিই আমাদের কার্যক্রমকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত (ম্যালেরিয়া) কেস বাড়ল, আমরা কী কারণ দেখলাম? যে সেই সময়ে ওই (পার্বত্য) এলাকায় একটি বিশাল সামাজিক অস্থিরতা চলছিল। এ ছাড়া ওই সময়ে বন্যা, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যা আমাদের কার্যক্রমের গতি একেবারেই কমিয়ে দেয়। কিন্তু এর সব কিছুই (নিয়ন্ত্রণ) যে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আছে তা নয়। খুব অল্পসংখ্যক চ্যালেঞ্জই আছে যেগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আছে।

 

একসময় আমরা ম্যালেরিয়া নির্মূলের কথাটা চিন্তাও করতাম না

অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ

২০১১ সালে আমি যখন ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হিসেবে যোগদান করি তখন আসলে ‘ম্যালেরিয়া নির্মূল’ এই কথাটা চিন্তাও করা যেত না।  আগে বাংলাদেশের সব জেলায় ম্যালেরিয়া ছিল এবং সেখান থেকে কমতে কমতে ১৩টি জেলায় এসে থামল। তখন আমরা চিন্তা করলাম তাহলে বাকি ১৩টি জেলা থেকে কেন ম্যালেরিয়া নির্মূল করা যাবে না? এরপর আমরা এটা নিয়ে দিনের পর দিন বিশ্লেষণ করা শুরু করলাম।

ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে আট-দশটা পাড়ায় ম্যালেরিয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যে পাড়াগুলোকে ‘হট স্পট’ বলে। আমরা তখন ‘হট স্পট’ নামে একটা কার্যক্রম শুরু করি। এ ক্ষেত্রে আমরা দুটি বিষয়ের ওপর ফোকাস করি। একটা হলো এপিডেমিওলজি এবং আরেকটা হলো এনটোমোলজি। এপিডেমিওলজি হলো, ওখানে যত মানুষ আছে তাদের মধ্যে কেউ ওই মুহূর্তে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত কি না। আর এনটোমোলজি হলো, বাহক মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কার্যক্রম। ফলে আগের বছর যেখানে একটা পাড়ায় ২৮-৩০টা ম্যালেরিয়ার রোগী ছিল, পরের বছর সেখানে রোগী কমে শূন্য হয়েছে বা একটা-দুটো হয়েছে। এটা খুবই প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটনা। এই সাফল্যের পর আমরা শুধু মানুষবিহীন বর্ডার অংশটুকু ছেড়ে দিলাম, কিন্তু যেখানে মানুষ বাস করে সেখানে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলাম। তাই আমরা যদি ছোট জায়গা ধরে এগিয়ে যাই তাহলেই সমস্যার সমাধান করতে পারব।

 

মহামারির মধ্যেও আমাদের কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছেন

ড. মো. আকরামুল ইসলাম

অতিমারির শুরু থেকেই ব্র্যাক ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সব ধরনের কাজ করে আসছে। বিশেষ করে করোনা প্রকোপেও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবিকাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে গিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক। ফলে ভবিষ্যতে করোনার মতো দুর্যোগ এলেও জনজীবন যাতে স্থবির না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় মহামারি মোকাবেলা করতে হবে। ব্র্যাক ১৯৯৮ সাল থেকে ম্যালেরিয়া নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এখন গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করা জরুরি। এর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও জানতে পারবে। গণমানুষের কাছে এই প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পৌঁছে কালের কণ্ঠ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

 

উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ ইউনিয়নগুলোতে আমাদের ফোকাস করতে হবে

ড. কবিরুল বাশার

২০১৯ ও ২০২০ সালের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখতে পাই যে ২০২০ সালে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে। এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে সরকারকে কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণের পাশাপাশি মশক নিধনের আরো কর্মসূচি নিতে হবে। এখানে ম্যালেরিয়াসংক্রান্ত বাংলাদেশের ম্যাপে আমাদের কয়েকটি ইউনিয়নে ম্যালেরিয়ার কেস আমরা সবচেয়ে বেশি দেখি। এই ইউনিয়নগুলো আমাদের ফোকাস করতে হবে। এই ইউনিয়নগুলোর যেসব মানুষ বনে যান, কাঠ বা জুমের কাজ করতে যান, তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। বাংলাদেশে কোন মশার ইনফেকশন রেট কত তা আমরা এখনো জানি না। প্লাজমোডিয়ামে কোন স্পেসিসটি কী পরিমাণে ছড়াচ্ছে? ডেনসিটি সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। একটি মশার ভেক্টোরিয়াল ক্যাপাসিটি কী রকম সে সম্পর্কেও আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এটি নিয়ে আমাদের একটি ম্যাপিং দরকার। সেই ম্যাপিংয়ের সঙ্গে ডিজিজ ডাটার কো-রিলেশন করতে পারি, তখন কিন্তু আমরা এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আরেকটি বিষয় হলো, এখন ইনফেকশন রেট বা স্পোরোজয়েট রেট বের করতে হবে। এই স্পিসিসগুলোর কার স্পোরোজয়েট রেট কেমন সেটি যদি আমরা বের করতে পারি তাহলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। যারা বনে যাচ্ছে, আক্রান্ত বেশি হচ্ছে, তাদের যদি আমরা সুরক্ষা সামগ্রী দিতে পারি তাহলে তাদের মধ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ অনেকটা কমানো সম্ভব।

 

সবাই চিন্তা করে রোগ কমে এসেছে ফান্ডিং হয়তো কম লাগবে

ডা. মো. জহিরুল করিম

কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন বেইসড টেস্ট আরো বেশি করতে পারতাম তাহলে কোভিড রোগী শনাক্ত আরো সহজ হতো। ম্যালেরিয়ার নির্মূলের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশন প্ল্যানে টেস্টিংয়ের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ম্যালেরিয়া কন্ট্রোল থেকে এলিমিনেশন কাজ করতে পৃথিবীর সব জায়গায় একটু সমস্যা হয়। দাতা সংস্থা, সরকার সবাই চিন্তা করে যে রোগ তো কমে এসেছে, তাহলে ফান্ডিং হয়তো কম লাগবে। এটা কিন্তু অনেক সময়ই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সমস্যাগুলো হলো, যেসব জায়গায় মানবসম্পদ যেভাবে কাজ করেছে, সেটাকে যদি সরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে অনেক সময় সেটা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য যেখান থেকে এনজিওকর্মীকে উইথড্র করা হবে, সেখানে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাল্টিপারপাস ভলান্টিয়ারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ম্যালেরিয়াসেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত করবে। এটা একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। কোভিড পরিস্থিতিকে মূল ধরে বাকি সমস্যার সমাধানে কাজ করার জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আমরা সেভাবেই কাজ করছি। তবে ম্যালেরিয়া নির্মূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বর্ডার এলাকা। সেই বর্ডার এলাকাগুলোতে আর্মড ফোর্সেস বাহিনীর সঙ্গে অথবা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কিভাবে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা যায় তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। যদিও এই অতিমারির সময়টা আমাদের জন্য একটু ক্রান্তিকালীন, তবু ম্যালেরিয়া নির্মূলে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

 

ম্যালেরিয়ার জেনেটিক ডাইভারসিটি নিয়ে আমাদের কাজ চলছে

ডা. রাশিদুল হক

আইসিডিডিআরবি ম্যালেরিয়া নিয়ে খুব বেশিদিন কাজ করে না। তবে যখন গ্লোবাল ফান্ডের কার্যক্রম শুরু হলো বাংলাদেশে, তখন ব্র্যাকের সঙ্গে আমরা কিছু কাজ করেছি। ২০০৭ সালে আমরা ব্র্যাকের সঙ্গে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়া প্রিভিলেন্স সার্ভে করেছি এবং সেখানে আমরা ৪০ হাজার ম্যালেরিয়া প্রিভিলেন্স পেয়েছিলাম। এরপর ২০১৩ সালে আমরা ব্র্যাকের সঙ্গে একটি ফলোআপ সার্ভে করি। সেই সার্ভেতে আমরা ম্যালেরিয়া প্রিভিলেন্স পেয়েছিলাম হাজারে দুজন। ২০০৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এটা ছিল ম্যালেরিয়ার ঘটনাচিত্রের ছবি। ২০১৪-১৫ সালে এটি একটু বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা বর্তমানে ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টিবি, এইচআইভি এবং অন্যান্য রোগ নিয়েও কাজ করছি। এ ছাড়া ম্যালেরিয়া ও কোভিডের প্রভাব নিয়ে আমরা বান্দরবানে ছোট একটি সার্ভে করছি। মূলত বান্দরবানে ম্যালেরিয়া ও কোভিড প্রিভিলেন্স একসঙ্গে আছে কি না বা সেখানে এর অবস্থা কেমন এটি নিয়েই এই সার্ভে। এটি ছোট আকারের একটি মৌলিক কাজ এবং এ বছরেই এর কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া ম্যালেরিয়ার জেনেটিক ডাইভারসিটি সম্পর্কেও আমাদের অনেক প্রজেক্ট হচ্ছে, যেটা খুবই দরকারি।

দিন দিন আমাদের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রগ্রাম খুবই জোরালো হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলে আমরা রোল মডেল হব।

 

ঢাকায় ম্যালেরিয়া নেই কিন্তু করোনা সবচেয়ে বেশি

ডা. মিয়া সেপাল

আমরা যেহেতু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি, সেহেতু জাতীয় অনেক প্রকল্পে আমরা খুবই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে থাকি এবং যেকোনো ধরনের কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে আমরা দিয়ে থাকি। ম্যালেরিয়ায় করোনার প্রভাব নিয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি বিশ্লেষণ করেছিলাম, তবে সেটি ছিল ছোট পরিসরে। কিন্তু আমরা ইন-ডেপথ বিশ্লেষণে এখনো যাইনি। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ঢাকায় বেশি নয়। সে ক্ষেত্রে এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই কাজ করতে পারি। একই সঙ্গে আমাদের অন্য বিষয়গুলোর ওপরও খেয়াল রাখতে হবে। কিছুদিন আগে আমরা খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে স্বল্প সংখ্যক অফিসারকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। এটি খুবই ইন্টারেক্টিভ একটি সেশন ছিল। ক্ষুদ্র পরিসরের এই আয়োজনে আমরা ম্যালেরিয়া ও করোনার প্রভাব নিয়ে কিছু বিষয় এবং টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েও আলোকপাত করেছিলাম। সত্যি বলতে করোনা ও ম্যালেরিয়ার প্রভাব থেকে বাঁচতে কমিউনিটির সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। আমরা কিভাবে প্রান্তিক কমিউনিটির কাছে এসংক্রান্ত সচেতনতামূলক বার্তাগুলো সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারি, সেটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

 

পার্বত্য অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে

ডা. শায়লা ইসলাম

ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য ব্র্যাক ২০০৭ সাল থেকেই সরকারের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে হলে আমাদের তিন ধরনের এলাকাভিত্তিক কাজ করতে হবে। প্রথমেই ২০২৩ সালের মধ্যে ৫১ জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এই অঞ্চলের ম্যালেরিয়ার রিপোর্টিং সিস্টেম আরো জোরদার করতে হবে। নিম্ন ম্যালেরিয়াপ্রবণ ১০টি জেলায় শনাক্তকৃত ম্যালেরিয়া রোগীকে ঘিরে সেবার মান বাড়াতে হবে। উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা) যেখানে দেশের মোট রোগীর শতকরা ৯৫ ভাগ রোগী শনাক্ত হচ্ছে, সেখানে ম্যালেরিয়া কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এই তিনটি জেলার ছয় থেকে সাতটি উপজেলা ও কিছু ইউনিয়ন (রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলা; বান্দরবানের আলীকদম, লামা ও থানচি উপজেলা) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ম্যালেরিয়া সেবা পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। তাই এই এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের জন্য ম্যালেরিয়া সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার জন্য ব্র্যাক কর্তৃক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 

২০২৩ সালের মধ্যে ৫১টি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হবে

ডা. আফসানা আলমগীর খান

করোনার প্রাদুর্ভাবে ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব অঞ্চল ম্যালেরিয়ামুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা। ফলে বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০২১-২৫ সালে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনাই হচ্ছে পর্যায়ক্রমে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা। ২০২৩ সালের মধ্যে ৫১টি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া এসব অঞ্চলে যেন আবারও ম্যালেরিয়া না আসে সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। সাধারণত গবেষণা থেকে দেখা গেছে, পাহাড়ি অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে ম্যালেরিয়া নির্মুল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে রোগীর হার প্রতি হাজারে ১-এর নিচে নামিয়ে এনে ২০২৫ সালের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করার প্রত্যয়ে সরকার ও সহযোগী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এটি আমাদের জাতীয় প্রতিজ্ঞা।

 

সঞ্চালক

ইমদাদুল হক মিলন

সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

 

যাঁরা অংশ নিয়েছেন

অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম

মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 

অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ

ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মহাপরিচালক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা

সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 

অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ

ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পরিচালক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 

ড. মো. আকরামুল ইসলাম

পরিচালক, কমিউনিকেবল ডিজিজেস ও

ওয়াশ কর্মসূচি, ব্র্যাক

 

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার

কীটতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

ডা. মো. জহিরুল করিম

ডেপুটি ডিরেক্টর, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 

ডা. রাশিদুল হক

সিনিয়র সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড হেড, প্যারাসাইটোলজি বিভাগ, আইসিডিডিআরবি

 

ডা. মিয়া সেপাল

মেডিক্যাল অফিসার, কমিউনিকেবল ডিজিজেস সার্ভেইল্যান্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ

 

ডা. শায়লা ইসলাম

কর্মসূচি প্রধান, কমিউনিকেবল ডিজিজেস (ম্যালেরিয়া), ব্র্যাক

 

প্রবন্ধ উপস্থাপক

ডা. আফসানা আলমগীর খান

ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার, জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মন্তব্য