জামায়াতে ইসলামীর মতে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঘোষিত প্রথম বাজেটে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের প্রত্যয় প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হয়নি। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেট আগের ধারাবাহিকতায় একটি গতানুগতিক বাজেটই থেকে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের সঙ্গে এর বড় কোনো পার্থক্য নেই।
দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এবারের বাজেটে ব্যয় তুলনামূলকভাবে না বাড়লেও তেমন কোনো ব্যয় হ্রাসও হয়নি।
এতে নতুনত্বের ছোঁয়া নেই।
মাওলানা এ টি এম মা’ছুম বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরেও এর কাছাকাছি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। ফলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এ ছাড়া রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে। তবে বাজেটে বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, পরোক্ষ কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
ফলে সাধারণ জনগণের ওপর পরোক্ষ করের ভার আরো বাড়বে।
ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে বড় পরিবর্তন আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের কর অবকাশ ও ভ্যাট অব্যাহতি সংকুচিত করায় দেশীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। পাশাপাশি এসি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন ও এলইডির দাম বাড়বে, যা ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
সুতার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং এতে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাজেটে শিক্ষা উপকরণের দাম কমানো হলেও শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন ওষুধ, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম হ্রাস করাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি। কোল্ড স্টোরেজের খরচ কমানোয় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুদ্রাস্ফীতি ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যের কথা বলা হলেও বাজেটে এর জন্য কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বাজেটে দেখা যায়নি। বরং বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আরো বাড়ানো হয়েছে, যা দলটি সমর্থনযোগ্য মনে করে না।