kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঘুষ লেনদেন, দরপত্র বাতিলের সুপারিশ

তৈমুর ফারুক তুষার   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুষ লেনদেন, দরপত্র বাতিলের সুপারিশ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে একটি প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এই নিয়োগের প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি।

মোট ৪১২ জনবল সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ওই কাজের জন্য নির্বাচিত হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে এই কাজ প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে নিয়েছে তার একাধিক অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। রেকর্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছিলেন, কেউ ৩০ লাখ, কেউ ২০ লাখ, কেউ ১০ লাখ টাকা দিয়ে কাজগুলো পেয়েছেন। অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা সরাসরি টাকা নিয়েছেন বলে আলাপে উঠে আসে।    

দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ২ জুন। এতে পাঁচ লটে জনবল সরবরাহের কথা বলা হয়। প্রথম লটে ৭৪, দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে ৭৩ জন করে, চতুর্থ ও পঞ্চম লটে ৯৬ জন করে জনবল চাওয়া হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গত মাসে এর জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে। প্রথম লটের কাজের জন্য নির্বাচিত হয় ধলেশ্বরী সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ক্লিনিং সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড। দ্বিতীয় লট পিমা অ্যাসোসিয়েটস, তৃতীয় লট একুশে সিকিউরিটিজ লিমিটেড, চতুর্থ লট র‌্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড এবং পঞ্চম লটের জন্য এস্টেট সিকিউরিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড নির্বাচিত হয়। তৃতীয় ও পঞ্চম কম্পানির মালিকরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। স্বামী মিজানুর রহমান এস্টেট সিকিউরিটিজ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং স্ত্রী লামিয়া আক্তার একুশে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

কম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প পরিচালককে পৃথক চিঠি দিয়েছে দরপত্রে অংশ নেওয়া আরেক প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড। অর্থ প্রাইভেট লিমিটেড ও ফেনী রেন্ট-আ-কার নামের দুটি কম্পানির পক্ষ থেকেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টের মাঝামাঝিতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ কমিটির সদস্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোশতাক জহির এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল মালেক। তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের কাছে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন অভিযোগকারীরা। কমিটি এগুলো পর্যালোচনা করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তা জানা যায়নি।  

তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশ, অনৈতিক বোঝাপড়া ও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে প্রকল্পে জনবল নিয়োগের দরপত্রপ্রক্রিয়া বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা যেতে পারে।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোশতাক জহির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে তা রিপোর্ট আকারে জমা দিয়েছি। ’

 



সাতদিনের সেরা