kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘চোখ ওঠা’ রোগের ওষুধসংকট

শিমুল মাহমুদ   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘চোখ ওঠা’ রোগের ওষুধসংকট

রাজধানীসহ সারা দেশে চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) রোগের প্রকোপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজারে এ রোগের ওষুধের সংকট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা।

গতকাল রবিবার ঢাকার শাহবাগ, ঢাকা মেডিক্যাল সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুর ও মিটফোর্ড এলাকার ওষুধের দোকানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ এ রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীর পলাশী এলাকার বাসিন্দা বীথি রহমান। তিন দিন ধরে চোখ ওঠার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পর ব্যবস্থাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ লিখে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরামর্শ দেওয়া কালো চশমা ব্যবহারের। বীথি সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকার ১২টি ওষুধের দোকান ঘুরেও ওই ড্রপ খুঁজে না পেয়ে খালি হাতে বাসায় ফেরেন। গতকাল শাহবাগ বিপণিবিতানে ওই ওষুধের খোঁজে এসে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, এখানেও সাতটি দোকান ঘুরে ব্যর্থ হতে হয়েছে তাঁকে।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কর্নিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে জানান, চোখে ভাইরাল ইনফেকশন হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ওষুধ হাতের কাছে পাচ্ছে না রোগীরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওষুধের দোকান ‘মেডিসিন প্লাস’ থেকে জানানো হয়, গত শনিবার তারা কম্পানির কাছ থেকে পাঁচটি অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ পেয়েছিল। গতকাল পেয়েছে মাত্র একটি। চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু কম্পানিগুলোর কাছে এ ওষুধ কম থাকায় দিতে পারছে না।

ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরে এক মাস এ ওষুধের চাহিদা থাকে। তা-ও বেশ কম। এ ছাড়া বছরের যে সময়টায় এ রোগ বেশি হয়, তখন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলো থেকে এই ড্রপ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। ফলে কম্পানিগুলো উৎপাদন কম করে। কিন্তু এবার হঠাৎ করে সারা দেশে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। কম্পানিগুলো পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘বাজারে এসব ওষুধের সরবরাহ কম থাকার কথা নয়। যদি এমনটা হয়ে থাকে আমরা কম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করব। আর যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বেশি নিয়ে থাকে, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। ’

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক নূপুর দেব জানান, নগরে প্রায় ঘরে ঘরে চোখ ওঠা সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা যেসব ড্রপ বেশি দিচ্ছেন, তা বাজারে সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধের দোকান থেকে বলছে, ১৫-২০ দিন ধরে ওই আই ড্রপগুলোর সরবরাহ কম।

সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ইয়াহইয়া ফজল জানান, নগরের ওষুধের দোকানগুলোতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চোখের ড্রপ সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, রিকাবীবাজার, স্টেডিয়াম মার্কেট, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো ওষুধের দোকানে এক সপ্তাহ আগে, কোনোটিতে পাঁচ দিন আগে চোখের ড্রপ শেষ হয়ে গেছে। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, হঠাৎ করে চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি মাখলেছুর রহমান মনির জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকান থেকে জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ যাবৎ চোখ ওঠা রোগীর জন্য জীবাণুনাশক ড্রপের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসানুল হোসাইন বলেন, হঠাৎ দেশজুড়ে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় হয়তো কম্পানিগুলো এই ড্রপ সরবরাহ করতে পারছে না।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি শামস শামীম জানান, সুনামগঞ্জের প্রায় ঘরে ঘরে এখন চোখ ওঠা রোগী। চিকিৎসকরা অ্যান্ট্রিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও ফার্মেসিতে তা মিলছে না। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ও শিশু চিকিৎসক ডা. সৈকত দাস বলেন, ‘প্রতিদিনই শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ চোখ ওঠা রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। সচেতনতার চেয়ে তাদের মধ্যে এই রোগ নিয়ে আতঙ্ক বেশি। আমরা তাদের পরামর্শ ও চিকিৎসা দিচ্ছি। ’

বরগুনা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান জানান, শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ চোখের প্রদাহ বা চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে চোখের চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়ছে রোগীরা। অনেকেই ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বাইরের ফার্মেসি থেকে ড্রপ কিনে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ফার্মেসিগুলো তাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

 



সাতদিনের সেরা