kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পথিকৃৎ সাংবাদিক তোয়াব খানের বিদায়

কাল বনানী কবরস্থানে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পথিকৃৎ সাংবাদিক তোয়াব খানের বিদায়

২৪ এপ্রিল ১৯৩৪—১ অক্টোবর ২০২২

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই। গতকাল শনিবার দুপরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তোয়াব খানের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক হিসেবে সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ছিল তোয়াব খানের। ২০১৬ সালে একুশে পদক পান। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয় ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল দুপুরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির বাচ্চু গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রবিবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছবেন। এরপর তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলার কার্যালয়ে নেওয়া হবে। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় বিশিষ্টজনের পাশাপাশি সর্বসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে।

সোমবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তোয়াব খানের মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হবে এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানে মরহুমের নিজের বাড়িতে। আসরের নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কর্মময় জীবন

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতায় সাংবাদিকতায় হাতেখড়ির পর ১৯৫৫ সালে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে তিনি দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। এরপর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান নাম বদলে হয় দৈনিক বাংলা। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেসসচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন তোয়াব খান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তাঁর আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচারিত হতো ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দৈনিক জনকণ্ঠের শুরু থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। এরপর নতুন আঙ্গিক ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোয়াব খান ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতাজগতের পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যমজগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। ’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। আজীবন সংগ্রামী এ গুণী সাংবাদিক তাঁর কর্মের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ’

আরো শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন।



সাতদিনের সেরা