kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাশিয়ার গম ক্রয়

আদালতে যেতে চায় বিএনপি

হাসান শিপলু   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতে যেতে চায় বিএনপি

রাশিয়া থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে গম কেনা এবং এর সঙ্গে তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় গলদ দেখছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই গম কেনার প্রক্রিয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে দলটি।

একই সঙ্গে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করতে পুলিশ যে তৎপরতা চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সভায় চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের ১০ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে আন্দোলন জোরদার করতে দলের সব পর্যায়ে যেসব নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, দরপত্র না দিয়ে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে গম কিনছে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত করা হয়েছে তৃতীয় পক্ষকে। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) গম কেনার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষে যুক্ত করার বিধান নেই। কমিশন ভাগাভাগি করতেই এই প্রক্রিয়ায় গম কেনা হচ্ছে বলে মনে করছে কমিটি। এর জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং ক্রয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) চিঠি দেবে দলটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেন, হয়তো এই পদক্ষেপে এখন কিছুই হবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ রেফারেন্স হিসেবে কাজে দেবে।

গতকাল রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও রাশিয়া থেকে গম আমদানির বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন। এর আগে এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে গম আমদানির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থপরিপন্থী। এর মাধ্যমে সরকারের কৃচ্ছ্রতাসাধনের নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে।

নেতাকর্মীদের হয়রানির প্রতিবাদে আদালতে যাবে বিএনপি

রাজধানীসহ সারা দেশের পাড়া-মহল্লার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের তালিকা তৈরি করতে পুলিশি তৎপরতার বিরুদ্ধে আদালতে যাবে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলন দমাতে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটি জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১০ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে চার কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরের আন্দোলনের নির্ধারিত সূচি শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। বিশেষ কারণে ডেমরা ও পল্লবী জোনের সমাবেশ হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করবে তারা। আগামী ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশের মাধ্যমে দুই মাসের কর্মসূচি শুরু হবে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করে বিভাগীয় কর্মসূচি শেষ করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, জনসম্পৃক্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। নতুন কর্মসূচি আজ সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।

নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে বিশেষ দিবস

আন্দোলনে যেসব নেতাকর্মী নিহত হচ্ছেন তাঁদের স্মরণে বিশেষ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, চলমান আন্দোলনে দলের জন্য যাঁরা নিহত হচ্ছেন তাঁদের অবদান তুলে ধরতে বছরে একটি দিন নির্ধারণ করা দরকার।

 

 

 



সাতদিনের সেরা